ভূমিকম্পের আট দিন পর ১৪০ টন ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার

ভেনেজুয়েলা গত ১০০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পে হয়ে গেল আট দিন আগে। রাজধানী কারাকাস সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বহু ভবন ধসে পড়েছে। এমনই একটি ধসে পড়া ভবনের ১৪০ টন ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আট দিন পর হার্নান গিল নামের এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকারীরা। খবর বিবিসির।
আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানায়, উদ্ধারকারীরা তার অবস্থান শনাক্ত করার ১০০ ঘণ্টার বেশি সময় পর তাকে নিরাপদে বের করে আনতে সক্ষম হন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৯৫। এ ছাড়া এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
গত রোববার ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে গিলের ক্ষীণ সাহায্য চাওয়ার আকুতি প্রথম শুনতে পান কোস্টারিকার রেড ক্রসের প্যারামেডিক অ্যালান মাদ্রিগাল।
এই উদ্ধারকর্মী বলেন, ‘মুহূর্তটি ছিল খুবই আবেগঘন। প্রথমে আমি নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারিনি। তাই সহকর্মীকে ডেকে নিশ্চিত হই যে আমি ভুল শুনছি না।’
এরপরই শুরু হয় তাকে উদ্ধারের প্রাণপণ চেষ্টা। চার দিন পর হার্নান গিলকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ভেনেজুয়েলা, চিলি, কোস্টারিকা, এল সালভাদর, মেক্সিকো, পর্তুগাল ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে কাজ করে।
ভূমিকম্পের সময় হার্নান গিল একটি শপিং মলের পাশের পার্কিং এলাকার বেজমেন্টে ছোট একটি কংক্রিটের নিরাপত্তা কক্ষে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেই কংক্রিটের কক্ষটি তার চারপাশে একটি সুরক্ষিত আবরণ তৈরি করেছিল।
কোস্টারিকার আরেক রেড ক্রস সদস্য জানান, উদ্ধারকারীরা তাকে পানি দেন এবং শিরায় স্যালাইন দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
তাকে উদ্ধারের জন্য তৈরি করা সরু পথ কয়েকবার ধসে পড়ায় পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত রাতের দিকে উদ্ধারকারীরা তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে সক্ষম হন।
একটি ছোট ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা গিলকে চিলির একজন দমকলকর্মী ক্যামেরার দিকে মুখ ঘোরাতে বলছেন। তিনি একটি ফেস মাস্ক পরে ছিলেন, যা উদ্ধারকারীরা আগে ধুলোবালি থেকে সুরক্ষার জন্য তার কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। গিল নিজের পছন্দের স্বাদের পানীয়ও চেয়েছিলেন এবং উদ্ধারকারীরা তা এনে দিয়েছিলেন।
উদ্ধার অভিযানের পুরো সময় গিল ও উদ্ধারকারীদের মধ্যে পরিবার এবং উদ্ধারকাজের নানা বিষয় নিয়ে কথা চলতে থাকে।
প্যারামেডিক অ্যালান মাদ্রিগালের ভাষায়, ‘এই অভিজ্ঞতা আমাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।’
(ঢাকাটাইমস/৩জুলাই/মোআ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































