নবম পে স্কেলের গেজেট আটকে যেখানে, জানা গেল কারণ

জুলাই থেকে নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর করার কথা থাকলেও এখনো এর চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণ করা যায়নি। মূল বেতন, ভাতা এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা চলায় গেজেট প্রকাশ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে কি না, তা নিয়েও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত সচিব কমিটি আরও দুই থেকে তিনটি বৈঠক করতে পারে। এরপর চূড়ান্ত সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়ার পর নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে।
গত ১৫ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে সচিবালয়ে পর্যালোচনা কমিটির ষষ্ঠ সভা হয়। ওই সভায় নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, অষ্টম পে স্কেলের সীমাবদ্ধতা এবং নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যাতে বৈষম্য বা অসন্তোষ তৈরি না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ২০১৫ সালে অষ্টম পে স্কেল বাস্তবায়নের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিজীবীদের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, এবার সেই অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
নবম পে স্কেল শুরুতে দুই ধাপে বাস্তবায়নের আলোচনা থাকলেও এখন তিন ধাপে বাস্তবায়নের একটি বিকল্প পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। প্রথম ধাপে নতুন মূল বেতন কার্যকর করা হতে পারে। পরবর্তী দুই ধাপে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নীতিগতভাবে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন মূল বেতন এবং ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বিভিন্ন ভাতা কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত জটিলতাকেও গুরুত্বপূর্ণ বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ও আইবাস++ (iBAS++) সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
নতুন মূল বেতন ধাপে ধাপে কার্যকর করা হলে বিদ্যমান সফটওয়্যার কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। এতে সময় লাগতে পারে এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে একাধিক বৈঠক হলেও কমিটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।
নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের সময় নিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মধ্যে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। একটি সূত্রের দাবি, আগস্টেই গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অন্য একটি সূত্র বলছে, অক্টোবরের আগে গেজেট জারি হওয়ার সম্ভাবনা কম।
নবম পে স্কেলে কমিশনের প্রস্তাবিত ২০টি গ্রেড বহাল রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রস্তাবে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে। তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় এসব অঙ্কে পরিবর্তন আসতে পারে।
নবম পে স্কেলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। সচিব কমিটির পরবর্তী বৈঠকের পর এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































