ফরিদপুরে মাদক ও আধিপত্যের বিরোধে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর

ফরিদপুরে মাদকসংক্রান্ত বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এ সময় পুলিশের ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করা হয় এবং গাড়িটির চাবি নিয়ে যান উত্তেজিত লোকজন।
শুক্রবার রাত আটটার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের গোলজারমণ্ডলের ডাঙ্গী ও আক্কাচ আলীর মোড় এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গুরুতর আহত দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান শনিবার দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট গোলজারমণ্ডলের ডাঙ্গী এলাকায় স্থানীয় যুবক শাকিল ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু ইয়াবা সেবন করছিলেন। এ সময় টুলু মিয়া, সুমনসহ কয়েকজন ওই দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিও দেখিয়ে শাকিলের কাছে টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরপর শাকিলের পক্ষের লোকজন টুলু মিয়াকে টাকা নেওয়ার জন্য ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। টুলু সেখানে গেলে তাঁকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনার জেরে শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে টুলু মিয়া পার্শ্ববর্তী মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে ১৫ থেকে ২০টি মোটরসাইকেলে লোকজন নিয়ে গোলজারমণ্ডলের ডাঙ্গী ও আক্কাচ আলীর মোড়ে যান বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান। সেখানে আগের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মুদিদোকানি বক্কার শিকদার ও মান্নানকে মারধর করে তাঁরা চলে যান।
পরে বিষয়টি বক্কার শিকদারের পক্ষের লোকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা তৈরি হয়। টুলু মিয়াকে না পেয়ে তাঁর বাবা রাজা মিয়া (৭০) ও স্থানীয় জয়নাল শিকদারকে (৬৫) মারধর করা হয়। একপর্যায়ে কয়েক শ লোক তাঁদের ঘিরে রাখেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত রাজা মিয়া ও জয়নালকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় লোকজন পুলিশকে বাধা দেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন পুলিশের পিকআপ ভ্যানে হামলা চালিয়ে গাড়িটির পর্দা ছিঁড়ে ফেলেন এবং চাবি নিয়ে যান।
পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও থানার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর আহত রাজা মিয়া ও জয়নালকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মিন্টু মৃধা বলেন, টুলু মিয়া ওমানে থাকেন। মাঝেমধ্যে দেশে এসে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। শুক্রবারের ঘটনার পর শনিবার সকাল ১০টার ফ্লাইটে তিনি আবার ওমানে চলে গেছেন বলে দাবি করেন মিন্টু।
তিনি আরও বলেন, আগের ঘটনার দিন টুলুর ভাই নিলু মিয়া রামদা নিয়ে এলাকায় এসেছিলেন। তখন বক্কারের ছেলে লালচান তাঁকে আটক করে পুলিশে দেন। এর জের ধরে শুক্রবার বক্কারকে মারধর করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্কার শিকদার ও টুলু মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, স্থানীয় আধিপত্য ও মাদকসহ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের ওপর হামলা করে পিকআপ ভ্যানটি ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে গাড়িটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ওসি বলেন, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। তবে দুই পক্ষের কেউ এখনো থানায় অভিযোগ দিতে আসেনি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































