নারায়ণগঞ্জে জমি নিয়ে বিধবার বিরুদ্ধে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২১ মে ২০১৭, ২০:২২

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগকারী বিধবা নারী আছমা বেগম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিপক্ষ জমির মালিক দাবিদার ডা. আমিরুল ইসলাম। ওই জমির দাবিদার ডা. আমিরুল ইসলাম বিধবা আছমা বেগমকে সন্ত্রাসী, লোভী ও লেডি সন্ত্রাসী বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, ওসি মুহা. সরাফত উল্লাহ আছমা বেগমকে সহযোগিতা করছেন। তারা ওসির কাছে কোনো সহযোগিতা না পেয়ে পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের অনেক প্রশ্নেরই উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

রবিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের হানিফ খান মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করেন জমির মালিক দাবিদার ডা. আমিরুল ইসলাম। এসময় তার পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ডা. আমিনুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২০১০ সালে আটজন মিলে ১৭৯ দাগে ১১.৪০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন তারা। তখন থেকেই নামজারি জমাভাগ এবং খাজনা পরিশোধ করে ভোগ দখল করে আসছেন। তিনি দাবি করেন, গত ১৮ মে মৌচাক এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী জমি দখল করে জোরপূর্বক ভাড়াটিয়াদের বের করে দেন আসমা বেগম, মেয়ের জামাতা মো. ইউসুফ, মো. শাহ আলম, ভাই মো. হানিফ ও মো. আলী। এসময় ভাড়াটিয়াদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন তারা। হামলার বিষয়ে থানা পুলিশের কাছে সহযোগিতা না পেয়ে গত ২০ মে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দেয়া হয়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত পুলিশের কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি বলে জানান তিনি। আসমা নিজেকে বিধবা ও নিরীহ দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি একজন লেডি-সন্ত্রাসী বলে দাবি করেন আমিনুল ইসলাম।

এর আগে ১০ মে একইভাবে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে বিধবা আছমা বেগম ও তার পরিবারকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ওই জমির মালিক দাবিদার সাকিব বিন মাহমুদের বাবা ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মুহা. সরাফত উল্লাহসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসানোর পাশাপাশি জমি দখলে ভূমিদস্যুদের সহযোগিতা করার অভিযোগ করেন বিধবা নারী আছমা বেগম। তিনি অভিযোগ করেন, তার ছোট ভাই মোহাম্মদ আলীসহ তিনজনকে মাদক সেবনের মিথ্যা অভিযোগ ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠানো হয় এবং তার কাছে কয়েক দফা ঘুষ নেয়াসহ ১৮ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।

এই ঘটনায় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং তদন্ত কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। কারাগারে ১৯ দিন আটক থাকার পর গত ১৬ মে আছমা বেগমের ভাই মোহাম্মদ আলী, মেয়েজামাতা ইউসুফ ও ওমর ফারুক কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্তে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মুহা. সরাফত উল্লাহ, পরিদর্শক আবুল হোসেন এবং এসআই ফারুক হোসেনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মাদক দিয়ে ফাঁসানো ও জমি দখলে সহায়তা এবং ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের সত্যতা পান এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সুপারিশ করেন।

(ঢাকাটাইমস/২১মে/প্রতিনিধি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত