জ্বালানিখাতে শ্রমিকদের অধিকার খর্বের চেষ্টা চলছে: এয়াকুব

চট্রগ্রাম ব্যুরো, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৩৯
অ- অ+

বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের মহাসচিব ও যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (জেওসিএল) লেবার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ এয়াকুব।

তিনি বলেছেন, বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের অধিকার, দেশ ও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

রবিবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদে জেওসিএলের কার্যালয় ‘যমুনা ভবনে’ জ্বালানিখাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। জ্বালানিখাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের হয়রানি বন্ধ ও দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে জেওসিএলসহ জ্বালানিখাতের বিভিন্ন পর্যায়ের শ্রমিক-কর্মচারীরা অংশ নেন।

মুহাম্মদ এয়াকুব বলেন, সম্প্রতি বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। দেশে আগে থেকেই বেসরকারি পর্যায়ে অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হচ্ছে। এবার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই বেসরকারি পর্যায়ে তেল আমদানির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’

শ্রমিক অধিকার নিয়ে অভিযোগ তুলে এয়াকুব বলেন, সরকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা একটি কুচক্রী মহল শ্রমিকদের অধিকার খর্ব করে জ্বালানিখাতকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে।

তিনি অভিযোগ করেন, অযাচিত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে শ্রমিকদের বিদ্যমান ২২টি সুনির্দিষ্ট সুবিধা কাটছাঁটের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা যুগোপযোগী করার ক্ষেত্রেও গড়িমসি করা হচ্ছে। জ্বালানিখাতে শ্রম আইনকে শ্রমিকবান্ধব করার পরিবর্তে শ্রমিকবিরোধী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এয়াকুব বলেন, সরকার শ্রমিকদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলছে এবং এ জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু জ্বালানিখাতে এর উল্টোটা ঘটছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আওতাধীন পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, এসএওসিএল ও এলপিজিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিবর্তে কমানোর চেষ্টা চলছে।

শ্রমিক নেতাদের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জ্বালানিখাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের পথ রুদ্ধ করার অপচেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এয়াকুব বলেন, ‘শ্রমিক-কর্মচারীরা জ্বালানিখাতে শান্তি চায়। আমরা শান্তি চাইলেও সরকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা একটি কুচক্রী মহল শ্রমিকদের অধিকার কেড়ে নিয়ে এই খাতে অশান্তি সৃষ্টি করতে চাইছে। জ্বালানিখাতে কাউকে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না। শ্রমিক-কর্মচারীরা শুধু তাদের ন্যায্য অধিকার, হয়রানি বন্ধ এবং অযাচিত হস্তক্ষেপমুক্ত পরিবেশ চান।’

শ্রমিক নেতারা জানান, দুই বছর পরপর দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে বিপিসির তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যুগোপযোগী করা হয়। তবে সর্বশেষ চুক্তির মেয়াদ ১৯ মাস পার হতে চললেও কোম্পানিগুলোর অবহেলা ও গড়িমসির কারণে নতুন চুক্তি করা যাচ্ছে না।

তাদের অভিযোগ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে গত ১৭ জুন বিপিসির আওতাধীন কোম্পানিগুলোর ‘প্রান্তিক সুবিধা নীতিমালা-২০২৬’-এর খসড়া প্রণয়নের নামে শ্রমিক-কর্মচারীদের বিদ্যমান ২২টি সুবিধা কাটছাঁটের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০৯, ২১০ ও ২১১ ধারা রহিত করার মাধ্যমে শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার আদায়ে প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা যৌথ দর-কষাকষি প্রতিনিধি (সিবিএ) নেতাদের ক্ষমতা খর্বের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন শ্রমিক নেতারা।

তারা আরও বলেন, গত ২৬ জুলাই খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে বিপিসির পরিচালক (অপারেশন)কে আহ্বায়ক করে আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তেল বিপণন কোম্পানিগুলোতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের কার্যক্রম মনিটরিং এবং জবাবদিহির বিষয়ে সুপারিশ চাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন কোম্পানিতে কোম্পানি-সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের অধীনে ‘নো ওয়ার্ক, নো পে’ ভিত্তিতে অল্প বেতনে কাজ করা শ্রমিকদের লোকবল নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

জেওসিএল লেবার ইউনিয়নের সভাপতি আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে জ্বালানিখাতের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।

বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড ওয়ার্কার্স ফেডারেশন জ্বালানি তেল ও গ্যাসখাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের শীর্ষ সংগঠন। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, পদ্মা অয়েল কোম্পানি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, যমুনা অয়েল কোম্পানি, ইস্টার্ন রিফাইনারি, স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি ও এলপি গ্যাস লিমিটেডের সিবিএ সংগঠনগুলো নিয়ে এই সংগঠন গঠিত।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
সাগর পথে গ্রিসে যাওয়ার সময় ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু
৪৫ মামলার আসামি তৈয়ব, ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার
গোদাগাড়ীতে বিজের ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোগ ঋণ কার্যক্রমের উদ্বোধন
১২৪৪ কোটি টাকার সিড মানির ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা