শহর ফুঁড়ে ড্রেজারের পাইপ: ডিসির নির্দেশ মানছেন না ইউএনও

মঞ্জুর রহমান, মানিকগঞ্জ থেকে
| আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৭, ১৭:১৩ | প্রকাশিত : ২০ জানুয়ারি ২০১৭, ১৪:৫৭

সরকারি কাজের নাম ভাঙ্গিয়ে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে শহরের প্রধান সড়কের ওপর দিয়ে বসানো সেই ড্রেজারের পাইপ এখনো সরানো হয়নি। জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌস ড্রেজারের পাইপ সরিয়ে নিতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাদত খন্দকারকে একাধিকবার নির্দেশ দিলেও তিনি সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন করছেন না। সর্বশেষ গত ১৮ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌস এই প্রতিবেদকের সামনেই সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতাকে ফোন করে জনমনের অস্বস্তির কথা জানিয়ে ওই দিনের মধ্যে ড্রেজারের পাইপ সরানোর নির্দেশ দেন।

গত ৪ জানুয়ারি পৌরসভা মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম ঢাকাটাইমসকে জানিয়েছিলেন, শহর ফুঁড়ে নেওয়া ড্রেজারের পাইপ সরাতে ঠিকাদারকে সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সাত দিনের মধ্যে ড্রেজারের পাইপ ঠিকাদার নিজ দায়িত্বে না সরালে পৌরসভার পক্ষ থেকে তা অপসারণ করা হবে। এ বিষয়ে গত ৬ জানুয়ারি ঢাকাটাইমসে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। কিন্তু মেয়রের বেধে দেওয়া সময় ১১ জানুয়ারি শেষ হয়ে আরও দের সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও ঠিকাদার ড্রেজারের পাইপ সরিয়ে নিচ্ছে না। এরপর পৌর কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় এবং  ড্রেজারের পাইপ না সরানোয় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গত ১৩ নভেম্বর এ বিষয়ে ঢাকাটাইমসে ‘শহর ফুঁড়ে মাটি তোলার পাইপ, মানিকগঞ্জে ভোগান্তি’ এই শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌস ও  কলেজের অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান ঢাকাটাইমকে বলেছিলেন, সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের মাঠ ভরাট শেষ হলে ঠিকাদার ড্রেজারের পাইপ সরিয়ে নেবে। গত প্রায় একমাস আগে সরকারি কাজ শেষ করে ঠিকাদার ড্রেজারের পাইপ বাড়িয়ে নিয়ে গেছেন দেবেন্দ্র কলেজের পেছনের বনগ্রাম চকে। সেখানে অন্য মানুষের নিচু জমিতে বালু ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। বিষয়টি সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ ও জেলা প্রশাসনের নজরে আনলে সে সময় নড়েচড়ে বসেন তারা। শহরের উপর দিয়ে নেয়া ড্রেজারের পাইপ দ্রুত অপসারণ করে যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন করার কথা জানিয়েছিলেন তারা। এ বিষয়ে গত ৬ জানুয়ারি  ঢাকাটাইমসে ‘কাজ শেষেও পড়ে আছে শহর ফোঁড়া সেই ড্রেজারের পাইপ’ এই শিরোনামে আবার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

তখন মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান ঢাকাটাইমসকে বলেছিলেন, আমার কলেজের মাঠে মাটি ফেলার কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি আমি সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। তিনি জানান, ড্রেজারের পাইপ সরিয়ে নিলে তার কোনো সমস্যা নেই।

মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম ঢাকাটাইমসকে বলেছিলেন, কলেজের নিজস্ব কাজ হওয়ায় এতদিন পাইপ সরানো হয়নি। তিনি জানতে পেরেছেন কলেজের মাটি ফেলার কাজ শেষ হয়ে গেছে। তিনি   কলেজের অধ্যক্ষকে চিঠি দিয়েছে ওই পাইপ সরিয়ে ফেলতে বলবেন।  

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদত খন্দকার ৪ জানুয়ারি ঢাকাটাইমসের কাছে দাবি করেন, ড্রেজারের পাইপ সরিয়ে ফেলতে ঠিকাদারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে ঠিকাদার পাইপ না সারালে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কথা বলতে গত ১৮ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌসের কাছে যান এই প্রতিবেদক। এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, আমি নির্দেশ দেওয়ার পরও ড্রেজারের পাইপ সরানো হয়নি। এটি আমার জানা ছিল না। এ প্রতিবেদকের সামনেই জেলা প্রশাসক সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদত খন্দকারকে নির্দেশ দেন আজকের মধ্যে ড্রেজারের পাইপ সরিয়ে ফেলতে।   এরপর গত তিন দিন অতিবাহিত হলেও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদত খন্দকার ড্রেজারের পাইপ সরিয়ে দেয়নি। ব্যবস্থা নেয়নি ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। শহর দিয়ে চলাচল করা ভুক্তভোগীরা জানান, শহরের প্রধান সড়কের ওপর দিয়ে নেওয়া ড্রেজারের পাইপ থাকায় সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত ড্রেজারের পাইপ সরিয়ে ফেলার দাবি জানান তারা।

(ঢাকাটাইমস/২০জানুয়ারি/প্রতিনিধি/জেডএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত