গণভোট: তুর্কি-ইউরোপ বিবাদ চরমে

প্রবাসী তুর্কিদের মধ্যে তুরস্কে অনুষ্ঠেয় এক গণভোটের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে তুরস্কের সঙ্গে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের সম্পর্কের চরম অবনতি হয়েছে। নতুন করে এই ইস্যুতে সুইডেনের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়েছে তুরস্ক।
এর আগে তুরস্কের সঙ্গে জার্মানি, নেদারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া ও সুইৎজারল্যান্ডের মধ্যে তিক্ততা তৈরি হয়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আগামী মাসে দেশটিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই গণভোটের পক্ষে প্রবাসী তুর্কিদের ভোট জোগাড়ে সরকার ইউরোপের দেশগুলোতে প্রচারণার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু তাতে রাজী হচ্ছে না একের পর এক ইউরোপের দেশ। আর এ নিয়ে ওই দেশগুলোর সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়েছে এরদোয়ান সরকারের। তুরস্কের সরকার চাইছে ইউরোপের দেশগুলোতে বসবাসরত তার্কিশরা যেনো এই ভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে থাকেন। কিন্তু জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও নেদারল্যান্ড নিরাপত্তা ইস্যুতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে দেয়নি। অপরদিকে ফ্রান্সে গণভোটের পক্ষে এক সমাবেশ হয়েছে বলে জানা যায়। কারণ ফ্রান্স নাকি এখানে নিরাপত্তার কোন সমস্যা দেখছে না।
জানা যায়, এরদোয়ানের পক্ষে প্রচারণার জন্যে স্টকহোমে যে হল ঘরটি ভাড়া করা হয়েছিল সেটির অনুমতি তার মালিক প্রত্যাহার করে নেয়। এরপরেই ক্ষিপ্ত হয় তুরস্ক। সুইডেনে বসবাসকারী তুর্কী-বিরোধী নেতারা, এই প্রচারণাকে খুবই উস্কানিমূলক বলে মন্তব্য করেছেন।
এর আগে তুরস্কের আরো দুজন মন্ত্রীকে নেদারল্যান্ডসে প্রচারণার অনুমতি না দেওয়ায় ওই দেশটির সঙ্গেও বিরোধ বাঁধে তুরস্কের। একই ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে অস্ট্রিয়া, জার্মানি আর সুইৎজারল্যান্ড।
নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে পরিস্থিতি এতটাই তিক্ত হয়ে পড়েছে যে ইস্তানম্বুলে সরকার সমর্থকরা ডাচ কনসুলেট ভবনে দেশটির পতাকা খুলে তুরস্কের পতাকা উড়িয়ে দেয়। এরদোয়ান হুঁশিয়ার করে বলেছেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিনষ্ট করার জন্য নেদারল্যান্ডসকে চড়া মূল্য দিতে হবে।
জার্মান ও ডাচদের অবশিষ্ট নাৎসি ও উগ্রবাদী বলে মন্তব্য করেছন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান। তিনি হুমকি দিয়েছেন যে, পাল্টা ব্যবস্থা হিসাবে তুরস্কে ডাচ বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে।
এর জবাবে ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটে বলেন, এরদোয়ানের মন্তব্য শিষ্টাচারের বাইরে। এ ধরনের হুমকির ফলে দুই দেশের মধ্যে সমস্যার সমাধান বরং অসম্ভব হয়ে উঠছে বলে সরকারি একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
অপরদিকে জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, আশা করছি তুরস্কের হুঁশ ফিরে আসবে। এরদোয়ানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এক বৈঠকও স্থগিত করেছে ডেনমার্ক। ডেনমার্ক জানায়, ‘হল্যান্ড সম্পর্কে তুরস্কের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর এই মুহূর্তে আলোচনার টেবিলে বসা সম্ভব নয়।’
(ঢাকাটাইমস/১৩মার্চ/জেএস)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































