মাটিচাপা কন্যাশিশু, পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে আহত ৩০, ডিসি-এসপির গাড়ি ভাঙচুর

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ভুট্টাক্ষেত থেকে মাটিচাপা দেওয়া এক কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আটক প্রধান সন্দেহভাজনকে স্থানীয় জনতা নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত নন্দিনী রানী স্থানীয় কৃষক নলনী বর্মণের মেয়ে এবং ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার বিকেল থেকে নন্দিনী নিখোঁজ ছিল। মঙ্গলবার সকালে গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেতে মাটিচাপা ও বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।
প্রাথমিক তদন্তে আদিতমারী থানার পুলিশ শিশুটির পারিবারিক সম্পর্কের চাচা বিধানকে (১৯) প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে। ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করা হলে উত্তেজিত এলাকাবাসী পথ রোধ করে তাকে পুলিশের কাছ থেকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়।
জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। তবে অভিযুক্তকে নিয়ে ফিরে আসার সময় প্রশাসনের গাড়িবহর লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে জনতা।
এ সময় জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও ইউএনওর ব্যবহৃত সরকারি গাড়িসহ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা এবং অন্যান্য ব্যক্তিসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
জনতার হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান বলেন, শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর আইনগত ব্যবস্থা নিতে গিয়ে পুলিশ বাধার মুখে পড়ে। অভিযুক্তকে নিয়ে ফেরার সময় অতর্কিত হামলার মুখে পড়ে প্রশাসন।
পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, পুলিশের গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পৃথক মামলা করা হবে। হামলায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
এসপি জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের।
(ঢাকাটাইমস/১৬জুন/মোআ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































