কানাডায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে ভয়াবহ দাবানল, জরুরি অবস্থা জারি

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১০ আগস্ট ২০২৬, ১৫:২১
অ- অ+

পশ্চিম কানাডায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলে হাজার হাজার মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের কঠিন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। খবর রয়টার্স’র।

ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার দাবানল নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘বাল্ড রেঞ্জ’ দাবানলটি সামারল্যান্ড, পিচল্যান্ডসহ আশপাশের এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন ইতোমধ্যে প্রায় ১৩ হাজার ৬১৮ হেক্টর বা ৩৩ হাজার ৬৫০ একর এলাকায় বিস্তৃত হয়েছে। আগুনের বিস্তৃতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সামারল্যান্ডের মেয়র ডগ হোমস বলেছেন, ‘আমাদের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’ প্রায় ১২ হাজার মানুষের শহর সামারল্যান্ডের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশের পিচল্যান্ডের কিছু এলাকার বাসিন্দাদেরও নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলা হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দাবানলের শিখা এতটাই উঁচুতে উঠছে যে তা থেকে বজ্রপাতও সৃষ্টি হচ্ছে। এতে আগুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রিমিয়ার ডেভিড ইবি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আগুনের তীব্রতাকে এক অগ্নিনির্বাপণ কর্মকর্তা ‘বোমা বিস্ফোরণের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, দাবানলে বাড়িঘর ও সম্পত্তি ধ্বংস হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় কিছু মানুষ আটকা পড়েছিলেন এবং তাদের উদ্ধার করতে হয়েছে।

সামারল্যান্ডের বাসিন্দা কিগান রাডমস্কি জানান, আগুন তার বাড়ির কাছে পৌঁছানোর মাত্র কয়েক মুহূর্ত আগে তিনি সেখান থেকে বের হতে সক্ষম হন। পরে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জানতে পারেন, তাদের সড়কের অনেক বাড়ি পুড়ে গেছে। নিজের বাড়িটি আদৌ অক্ষত আছে কি না, তা নিয়েও তিনি অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

পিচল্যান্ডে ৩০ বছর ধরে বসবাস করা আর্ল কার্জও এবার প্রথমবারের মতো বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। শুক্রবার স্ত্রীকে নিয়ে ওকানাগান লেকে নৌকায় থাকার সময় তিনি দেখতে পান, পরিষ্কার আকাশ দ্রুত ধোঁয়ায় ঢেকে যাচ্ছে। কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশ তাদের বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। বর্তমানে তারা কয়েক মাইল দূরে একটি ক্যাম্পারে অবস্থান করছেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ দাবানল ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় চলতি গ্রীষ্মে সবচেয়ে বেশি মানুষকে সরিয়ে নিতে বাধ্য করেছে। প্রদেশজুড়ে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ ইতোমধ্যে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন।

জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে প্রাদেশিক সরকার চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ, প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত দাম নেওয়া ঠেকানোর মতো বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে। একই সঙ্গে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কাজে অতিরিক্ত সম্পদ ব্যবহারের সুযোগও তৈরি হয়েছে।

বিভিন্ন পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকা শত শত মানুষ, বিশেষ করে বয়স্কদের আবাসন থেকে বাসিন্দাদেরও নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত ঠিক কতটি বাড়ি বা স্থাপনা পুড়ে ধ্বংস হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

দাবানলের কারণে ওকানাগান অঞ্চলে ঘোড়া ও অন্যান্য গবাদিপশু সরিয়ে নিতেও স্থানীয়দের ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। যেসব মালিক পশু সরিয়ে নিতে পারেননি, তাদের কেউ কেউ গেট খুলে দিয়েছেন, যাতে পশুগুলো নিজেরাই নিরাপদ স্থানে চলে যেতে পারে। আবার কিছু মালিক পশুদের শরীরে বিশেষ চিহ্ন এঁকে দিয়েছেন, যাতে পরে সেগুলো শনাক্ত করা সহজ হয়।

এদিকে চলতি গ্রীষ্মে কানাডাজুড়ে শত শত দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। জুলাইয়ে শুধু অন্টারিওতেই প্রায় ২০০টি দাবানল সক্রিয় ছিল। এসব দাবানলের ধোঁয়ায় টরন্টোর বায়ুর মানও কয়েক দিনের জন্য অত্যন্ত খারাপ হয়ে পড়ে। কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা ও নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন এলাকাতেও পৌঁছায়।

(ঢাকাটাইমস/১০ আগস্ট/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
আগামীর বাংলাদেশ হবে একটি গণতান্ত্রিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের আহ্বান, ‘বাড়িতে একটি করে গাছ লাগাও’
শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকায় গাড়িতে মিলল পৌনে ৪ কোটি টাকার স্বর্ণ, চালক পলাতক
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা