রেস্তোরাঁ থেকে ফুটপাতের খাবারের দোকান, ১ নভেম্বর থেকে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:১৮| আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:২০
অ- অ+

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার জন্য নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। আগামী ১ নভেম্বর থেকে এ বিধান কার্যকর হবে।

গত ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়। নতুন বিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্য স্থাপনাকে নিবন্ধন নিতে হবে। বিশেষ শ্রেণির খাদ্যপণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মজুত, আমদানি ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য লাইসেন্সও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নতুন নিয়মের আওতায় রাস্তার পাশের অস্থায়ী খাবারের দোকান থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান, ক্যাটারিং সেবা, প্যাকেটজাত খাবার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও খাদ্য আমদানিকারকেরা পড়বেন। পিঠা, পুরি ও পেঁয়াজুর মতো খাবারের ব্যবসায়ীদেরও নির্ধারিত নিয়মে নিবন্ধন নিতে হবে।

প্রবিধানমালায় ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্য স্থাপনার জন্য নিবন্ধনের বিধান রাখা হয়েছে। এসব শ্রেণির মধ্যে রয়েছে রেস্তোরাঁ, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ, দুগ্ধজাত পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, খাদ্য সংরক্ষণাগার ও কোল্ড স্টোরেজ। এ ছাড়া ভোজ্যতেল ও লবণ উৎপাদন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং নির্ধারিত খাদ্যপণ্যের আমদানি-রপ্তানি ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসার ক্ষেত্রেও বিধান অনুযায়ী নিবন্ধন নিতে হবে।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্য এবং প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্যের মতো বিশেষায়িত পণ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মজুত, আমদানি ও বিপণনের জন্য লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শিশুদের ফর্মুলা দুধসহ বিশেষ ধরনের খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বিধান অনুসরণ করতে হবে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রবিধানমালার তফশিল-১০-এ নির্ধারিত ফি পরিশোধ এবং সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণ করে আবেদন করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত ফরম ৫.১ এবং লাইসেন্সের জন্য প্রযোজ্য ফরম ৬.১, ৭.১, ৮.১ ও ৯.১ ব্যবহার করতে হবে।

প্রবিধান অনুযায়ী, নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। এরপর তা নবায়ন করতে হবে। প্রচলিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধনের জন্য ফি লাগবে না। বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য লাইসেন্স ফি প্রতিষ্ঠানের আয়তন ও সংশ্লিষ্ট বিধানের ওপর নির্ভর করবে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হওয়া সত্ত্বেও তা ছাড়া খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও লাইসেন্স নেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয় থেকে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আবেদন করা যাবে। ধাপে ধাপে অনলাইনে আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থাও চালু করা হবে। এ ছাড়া খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বিএফএসএর নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করার বিধান রাখা হয়েছে। এতে ভোক্তারা পণ্যের নিবন্ধন সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং অভিযোগের ক্ষেত্রেও নম্বরটি ব্যবহার করতে পারবেন।

কর্তৃপক্ষের আশা, নতুন প্রবিধানমালার মাধ্যমে খাদ্য ব্যবসায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
২৫ অক্টোবর থেকে ঢাকা-রিয়াদ ফ্লাইট চালু, দাম্মামের ফ্লাইট আজ থেকে
চাঁদপুরে পুলিশের অভিযানে ওয়ান শুটার গানসহ যুবক গ্রেপ্তার
ফের চালু হচ্ছে ডিভি লটারি, বাংলাদেশিরা কি আবেদন করতে পারবেন?
হিলিতে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত কৃষক