কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা

মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের নৌ ও বিমানবাহিনীর যৌথ অভিযানে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি এ তথ্য জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান, আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের শাইখ ইসা বিমানঘাঁটি ও জুফাইর এলাকার মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।
বাহরাইনের জুফাইর এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর নেভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি অবস্থিত। এটি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। এখানেই মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
আইআরজিসির দাবি, ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকা এবং পূর্বাঞ্চলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে।
এর আগে ইরান অভিযোগ করে, দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আককালা এলাকায় একটি রেলসেতুতে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর দৃশ্য দেখানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
এদিকে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার সকালে কুয়েত ও বাহরাইনে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
আইআরজিসি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও ইরানে হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত আরও মার্কিন সামরিক ঘাঁটি তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
অন্যদিকে, হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে ইরানের হামলার দাবিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি আরও বড় আকারের সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
(ঢাকাটাইমস/৯ জুলাই/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































