রেলে চাকরির নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, চট্টগ্রামের দুই কর্মচারী দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত

চট্রগ্রাম ব্যুরো, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০০:০৬
অ- অ+

বাংলাদেশ রেলওয়েতে বিভিন্ন পদে চাকরি দেয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্ধশত বেকার যুবকের পরিবার থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে দীর্ঘ দিন যাবত কর্মস্থলে অনুপস্থিত চট্টগ্রাম রেলওয়ের সরঞ্জাম বিভাগের দুই কর্মচারী। অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি মোঃ হোসাইন ও কামরুল ইসলাম খালাসি পদে কর্মরত ছিল। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে বর্তমানে ম্যাটেরিয়াল চেকার পদে কর্মরত রয়েছে অভিযুক্ত দুইজন। তাদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের শেষ নেই। এদের মধ্যে হোসাইন প্রায় ৯ মাস এবং কামরুল ৫ মাস যাবত কর্মস্থলে অনুপস্থিত।

হোসাইন চট্টগ্রাম সরঞ্জাম বিভাগের শিপিং দপ্তরে এবং কামরুল পরিদর্শন দপ্তরে কর্মরত। উভয় ব্যক্তি এর আগেও বেশ কয়েকবার দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। অজ্ঞাত কারণে তাদের বিরুদ্ধে কখনোই বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ। এই সুযোগে পাওনাদারগণ ঘন ঘন কর্মস্থলে আসলে তারা কিছু দিন পর পর নিরুদ্দেশ হয়ে যায়।

তাদের খোঁজে প্রতিনিয়ত উভয় দপ্তরে চাকরি প্রত্যাশি ভুক্তভোগী এবং তাদের পরিবারের সদস্যগণ আসেন। এতে উভয় দপ্তরের কর্মপরিবেশে বিঘœ ঘটছে বলে জানান বেশ কয়েকজন কর্মচারী। এদুজনের কাছে সৈয়দপুর, কেলোকা, পার্বতীপুর, রাজশাহী, ঢাকা এবং চট্টগ্রামের অনেক কর্মচারী ও তাদের আত্মীয়স্বজন অর্থ পাবেন বলে জানা যায়। সিলেট থেকে কামরুলকে খুঁজতে আসা চেরাগ আলী নামে একজন অবসরপ্রাপ্ত বৃদ্ধ কর্মচারী বলেন আমি ছেলের বদলির জন্য কামরুলকে টাকা দিয়েছিলাম। বদলী তো তো হয়নি, দীর্ঘ দিনযাবত টাকা ফেরত দিচ্ছে না। টাকা দেয়ার জন্য একাধিকবার আশ^াস দিলেও পরিশেষে পোন ও রিসিভ কওে না,তাই তার খোজে আসছি বলে জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের নিরাপত্তা কর্মী (আরএনবির) একজন হাবিলদার অভিযুক্ত হোসাইনকে আত্মীয়র চাকরির জন্য ৯ লাখ দেয়,চাকরী তো দেয় নাই বরং গত ৫ বছরের বেশী সময় ধরে টাকা দিবে দিচ্ছি এখনে এসে ও তার দেখা পাচ্ছি না। জানতে পারি, হোসাইনের স্ত্রী রেলওয়ে চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে পয়েন্টসম্যানের চাকরি করতো সেও বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় তাকেও পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। এমন কি, দপ্তরের ভিতরেই হোসাইনের সাথে তার দুই আত্মীয়ের মধ্যে মারামরি হয়েছিল গতবছর। সে আত্মীয় তার কাছে ১৫ লাখ টাকা পান বলে জানা যায়। কিছু দিন পূর্বে আরো দুই ব্যক্তি তার খোঁজে আসেন, তারাও নাকি ৩০ লাখ টাকা পাবেন ।

ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে চাকরি দেয়ার প্রলোবনে কৌশলে মোটা অংকের নগদ অর্থ নেয়া হয়। আর নিঃশ্ব হয়েছেন চাকরি প্রত্যাশি বেশকিছু বেকার যুবক। এদিকে হোসাইন চট্টগ্রামের বিভিন্নস্থান ও নামীদামি শপিংমলে গড়ে তুলেছেন কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নিজের ও স্ত্রী-সন্তানের নামে গড়েছেন স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি।

সংশ্লিষ্টরা জানান–, রেলওয়ের তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণীর বিভিন্ন পদের জন্য ৫-১৫ লক্ষ্য টাকা গ্রহণ করেন প্রতারক হোসাইন ও কামরুল। গ্রামের সহজ সরল মানুষের কাছে কৌশলে হোসাইন-কামরুলের চাকরির দোকানের খবর প্রকাশ করে দেশের বিভিন্ন গ্রামের সহজ সরল ও বেকার যুবকরা পথে বসায় এ প্রতারক চক্র।

রেলে কারো চাকরী দেয়ার কোন নজির নাই এ প্রতারক চক্রের। গত এক দশকে তাদের বিরুদ্ধে অন্তত অর্ধশত অভিযোগ তাদেও বিরুদ্ধে। অনেকে চাকরির জন্য টাকা দিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে আদালতে মামলা ঠুকেছেন। আবার অনেকে নিকট আত্মীয় বা পরিচিতজনের সহযোগিতায় কিছু টাকা ফেরৎ পেয়েছেন। তবে অধিকাংশ চাকরি প্রার্থীকে কৌশলে নিজেদের আস্তাানায় ডেকে নিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে জিম্মিকরে টাকার বিপরীতে দেওয়া জামানতের চেকসহ সকল প্রমাণ কেড়ে নেয় হোসাইন ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

৩ বছর পূর্বে চাকরির প্রলোভনে মো. হোসাইনকে টাকা দিয়ে প্রতারণা শিকার ও প্রাণ নাশের হুমকিতে থাকা মো. সিরাজুল ইসলাম, নূর আলম ও মো. আব্দুর রাজ্জাক সুমন নামে তিন যুবক অভিযোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহা ব্যবস্থাপক (জিএম) বরাবরে। একইভাবে হোসাইনের প্রতারণা ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিস্তারিত তুলে ধরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন চট্টগ্রামের উপপরিচালক বরাবরেও।

পঞ্চগড়ের মো. নূর আলম অভিযোগে উল্লেখ করেন, ৭ লক্ষ টাকায় “পোর্টার” পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মৌখিক চুক্তি করেন হোসাইন। এরমধ্যে তাকে নগদ প্রদানকরা হয় ৪ লক্ষ টাকা। অবশিষ্ট্য টাকা চাকরির নিয়োগপত্র বুঝে পেয়েই দেওয়ার কথা ছিল। নুর আলম আরও জানান, নগদ চার লক্ষ টাকার বিপরীতে জামানত হিসেবে মো. হোসাইন দুই লক্ষ করে দুই চেকে মোট ৪ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন নুর আলমকে। তবে টাকা ও চেক নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও চাকরি না পেয়ে নুর আলম প্রদানকৃত টাকা ফেরৎ চান।

২৩ সালের ১৮ রমজান সেই টাকা ফেরৎ দেওয়ার কথা বলেন নগরের আলকরণে উত্তরা ব্যাংকের পার্শ্ববর্তী একটি অফিসে ডেকে নিয়ে অস্ত্রের মুখে নুর আলমও তার চাচা আব্দুল কাদেরকে জিম্মিকরে চার লাখ টাকার চেক ছিনিয়ে নেয়। এ সময় নুর আলম টাকা বুঝে পেয়েছে অস্ত্রধরে এমন অভিনয় করতে বাধ্যকরে তারা। আর সেই দৃশ্য দুই সন্ত্রাসীকে দিয়ে নিজেদের মোবাইলে ভিডিও ধারণ করান মো. হোসাইন। কান্না জড়িত কন্ঠে নূর আলম বলেন, দুইটি চেক কেড়ে নিয়ে তা ছিড়ে টুকরো টুকরো করে সন্ত্রাসীরা নূর আলম ও আব্দুল কাদেরের মুখের দিকে ছুড়ে মারে। এই বিষয়ে কোথাও কাউকে কিছু না বলার জন্য তারা সেই সময় তাদের শাসিয়ে দেয়। এমনকি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা বা অন্যকাউকে এই বিষয়ে কিছু বললে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে তুলে নিয়ে গায়েব করে ফেলবে বলে হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

অপর অভিযোগকারী মো. সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ উল্লেখ করেন, ‘অফিস সহকারী’ পদে চাকরির ৯ লক্ষ টাকা কন্টাক্ট করেন হোসাইন। এরমধ্যে হোসাইন তিন লক্ষ টাকা নগদ এবং ৬ লক্ষ টাকার একটি চেক নেন সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে। আর সিরাজুল ইসলামের নগদ তিন লক্ষ টাকার বিপরীতে মো. হোসাইন তার আইএফআইসি ব্যাংকের হিসাবের একটি চেক সিরাজুল ইসলামকে প্রদান করেন। তবে চাকরি দেওয়ার চুক্তিতে টাকা নেওয়ার বিষয়টি হোসাইন অস্বীকার করেছেন। মো. আব্দুর রাজ্জাক নামক বান্দরবানের লামার এক যুবক অভিযোগে উল্লেখ করেন, গেইট কিপার পদে চাকরির জন্য ৩ লক্ষ ৭০ হাজার টাকায় তার সঙ্গে মৌখিক চুক্তিকরেন মো. হোসাইন। এরমধ্যে প্রথমে নগদ দেড় লাখ টাকা নেন। অবশিষ্ট্য ২ লক্ষ ২০ হাজার চাকরির নিয়োগপত্র বুঝিয়ে দেওয়ার সময় প্রদানের শর্তে আব্দুর রাজ্জাকের বড়ভাই আব্দুল কাদেররের একটি চেক লিখিয়ে নেন। হোসাইন বর্তমানে সেই টাকাও অস্বীকার করে চলেছেন।

শুধু নূর আলম, সিরাজুল ইসলাম বা আব্দুর রাজ্জাকই নয়! চাকরি দেওয়ার কথা বলে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর এক যুবকের কাছ থেকে ৪লক্ষ টাকা নেন হোসাইন। ১৬ লক্ষ টাকা নিয়ে চাকরি না দেওয়ায় নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজার ব্যবসায়ি সমিতিতে একটি অভিযোগ বিচারাধীন। প্রতারণার শিকার চট্টগ্রাম আদালতে অপর এক যুবকের দায়েরকৃত মামলা ধামাচাপা দিয়ে হোসাইন কোনোভাবে রক্ষাপান। এভাবে আরও চাকরি প্রত্যাশি ১০/২০ জন থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় হোসাইন।

রেলওয়ের জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক শিপিং (পূর্ব) এর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, মো. হোসাইন চাকরি বিকিকিনি করেই ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরের ‘আলকরণ এলাকায় চারগন্ডা জমিসহ পাঁচতলা একটি ভবন’ ক্রয় করেছেন। যার বাজার মূল্য আড়াই কোটি টাকা। আমির এন্টারপ্রাইজ” নামে নগরের কোতোয়ালী থানাধীন ৯২, স্টেশন রোডের মহিউদ্দিন মাকের্টের নীচ তলায় ৩, রিয়াজউদ্দিন বাজারের আরএস রোডের আনন্দবিতানে ১৫১/১ ও আগ্রাবাদ চৌমুহুনীর কর্ণফুলী মার্কেটের ২৫৯ নম্বর সিরিয়ালে চারটি দোকান গড়ে তুলেছেন তিনি। একইভাবে ৫/৬, সদরঘাট রোডে ‘আমিন ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি, বিটিএল লুব্রিকেন্টস্ ও ঈগলু আইসক্রিমের’ চট্টগ্রাম বিভাগীয় ডিলারশীপ নিয়ে গড়েছেন আরও কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

যদিও সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারি চাকরি করা অবস্থায় আর্থিক লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসা কোন কিছুতেই সম্পৃক্ত হওয়ার নিয়ম নেই। এমনকি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের আত্মীয়-স্বজনও ব্যবসা করতে হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা হতে আগে অনুমতি নিতে হবে। তবে সরকারের এই চাকরি বিধিকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে একে একে সাতটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন মো. হোসাইন।

কামরুল মায়ের অসুস্থতার কারণে রাজধানীতে অবস্থান করার কথা বলেছেন কয়েকজনকে। তবে জানা যায়, কামরুলের মা বর্তমানে বাড়ীতে আছেন। কামরুল ২ ঈদ করেছেন শ্বশুর বাড়ীতে। কামরুল মায়ের অসুস্থতার কথা বললেও একই দপ্তরে কর্মরত কামরুলের বোন উক্ত সময়ে একদিনও ছুটি নেননি। কামরুল জনৈক সহকর্মীকে বিগত রমজানের ঈদযাত্রার টিকিট ম্যানেজ করে দিবেন বলে ১০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে গ্রহণ করে টিকিট না দিয়ে মোবাইল বন্ধ করে দেন বলে জানান তার সেই সহকর্মী। একজন ভুক্তভোগী কামরুল দ্বারা দীর্ঘ দিন যাবত রেলওয়ের চাকরির আশায় থেকে বাড়ির ভিটা বিক্রি করে এপ্রিল মাসে বিদেশ চলে গেছেন। কামরুলের পাশের দপ্তরের এক নারী কর্মচারী ছেলের চাকরির আশায় প্রতিদিন কামরুলের খোঁজ করেন। তিনি সাড়ে তিন লাখ দিয়েছেন বলে জানান।

কামরুল নিয়োগ বণিজ্য, রেলওয়ের টিকিট ম্যানেজ ছাড়া জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধনের জন্য মোটা অংকের টাকা গ্রহণ করে বলে অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী। কামরুল ঢাকায় খালাসী পদে চাকরি করাকালীন টিকিট কালোবাজারির দায়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন বলে জানা যায়। কর্মস্থলে অনুপস্থিতির সময়ে হোসেন চেক ডিজঅনার মামলায় ২ মাস কারাবাস করেছেন বলে পাওনাদাররা জানিয়েছেন।

পাহাড়তলীতে অবস্থিত প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দপ্তরে নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়োজিত আরএনবির কয়েজন সদস্য বলেন, প্রায় সময় পাওনা টাকার জন্য হোসাইন এবং কামরুলের খোঁজে বহিরাগত লোক আসে। হোসাইনের খোঁজে পুলিশের লোকজনও কয়েকবার এসেছিলেন। অভিযোগের সত্যতা জানতে হোসাইন এবং কামরুলের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও উভয়ে কল রিসিভ করেননি। হোসেন এর অফিস সূত্রে জানাযায়, দপ্তর থেকে গত বছরের ৫ নভেম্বর, চলতি বছরের ৩ মার্চ এবং ৭ এপ্রিল কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়। সে একটি নোটিশও গ্রহণ করেনি এবং জবাব দেয় নি। পরবর্তীতে দপ্তর থেকে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় নি।

কামরুল এর অফিস সূত্রে জানাযায়, দপ্তর থেকে গত ৩১ মার্চ, ২ মে এবং ২৪ মে তাকে তিনটি 'নোটিশ ফরম ক' প্রদান করা হয়। সে একটি নোটিশও গ্রহণ করেনি এবং জবাব দেয় নি। পরবর্তীতে দপ্তর থেকে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় নি। হোসাইন দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থকার পরও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক/শিপিং আসিফুল ইসলাম বলেন,আমরা নিয়ম অনুযায়ী নোটিশ দিয়েছি। নোটিশ গ্রহণ করেনি,আমরা নিয়ম মোতাবেক উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে লিখিতভাবে জানাবো।

কামরুল দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থকার পরও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক/পরিদর্শন এস এম আল মুহিদ বলেন, আমরা সরকারী নিয়ম মেনে অভিযুক্ত কামরুল কে নোটিশ দিযেছি, তারা নোটিশ গ্রহণ করেনি। সরকারী চাকরীবিধি মোতাবেক চুড়ান্ত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য উধ্বর্তনের নিকট জানিয়েছি,আশা করি, স্যারেরা একটা চুড়[ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

উল্লেখ্য যে, সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া দুই মাসের বেশি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা (যেমন- কারণ দর্শানো নোটিশ, বাধ্যতামূলক অবসর, বা চাকরি থেকে বরখাস্ত) নেওয়ার বিধান রয়েছে। বিনা অনুমোদনে বা ছুটি ছাড়া অনুপস্থিত থাকার ফলে সরকারি অফিসের কাজের গতি ব্যাহত হয়, যার কারণে সরকার নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সময়ে কঠোর নির্দেশনাও জারি করে থাকে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিবসহ গুলিবিদ্ধ ২
দ্রুত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা: ইসি মাছউদ
রবিবার সপরিবারে বঙ্গভবন ছাড়ছেন মো. সাহাবুদ্দিন
মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে আইইডি সদৃশ বস্তু উদ্ধার, নিষ্ক্রিয় করল পুলিশ
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা