বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার কিছুটা কমে আসায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। মঙ্গলবার প্রায় ২ শতাংশ কমার পর আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) স্পট গোল্ডের দাম ০.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ট্রয় আউন্স ৪ হাজার ৩৫৬ দশমিক ৫৫ ডলারে পৌঁছেছে।
প্রতি ডলারের দাম ১২২ টাকা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ টাকা। সে হিসাবে প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম প্রায় ১৭ হাজার ১০০ টাকা এবং ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম বা এক ভরি স্বর্ণের দাম প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার ৪০০ টাকা। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক স্পট মূল্যের হিসাবে বর্তমানে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম প্রায় ২ লাখ টাকা।
তবে বাংলাদেশে স্বর্ণের খুচরা দামের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের এই হিসাবের সরাসরি মিল নেই। স্থানীয় বাজারে ডলারের বিনিময় হার, ভ্যাট, মজুরি বা মেকিং চার্জসহ বিভিন্ন খরচ যুক্ত হওয়ায় বিক্রয়মূল্য আরও বেশি হতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা স্বর্ণের দামের জন্য ইতিবাচক সংকেত। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগও স্বর্ণের চাহিদা বাড়াতে পারে।
ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির জুলাইয়ের বৈঠকের কার্যবিবরণী বুধবার প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা সুদের হার নিয়ে কী ধরনের আলোচনা করেছেন, সে বিষয়ে বিনিয়োগকারীরা ধারণা পাবেন।
সাধারণত সুদের হার কমলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগ-খরচ কমে যায়। এতে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের আকর্ষণ বাড়ে এবং এর দামও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান এফএক্সটিএমের গবেষণা বিভাগের প্রধান লুকমান ওতুনুগার পূর্বাভাস, স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৯০ ডলারের ওপরে স্থায়ীভাবে উঠতে পারলে তা ৪ হাজার ৫০৫ ডলারের দিকে যেতে পারে। বিপরীতে দাম ৪ হাজার ৩০০ ডলারের নিচে নেমে গেলে ৪ হাজার ২০০ এবং পরে ৪ হাজার ১৫০ ডলারের দিকে নামার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্বর্ণের বাজারে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিরও বড় প্রভাব রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না এবং হরমুজ প্রণালি খোলা রয়েছে।
তবে ইরান এর বিপরীত দাবি করে জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ এখনো জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারেও। এ পরিস্থিতিতে তেলের দাম টানা চতুর্থ দিনের মতো বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অনিশ্চয়তা তাই একই সঙ্গে স্বর্ণ ও তেলের বাজারে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
(ঢাকাটাইমস/১৯ আগস্ট/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































