পুলিশের তিন কর্মকর্তা বরখাস্ত

অসদাচরণ, দুর্নীতি, অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পুলিশের তিন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অপসারণ ও বরখাস্ত করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনগুলোতে স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
চাকরি থেকে অপসারণ ও বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—নেত্রকোনার ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. রাশেদুল ইসলাম এবং পুলিশ স্টাফ কলেজের এএসপি মো. হাবিবুল্লাহ দালাল।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মোহাম্মদ রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এ বিষয়ে তাঁকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) তাঁকে চাকরি থেকে অপসারণের গুরুদণ্ড দেওয়ার পক্ষে মত দেয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর তাঁকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়।
এদিকে, মো. হাবিবুল্লাহ দালাল ২০২৫ সালের ২২ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ছুটি ভোগ করার পর ২৬ জানুয়ারি কর্মস্থলে যোগ দেননি। সরকারি অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে তিনি অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী স্ত্রীর কাছে চলে যান বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর অননুমোদিত অনুপস্থিতির সময় ৬০ দিনের বেশি হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়।
বিভাগীয় মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ আনা হয়। তদন্তে উভয় অভিযোগ প্রমাণিত হয়। দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশেরও কোনো জবাব দেননি তিনি। পরে পিএসসি তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের পক্ষে মত দেয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
অন্যদিকে, মো. রাশেদুল ইসলাম ২০২৫ সালের ৯ মার্চ থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা, ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ ও ই-মেইলে একাধিকবার নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।
তাঁর অননুমোদিত অনুপস্থিতির সময় ৬০ দিনের বেশি হওয়ায় ২০২৫ সালের আগস্টে বিভাগীয় মামলা করা হয়। মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ আনা হয়। তদন্তে অভিযোগ দুটি প্রমাণিত হওয়ার পর তাঁকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি জবাব দেননি। পরে পিএসসি তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের পক্ষে মত দেয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ২০২৫ সালের ৯ মার্চ থেকে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
(ঢাকাটাইমস/৩ সেপ্টেম্বর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































