নিজের ফেসবুক থেকে অটোমেটিক অন্যের মেসেঞ্জারে মেসেজ যায় কেন?

নিজের অজান্তেই ফেসবুক বা মেসেঞ্জার থেকে অন্যদের কাছে মেসেজ, ছবি কিংবা কোনো লিংক চলে যাওয়ার ঘটনা অনেক ব্যবহারকারীকেই উদ্বিগ্ন করে। ব্যবহারকারী নিজে কিছু না করলেও বন্ধু বা পরিচিতদের মেসেঞ্জারে তার অ্যাকাউন্ট থেকে বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে।
সম্প্রতি এমনই এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন এক গণমাধ্যমকর্মী। নিউজের কাজ শেষে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি সংবাদ শেয়ার করেন তিনি। কিছুক্ষণ পর তার সঙ্গে থাকা একটি গ্রুপের কয়েকজন সদস্য জানান, তাদের মেসেঞ্জারে ওই ব্যক্তির ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে চারটি ছবি পাঠানো হয়েছে।
বিষয়টি জানার পর ওই গণমাধ্যমকর্মী অবাক হয়ে যান। কারণ, তিনি নিজে কারও মেসেঞ্জারে ওই ছবিগুলো পাঠাননি। এরপর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গিয়ে অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।
ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেসেজ যাওয়ার পেছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ থাকতে পারে।
অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে চলে যাওয়া: কারও কাছে আপনার ফেসবুকের পাসওয়ার্ড চলে গেলে বা অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশ ঘটলে সেই ব্যক্তি আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে মেসেজ পাঠাতে পারে।
ক্ষতিকর থার্ড-পার্টি অ্যাপ: বিভিন্ন অ্যাপ বা ওয়েবসাইটকে ফেসবুক অ্যাকাউন্টের অনুমতি দেওয়ার পর সেগুলোর কোনোটি ক্ষতিকর হলে আপনার অ্যাকাউন্টের নির্দিষ্ট তথ্য বা কার্যক্রমে অননুমোদিত প্রবেশের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ফিশিং বা স্প্যাম লিংক: অপরিচিত বা সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করে ফেসবুকের লগইন তথ্য দিলে অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। একইভাবে ক্ষতিকর সফটওয়্যার বা ম্যালওয়্যারের মাধ্যমেও অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা থাকে।
অন্য ডিভাইসে লগইন থাকা: অফিস, সাইবার ক্যাফে, বন্ধুর কম্পিউটার কিংবা অন্য কোনো ফোনে ফেসবুক লগইন করে বের না হলে সেই ডিভাইস থেকে অন্য কেউ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারে।
অনিচ্ছাকৃত স্পর্শ: ফোন আনলক থাকা অবস্থায় পকেট বা ব্যাগের মধ্যে স্ক্রিনে চাপ পড়লেও কিছু ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো কার্যক্রম হয়ে যেতে পারে। তবে একাধিক ব্যক্তির কাছে একই ধরনের মেসেজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে গেলে এটিকে শুধু অনিচ্ছাকৃত স্পর্শের ঘটনা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
এমন হলে যা করবেন
নিজের অজান্তে মেসেঞ্জার থেকে মেসেজ বা ছবি যাওয়ার ঘটনা নজরে এলে প্রথমেই অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা পরীক্ষা করা উচিত।
পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন: দ্রুত ফেসবুকের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।
টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু করুন: অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য 2FA চালু করুন। এতে পাসওয়ার্ড জানা থাকলেও অ্যাকাউন্টে প্রবেশের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই প্রয়োজন হবে।
লগইন করা ডিভাইস পরীক্ষা করুন: Facebook-এর ‘Where you're logged in’ বা সংশ্লিষ্ট সেশন অপশনে গিয়ে কোন কোন ফোন ও কম্পিউটারে অ্যাকাউন্টটি চালু আছে তা দেখুন। অপরিচিত ডিভাইস থেকে লগআউট করুন।
থার্ড-পার্টি অ্যাপের অনুমতি বাতিল করুন: ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত অপরিচিত বা অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের অ্যাক্সেস সরিয়ে দিন।
সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করবেন না: মেসেঞ্জার, ই-মেইল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া অচেনা লিংকে ক্লিক করার আগে সেটির উৎস যাচাই করুন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিজের অজান্তে একাধিক ব্যক্তির কাছে মেসেজ বা ছবি পাঠানোর ঘটনা ঘটলে শুধু মেসেঞ্জার অ্যাপ বন্ধ করে দেওয়া যথেষ্ট নয়। অ্যাকাউন্টের লগইন সেশন, পাসওয়ার্ড এবং থার্ড-পার্টি অ্যাপের অনুমতিগুলো দ্রুত পরীক্ষা করা উচিত। এতে অননুমোদিত প্রবেশ বা ক্ষতিকর অ্যাপের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
(ঢাকাটাইমস/১৮ আগস্ট/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































