বিয়ে-গায়েহলুদে অপচয় রোধে অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকরের আহ্বান

বিয়ে ও গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জাঁকজমক ও অপচয় বন্ধে অতীতে প্রচলিত অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন লক্ষীপুর-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে শাহাদাত হোসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মিতব্যয়িতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী অপচয় পছন্দ করেন না এবং ব্যক্তিগত জীবনেও অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপন করেন।
বিয়ে ও গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত ব্যয়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমানে এসব অনুষ্ঠানে কয়েক দিন ধরে কোরিওগ্রাফার দিয়ে নাচ-গানের আয়োজন করা হচ্ছে, যা ধর্মীয় অনুশাসনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি বলেন, “অতীতে যে অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইন ছিল, সেটি কার্যকর করা গেলে এবং আমরা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চললে মুদ্রাস্ফীতির চাপও কমে আসবে।”
শাহাদাত হোসেন বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব, ব্যয় বৃদ্ধি ও দুর্নীতির কারণে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ অপচয় হয়েছে। প্রকল্প প্রণয়নের সময় সঠিক ব্যয় নির্ধারণ, অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ এবং নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর বিএনপির সরকার গঠনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও অর্থমন্ত্রী এমন একটি বাজেট উপস্থাপন করেছেন, যেখানে সমালোচনার সুযোগ খুবই সীমিত।
বন্দর ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে শাহাদাত হোসেন বলেন, বেসরকারি টার্মিনাল পরিচালনার জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।
প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ রাষ্ট্রীয় প্রণোদনার দাবিও জানান এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, যারা কর্মজীবনে ব্যবসা, পেশা বা কর প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে অবদান রেখেছেন, ৬৫ বছর বয়সের পর তাদের জন্য ব্যাংক, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা ও সম্মান নিশ্চিত করা উচিত।
নিজ নির্বাচনী এলাকা লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের উন্নয়নের দাবিও তুলে ধরেন শাহাদাত হোসেন। তিনি রামগঞ্জে একটি ওভারহেড পানির ট্যাংক নির্মাণ, হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ-লক্ষ্মীপুর-চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত রেলপথ স্থাপন, গরিপুর থেকে হাজীগঞ্জ পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণ এবং স্থানীয় হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি জানান।
(ঢাকাটাইমস/২৩ জুন/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































