দুই বছরেও মুছে যায়নি ৫ আগস্টের রক্তাক্ত স্মৃতি

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্ণ হলো আজ। দুই বছর আগে এই দিনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও প্রাণহানির মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঘটনা ঘটে। সেই দিনের স্মৃতি, নিহত ও আহত ব্যক্তিদের স্বজনদের বেদনা এবং ঘটনার বিচারপ্রক্রিয়া এখনো জাতীয় আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন পরে সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট 'মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচিতে রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথ দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করেন। এ সময় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। পরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের ওই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত এবং ২৩ হাজারের বেশি মানুষ আহত হন। আহতদের মধ্যে অনেকেই এখনো চিকিৎসাধীন। কেউ কেউ স্থায়ীভাবে অঙ্গহানি বা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।
দিবসটি উপলক্ষে আজ রাজধানীতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনসহ বিভিন্ন স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, শোভাযাত্রা ও শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি পালন করছে।
জুলাই-আগস্টের সহিংসতার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ বিভিন্ন আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা, গুলিবর্ষণের ঘটনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়েও তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
দুই বছর পরও সেই দিনের রক্তাক্ত স্মৃতি নিহত ব্যক্তিদের পরিবার, আহত ব্যক্তি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের মনে গভীরভাবে রয়ে গেছে। তাঁদের প্রত্যাশা, সব ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত হবে এবং ভবিষ্যতে এমন সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে সেই ঘটনার মূল্যায়ন, দায় নির্ধারণ এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে এখনো বিভিন্ন মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
দিবসটি ঘিরে যত কর্মসূচি
দিবসটি উপলক্ষে সরকার নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। দিনের অন্যতম আয়োজন হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনকে 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর' হিসেবে উদ্বোধন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকালে জাদুঘরের উদ্বোধন করবেন। পরদিন থেকে এটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত ব্যক্তিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আন্দোলনের বিভিন্ন আলোকচিত্র, ব্যবহৃত সামগ্রী, দলিলপত্র ও স্মারক নিয়ে গড়ে তোলা জাদুঘর ঘুরে দেখবেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও থাকবে।
সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। ঢাকায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পর্যায়ের আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের ৬৪ জেলায় স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা, স্মরণসভা, দোয়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দিবসটি উপলক্ষে দুটি উন্মুক্ত কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রচনা, চিত্রাঙ্কন ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা, ডাকটিকিট প্রকাশ, বিভিন্ন জাদুঘরে বিশেষ কর্মসূচি এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































