আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে ধস

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার পরও বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ধস নেমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান এ ধাতুর দাম প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। খবর রয়টার্স’র।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এশিয়ার বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৬ দশমিক ২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে বুধবার স্বর্ণের দাম গত ১ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল।
একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দামও কমেছে। এ ধাতুর দাম ০.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৭ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
তবে স্বর্ণের দাম কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়লে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে এবং এর প্রভাবে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে নতুন করে চাপ তৈরি হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ঘোষণার পর। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক আর কার্যকর নেই।
এর কিছুক্ষণ পরই মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা শুরু করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। বুধবার তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বাড়ার পর বৃহস্পতিবারও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। একই সঙ্গে ডলারের বাজার ও বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও কিছুটা চাপ দেখা দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। এতে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রয়োজনে ফেড আরও কঠোর মুদ্রানীতির পথে যেতে পারে বলেও মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ২০২৬ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩ শতাংশে নামিয়েছে।
অন্যদিকে ব্যাংক অব আমেরিকা ২০২৬ সালের গড় স্বর্ণমূল্যের পূর্বাভাস ১৪ শতাংশ কমিয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৬০ ডলার নির্ধারণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য কঠোর মুদ্রানীতির কারণেই এ পূর্বাভাস সংশোধন করা হয়েছে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ১৩ ডলারে নেমেছে। তবে প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম উভয়ই ০.৪ শতাংশ বেড়েছে।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমলেও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তার কারণে বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
(ঢাকাটাইমস/৯ জুলাই/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































