রাজধানীর বুকে এক টুকরো গ্রাম

লেখা ও ছবি : শেখ সাইফ
  প্রকাশিত : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৬:১৮
অ- অ+

ফুলে ফুলে ছেয়ে আছে শিমের লতা। সজনে ডাটায় ভরে আছে গাছ। চালের উপর পুঁই শাক। এর এক পাশে আবার চালকুমড়োর গড়াগড়ি। পাশেই লাউয়ের মাচা। তার পাশে ছোট্ট সবজির ক্ষেত। আবহমান গ্রাম বাংলার এমন চিত্রে অভ্যস্ত আমরা। কিন্তু রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রবিন্দুতে যদি এমনটা চোখে পড়ে!

হা, এমন দৃশ্যের খোঁজ পাবেন। বেশি দূরে যেতে হবে না। জাতীয় সংসদ ভবনের অদূরেই মিলবে এক টুকরো গ্রাম। আসলে কিন্তু গ্রাম নয়। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই আছে গ্রামীণ আবহের এক জনবসতি।

দিন কয়েক আগে সেই গ্রাম ঘুরে দেখা হলো। হাঁস-মুরগির ডাকাডাকি আছে। সবুজ ঘাসে ছাওয়া মাঠে চরে বেড়াচ্ছে ছাগল।

কাগজপত্রে এটা কিন্তু গ্রাম নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আবাসস্থল। এর নাম মুসলিমপাড়া। শহরের বুকে অনেকটা গ্রামীণ পরিবেশের মধ্যেই আছেন এখানকার বাসিন্দারা।

কথা হয় মজিদ নামে একজন বয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে। তিনি গরুর খাবার সংগ্রহে ব্যস্ত। জানালেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আবাসন সংকটের কারণে এই গ্রাম গড়ে উঠেছে।

এই গ্রামের পথ ধরে যেতে যেতে রাস্তার পাশে দেখা মিললো ঝুলে থাকা কলার কাঁদি। আছে বাঁশের ঝাড়, কাঁঠালের তলা। সেখানে শুকনো পাতা মাড়িয়ে যেতে যেতে দূরের কোনো গাঁয়ের কথাই মনে পড়বে।

রাস্তার ধারে রোদে দেওয়া হয়েছে গোবরের খড়ি। বাড়ির আঙিনায় মাটির চুলায় রান্না করা হচ্ছে। চলতে চলতে দেখা মিললো উঠানে বসে কিছু নারী মাথার উকুন দেখছেন। কেউবা মাথায় তেল দিচ্ছেন। বাড়ির ধারে ঘাসের মাঠে বসে জনাচারেক পুরুষ লুডু খেলছেন। বাচ্চারা সাইকেলের টায়ার ঘুরিয়ে খেলছে।

টং দোকানে বসে উঠতি বয়সের ছেলেরা আড্ডায় মশগুল। ক্যামেরা বের করে ছবি তুলতেই মহিলারা মাথার ঘোমটা টেনে ঘরের ভেতর চলে যাচ্ছে। শিশুরা বিস্ময় নিয়ে ক্যামেরা দেখছে। এক ব্যক্তি জানতে চাইলেন, ‘ভাই কিসের ছবি তোলেন?’

তার নাম ইয়াহিয়া খান। বিশ্ববিদ্যালয়ের পিয়নের কাজ করেন। তিনি জানালেন, মুসলিম পাড়ায় গ্যাস সংযোগ নেই। তবে নলের পানি আর বিদ্যুৎ সুবিধা আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারীদের জন্য যে আবাসন ব্যবস্থা আছে তার তুলনায় জনবল অনেক বেশি। তাই এখানে তারা এখানে থাকছেন। নতুন একটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। কিছুদিন পর অনেকেই সেই ভবনে চলে যাবে। কেউ কেউ থেকে যাবে। তাই এই পাড়া আপাতত বিলুপ্ত হচ্ছে না।

মুসলিমপাড়ার কেউ কেউ গরু, ছাগল পালন করেন। একটি গোয়ালে গোটা দশেক গরু দেখা গেল। একজন জানালেন, এটা ব্যক্তি উদ্যোগে তৈরি খামার। মুসলিমপাড়ায় আরো কয়েকটি গরুর খামার আছে।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কোনো কর্মচারী আত্মীয় নিয়ে এখানে থাকেন। এমনি একজন মতলব মণ্ডল। পেশায় রিকশাচালক। তার এক ভাই এখানকার কর্মচারী। স্ত্রী, দুই ছেলে আর এক মেয়ে নিয়ে এখানে আছেন মতলব।

আরেক বাড়িতে ঘরের দরজায় বসে মাথায় তেল দিচ্ছিলেন রোজিনা বেগম। তিনি জানালেন, এখানে লাউ, কুমড়ো, শিম, টমেটো, লাল শাক, পুঁইশাক, কলা, পেয়াজ প্রভৃতি উৎপাদন করেন। তার দুইটা ছাগল, কিছু হাঁস-মুরগিও আছে। স্বামী আর দুই সন্তান নিয়ে এখানে আছেন। তার স্বামীর এক ভাই এখানে চাকরি করেন বলে জানান রোজিনা।

সারি সারি নারিকেল গাছে ঘেরা একটি পুকুরও আছে মুসলিমপাড়ায়। সবমিলে মায়াময়, ছায়াময় একটি গ্রামের আরাম মিলবে এখানে। ঘুরে দেখলে চোখ জুড়াবে, এ কথা নিশ্চিত করেই বলা যায়। তো আপনিও একবার দেখে আসুন না, নগরের বুকে থাকা এই গ্রাম।

ঢাকাটাইমস/০৫ফেব্রুয়ারি/এসএস/টিএমএইচ

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
চীনের জুতার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৮
এমপি হিসেবে শপথ নিলেন বিএনপির সারোয়ার আলমগীর
জিম্বাবুয়ের কাছে ১৩ রানে হার, সিরিজে সমতায় বাংলাদেশ
নিম্নমানের শিশুখাদ্য ও কসমেটিক বিক্রি, বসুন্ধরা শপিংমলে ২ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা