সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভরসা নেই অভিভাবকদের

ফয়সাল আহমেদ, শ্রীপুর, গাজীপুর
 | প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০১৮, ১৫:১৩

গাজীপুরের শ্রীপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন অভিভাবকরা। বাড়ির পাশেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও নিজেদের সন্তানকে ভর্তি করাচ্ছেন বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনগুলোতে। কর্তৃপক্ষের সঠিক নজরদারির অভাব, রাজনৈতিক বেড়াজাল ও অনিয়ম দুর্নীতির কারনে দিনদিন নিম্নমুখী হচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর পড়াশুনার মান। বাধ্য হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুকছেন অভিভাবকরা। তবে বিত্তবানদের সন্তানরা টাকার বিনিময়ে মানসম্মত শিক্ষা পেলেও বঞ্চিত হচ্ছেন দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা।  উপজেলা শিক্ষা অফিস, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে জানা যায়, শ্রীপুর উপজেলার ১৬৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এক লাখ তিন হাজার পাঁচশত পঞ্চাশ জন শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছে। যদিও এসব বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র চৌদ্দ হাজার একশত। বিপরীতে বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে দুইশত পঞ্চাশটি। সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য  রয়েছে ৪৫টি ও সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ৫৫টি। এ গ্রেডের অন্তর্ভূক্ত হয়েছে ৫৮টি বিদ্যালয়। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭১টির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে। বিদ্যালয়গুলোকে সাতটি ক্লাস্টারে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে রয়েছে পরিচালনা পরিষদ যাদের অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী। মূলত প্রধান শিক্ষককে নিজ হাতের মুঠোয় বন্দি করে তাঁরা গড়ে তুলেন বাণিজ্য। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবাধে শিক্ষার্থীদের নোট গাইড বই ক্রয়, কোচিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিটি স্তরে স্তরে চলে অর্থ আদায় পরীক্ষার ফি, খেলাধুলার ফি, উন্নয়ন ফির নাম দিয়ে পকেট ভারি করতে ব্যস্ত থাকেন শিক্ষকরা। প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদানে অমনোযোগী হয়ে পড়ছেন সরকারি শিক্ষকরা। তাই সচেতন অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানদের বেসরকারী কিন্ডারগার্টেনের দিকে ঝুঁকছেন। এসব সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে বছরের বিভিন্ন সময় সরকারি অর্থেরও অপচয় হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা। কাজের ক্ষেত্রে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকরা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। মূলত প্রাথমিক শিক্ষায় বাণিজ্য তৈরি হওয়ায় বিনামূল্যের প্রাথমিক শিক্ষা হতে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

ধনুয়া এলাকার আহাম্মদ আলী নামের একজন অভিভাবক জানান, তাঁর বাড়ির পাশেই রয়েছে ধনুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।কিন্তু এখানে কোন ধরনের লেখাপড়া হয় না। শিক্ষার্থীরা খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকেন। তাই তাঁর চতুর্থ শ্রেণি পড়ুয়া ছেলেকে মাওনা চৌরাস্তার শাহীন ক্যাডেট একাডেমিতে ভর্তি করেছেন তিনি।  এতে তাঁর খরচ হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা।

মুলাইদ গ্রামের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আজিজুল হক জানান, তাঁর তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীর জন্যও গাইড বই কিনতে হয়েছে, শিক্ষকদের আদেশ। এছাড়াও প্রতিদিন বিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক কোচিং করতে হয়। সরকারি ও বেসরকারী শিক্ষায় সবই এখন খরচ করতে হয়। একই কথা জানালেন বদনীভাঙ্গা গ্রামের মোবারক হোসেন নামের এক অভিভাবক। তিনি বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো এমন এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিছুটা পড়াশোনা হলেও মফস্বল এলাকায় লেখাপড়া তেমন নেই। তার এলাকার বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাই ঠিকমত আসেন না।

এ বিষয়ে মুলাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনুকুল সরকারের মতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান বাড়ানোর লক্ষ্যে তিনি কোচিং করান। তবে বৈধ কি অবৈধ এ বিষয়ে তিনি বলতে পারবেন না। সবকিছুই পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্ত  মোতাবেক করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সরকারের নিয়ম মোতাবেক প্রাথমিক শিক্ষা পরিচালিত হচ্ছে। তবে সে সকল প্রতিষ্ঠানে কোচিং নোট গাইড বইয়ের ব্যবহার আছে তা বন্ধের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

(ঢাকাটাইমস/২১ এপ্রিল/প্রতিনিধি/ওআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত