আজ থেকে বাধ্যতামূলক বাংলা কিউআর: যেভাবে নেবেন, কী কী কাগজপত্র লাগবে

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০১ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৯
অ- অ+

ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও সর্বজনীন করতে বাংলাদেশ ব্যাংক আজ বুধবার (১ জুলাই) থেকে বাংলা কিউআর (কুইক রেসপন্স) কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। নগদবিহীন (ক্যাশলেস) এ ব্যবস্থা আরও সহজ ও স্বচ্ছ করবে লেনদেন। এদিকে, বাংলা কিউআর বাস্তবায়ন করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংকসমূহ।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বচ্ছ করতে ‘বাংলা কিউআরকে একটি অভিন্ন ডিজিটাল লেনদেন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজ থেকে সারাদেশে বাংলা কিউআর ব্যবহার বাধ্যতামূলক ঘোষণা করা হয়েছে।

এর ফলে শপিং মল থেকে শুরু করে ফুটপাতের ব্যবসায়ী পর্যন্ত সর্বত্র একটি অভিন্ন কিউআর কোড ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বাংলা কিউআরের সবচেয়ে বড় শক্তি এর সর্বজনীনতা ও কম খরচ।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রচলিত কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট গ্রহণে যেখানে ব্যয়বহুল পয়েন্ট অব সেল (সিএস) মেশিনের প্রয়োজন হয়, সেখানে বাংলা কিউআর ব্যবহারে একটি সাধারণ কিউআর স্টিকারই যথেষ্ট হবে। ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ফুটপাতের দোকানদার কিংবা বিভিন্ন সেবাদাতাও সহজে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বাংলা কিউআর একটি নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা। এতে কার্ড ক্লোনিং বা পিন চুরির মতো ঝুঁকি নেই। গ্রাহকের ব্যাংক বা মোবাইল ওয়ালেট অ্যাপ থেকেই সরাসরি লেনদেন সম্পন্ন হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনেক আগে থেকেই বাংলা কিউআর চালু করেছে। আগামীকাল থেকে বাধ্যতামূলক বলতে বোঝাচ্ছে- আপনি যখন বাজারে কেনাকাটা শেষে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে পেমেন্ট করতে চাচ্ছেন, তখন দেখলেন দোকানে বিকাশের কিউআর কোড আছে অথচ আপনার পকেট আছে রকেটের অ্যাকাউন্ট। এখন এটা থাকা চলবে না। বিকাশ, নগদসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সকল কিউআরকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করতে হবে। বাংলা কিউআর স্ক্যান করে আপনি বিকাশ, নগদ, ব্যাংকসহ যেকোনো মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারবেন।’

বিকাশের করপোরেট কমিউনিকেশন্সের প্রধান শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম বলেন, ‘দেশের সকল মার্চেন্ট পয়েন্ট অভিন্ন বাংলা কিউআর রূপান্তরের ফলে ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম আরও বিস্তৃত ও সমৃদ্ধ হবে। ফলে, ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরা দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্চেন্ট পয়েন্টগুলোতে কিউআর স্ক্যান করে দ্রুত ও ঝামেলাহীনভাবেই ক্যাশবিহীন লেনদেন করতে পারবেন। পাশাপাশি, গ্রাহকরা ভাংতি ও ক্যাশ বহনের ঝুঁকি এড়াতে পারবেন, মার্চেন্টদের পেমেন্ট গ্রহণ ও তাদের আর্থিক ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও কার্যকরী হবে।’

বিকাশের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্যাশলেস লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের যাত্রাপথে সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ের মধ্যেই দেশের সকল মার্চেন্ট পয়েন্টে বাংলা কিউআর প্রচলন করতে বিকাশ বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে কিউআর প্রতিস্থাপনের কাজ পুরোদমে চলছে। ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমকে আরও সমৃদ্ধ এবং জনপ্রিয় করতে বিকাশ অনেক আগে থেকেই কিউআর পেমেন্ট নিয়ে কাজ করছে। অতীতের ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতেও ক্যাশলেস সমাজ গড়ার সরকারি উদ্যোগে সক্রিয় অংশীদার হিসেবে কাজ করবে বিকাশ।’

এনআরবিসি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, বাংলা কিউআরের দুইটা ভাগ আছে, একটা অধিগ্রহণ (অ্যাকোয়ারিং) আরেকটা সরবরাহ করা (ইস্যুয়িং)। সরবরাহ করা (ইস্যুয়িং) মানে ক্রেতা যাতে ক্রয় করতে পারে। এটার প্রস্তুতি বাংলা কিউআর বাংলাদেশ ব্যাংক শুরু করার আগে থেকেই এনআরবিসি ব্যাংকের ছিল। এরপর হচ্ছে অধিগ্রহণ (অ্যাকোয়ারিং) অর্থাৎ দোকানে দোকানে বিকাশের মতো করে বাংলা কিউআর দেওয়া। আমরা এই কাজটা সম্পূর্ণ করে ফেলেছি। একটা ভালো পরিমাণ মার্চেন্ট আমাদের ইতিমধ্যে অন্তর্ভুক্ত (অনবোর্ড) হয়। প্রতিদিন আমাদের বাংলা কিউআরের লেনদেন কোটি টাকার উপরে হচ্ছে। সুতরাং বাংলা কিউআরের জন্য এনআরবিসি ব্যাংক শতভাগ প্রস্তুত। একই সাথে আমাদের গ্রাহকদের সাহায্য করে যাচ্ছি।’

বাংলা কিউআর কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?

‘বাংলা কিউআর’ হলো বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত একটি সর্বজনীন, জাতীয় ও আন্তঃলেনদেনযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা। আগে একেক ব্যাংকের বা এমএফএস-এর জন্য আলাদা কিউআর কোড ব্যবহার করতে হতো। কিন্তু এখন থেকে একজন বিক্রেতার দোকানে মাত্র একটি একক কিউআর কোড থাকলেই হবে। ক্রেতারা তাদের যেকোনো ব্যাংক অ্যাপ কিংবা বিকাশ, নগদ, রকেট বা উপায়ের মতো মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ দিয়ে এই একটি কিউআর কোড স্ক্যান করেই মুহূর্তের মধ্যে সম্পূর্ণ নিরাপদে ক্যাশলেস লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন ।

গ্রাহক ও ক্রেতাদের জন্য ‘বাংলা কিউআর’ এর সুবিধা

সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বাংলা কিউআর লেনদেনকে করে তুলবে অত্যন্ত সহজ ও ঝামেলাহীন:

এক ছাতার নিচে সব পেমেন্ট: ফুটপাতের ছোট চায়ের দোকান, মুদি দোকান, ওষুধের ফার্মেসি থেকে শুরু করে বড় শপিং আউটলেট বা সুপারশপ—সব জায়গায় একই কিউআর কোড দিয়ে পেমেন্ট করা যাবে।

স্মার্টফোন পেমেন্ট: পকেটে নগদ টাকা বা ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড না থাকলেও শুধুমাত্র স্মার্টফোনে ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ ওপেন করে কিউআর স্ক্যান করার মাধ্যমেই দ্রুত কেনাকাটার বিল পরিশোধ করা সম্ভব।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সুবিধা কী?

ব্যবসায়ী বা বিক্রেতাদের জন্য এই সিস্টেমটি ডিজিটাল হিসাবরক্ষকের মতো কাজ করবে:

ডিজিটাল ক্যাশমেমো ও নোটিফিকেশন: ক্রেতা কিউআর কোড স্ক্যান করে পেমেন্ট করার সাথে সাথেই ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের ফোনে স্বয়ংক্রয়িভাবে নোটিফিকেশন চলে আসবে।

স্বয়ংক্রিয় হিসাব সংরক্ষণ: প্রতিদিনের যাবতীয় বেচাকেনা ও ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য বিক্রেতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তালিকাভুক্ত থাকবে। ফলে আলাদা করে খাতা মেইনটেইন করতে হবে না।

যেভাবে পাবেন ‘বাংলা কিউআর’ কোড? আবেদনের নিয়ম

যেকোনো ক্ষুদ্র, মাঝারি বা বড় ব্যবসায়ী খুব সহজেই তার সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে এই কিউআর কোড সংগ্রহ করতে পারবেন:

১. ব্যাংক অ্যাকাউন্ট: বাংলা কিউআর কোড নেওয়ার জন্য যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকে আবেদনকারীর একটি সেভিংস কারেন্ট অথবা এসএনডি অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।

২. আবেদন ফরম পূরণ: ব্যক্তির নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং একটি বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলে নির্দিষ্ট বাংলা কিউআর আবেদন ফরম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখা অফিসার বা ম্যানেজারের কাছে জমা দিতে হবে ।

৩. প্রসেসিং সময়: শাখা কর্তৃপক্ষ আবেদনটি যাচাই-বাছাই করে ব্যাংকের মেইন কার্ড ডিভিশনে পাঠিয়ে দেবে। সাধারণত ৩ থেকে ৪ কার্যদিবসের মধ্যে কিউআর কোডটি প্রস্তুত হয়ে যায় এবং গ্রাহককে এসএমএস বা মেইলের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়।

৪. ডাউনলোড ও ডেলিভারি: ব্যাংকের শাখার সিএমএস সফটওয়্যারে কিউআর কোডটি আপলোড হওয়ার পর ব্যবসায়ী শাখায় গিয়ে সেটি প্রিন্ট আকারে ডাউনলোড করে নিজের দোকানে ঝুলিয়ে রাখতে পারবেন।

বাংলা কিউআর কোড নিতে কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন?

মাসিক লেনদেনের সীমার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ ব্যাংক মার্চেন্টদের ২টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে:

১. মাইক্রো মার্চেন্ট (মাসিক লেনদেন ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত):

ব্যবসায়ীর জাতীয় পরিচয়পত্রেরফটোকপি

পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি ।

২. রেগুলার মার্চেন্ট (মাসিক লেনদেন ১০ লাখ টাকার উপরে):

এনআইডি কার্ডের ফটোকপি

পাসপোর্ট সাইজের ছবি

ই-টিন সার্টিফিকেট

সর্বশেষ কর বর্ষের টিন রিটার্ন স্লিপ জমা দিতে হবে।

(ঢাকাটাইমস/১ জুলাই/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
৬০ লাখ সদস্যের আনসার বাহিনীর কার্যক্রম তুলে ধরবে ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’: তথ্যমন্ত্রী
ভারতের গুজরাটে আবারও ভাঙা হলো মসজিদ-মাজারসহ ৩০টি স্থাপনা
২০২৭ সালের হজের জন্য প্রাক-নিবন্ধন শুরু
আর্জেন্টিনাকে বিদায় করবে কেপ ভার্দে: মুখে পাউডার লাগানো সেই ঘানার ওঝার ভবিষ্যদ্বাণী
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা