আ.লীগ নেতা ডন হত্যার পরিকল্পনা হয় জেলে

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জেড এ মাহমুদ ডন হত্যার পরিকল্পনা খুলনা কারাগারে হয় বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন কারাগারে আটক মূল পরিকল্পনাকারীর স্ত্রী। হত্যা মিশনে যারা অংশ নিয়েছিল, তাদের কাছে তিনি টাকাও পৌঁছে দেন। তবে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় বেঁচে যান ডন।
গত ৩১ ডিসেম্বর নগরীর দোলখোলা শীতলা বাড়ি মন্দিরের অদূরে ডনকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গৃহবধূ শিপ্রা রানী কুন্ডু নিহত হন। শিপ্রা ওই সময় ফুল কিনতে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। ওই ঘটনায় রাতেই জেড এ মাহমুদ ডনকে বহনকারী মোটরসাইকেল চালক মো. ইব্রাহিম হোসেন বাদী হয়ে ছয়জন অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় মামলা করেন।
ডন হত্যা চেষ্টার পরিকল্পনাকারী খুলনা কারাগারে থাকা পলাশ শেখ ওরফে পলাশের স্ত্রী সাকিয়া ইসলাম জুঁই গত সোমবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাতে তিনি বলেন, খুলনা জেলে থাকা তার স্বামীর নির্দেশে ডনকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।
খুলনা মহানগর হাকিম মো. আমিরুল ইসলামের আদালতে জুঁই তার জবানবন্দিতে পরিকল্পনার বিভিন্ন তথ্য ও হত্যা মিশনে অংশ নেয়া বিভিন্ন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেন।এর আগে গত রবিবার গভীর রাতে নগরীর পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় অভিযান চালিয়ে জুঁইকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
খুলনা সদর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপর মেহেদী হাসান বাবু ওরফে কারেন্ট বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যা মিশনে জড়িতদের নাম জানা যায়। সে অনুযায়ী উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে খুনিদের ভারতে পালিয়ে যাওয়ার আগেই বেনাপোল থেকে হাফিজুর ও সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
হাফিজুর ও সেলিম গত ১১ জানুয়ারি আদালতে জবানবন্দি দেন। কারেন্ট বাবু, হাফিজুর ও সেলিমের স্বীকারোক্তির সূত্র ধরে গত শনিবার গভীর রাতে মিরাজ সরদারকে ২ নম্বর কাস্টমঘাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জবানবন্দিতে মিরাজ নিজে জড়িত এবং হত্যা চেষ্টা মিশনে অংশ নেয়া সবার নাম প্রকাশ করেন।
মিরাজের স্বীকারোক্তির সূত্র ধরে পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় জুঁইয়ের বাবার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে ডন হত্যা চেষ্টা মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
আদালতে জুঁই ডনকে হত্যার পরিকল্পনাসহ কিলিং মিশনে অংশ নেয়া সবার নাম প্রকাশ করেন। এমনকি ঘটনার আগের দিন ৩০ ডিসেম্বর টুটপাড়া জোড়াকল বাজারে গিয়ে লিমনকে ২০ হাজার টাকা দেন বলে জানান। তিনি বলেন, কারাগারে বসে ডনকে হত্যার পরিকল্পনা করে তার স্বামী পলাশ ও অমিত। পলাশের বিরুদ্ধে মাদক ও মারামারির একাধিক মামলা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী শাহিন কাজ বাস্তবায়নে ডনকে হত্যার চেষ্টা চালায়। নঈম ও পেচা আরো ১০ হাজার টাকার জন্য তাকে দেখা করতে বলে।
ওসি বলেন, মিরাজ ও জুঁইসহ এ মামলায় মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা জেড এ মাহমুদ ডন বলেন, ‘আমার ওপর বোমা হামলার ঘটনার যদি সঠিক তদন্ত হতো তাহলে আর এই ঘটনা ঘটত না। যারা বোমা হামলা চালিয়েছিল তারাই পরে হত্যার চেষ্টা চালায়।’ এর পেছনে রাঘববোয়ালরা আছে দাবি করে ডন বলেন, তারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
(ঢাকাটাইমস/১৭জানুয়ারি/প্রতিনিধি/জেডএ/মোআ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































