দেশরত্ন থেকে বিশ্বরত্ন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিবাদন

শফী আহমেদ
| আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০১৬, ১৯:১৮ | প্রকাশিত : ০৫ অক্টোবর ২০১৬, ২১:২৬

কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত লিখেছেন ‘জম্মিলে মরিতে হবে অমর কে কোথা কবে? চিরস্থির কবে নীর হায়রে জীবন নদে?’’ কিন্তু কোন কোন মানুষের জীবন চিরস্থির হয় তার সংগ্রাম, কর্মের সাফল্য ও স্থায়িত্বের মাধ্যমে। মানুষের জীবন নশ্বর হলেও কর্মের মাধ্যমে ইতিহাসে কেউ কেউ অবিনশ্বর বা অমরত্ব লাভ করেছেন। এমনি এক অবিনশ্বর চিত্তের নেত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমানের কন্যা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। কদিন আগে উদযাপন হয়েছে তার ৭০তম জন্মদিন।

জন্ম তব শুভ হোক, শতায়ু হোন আপনি হে দেশরত্ন। এই দেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার কাণ্ডারি হিসেবে ইতিমধ্যে আপনি নিজেকে বিশ্বদরবারে এক অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মধূমতি নদীর তীরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বেগম ফজিলাতুননেসা মুজিবের গর্ভে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যশিক্ষা শিক্ষা লাভের পর ১৯৫৬ সালে তিনি টিকাটুলির নারী শিক্ষামন্দির স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে তিনি মেট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি সরকারি ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজে অধ্যয়ন করেন। শৈশবেই পারিবারিক পরিবেশে তিনি রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে যুক্ত হয়ে পড়েন। কলেজে অধ্যয়নের পাশাপাশি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং সরকারি ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ ছাত্রী সংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর তিনি ঢাকা ব্শ্বিবিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং বাংলা সাহিত্যে ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী থাকা অবস্থায় পারিবারিকভাবে ১৯৬৭ সালে বিশিষ্ট পরমানু বিজ্ঞানী (প্রয়াত) ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দুই সন্তান। মা-বাবার নিরলস প্রচেষ্টার কারণে শিক্ষা ও ভালবাসায় ইতিমধ্যে তারা বিশ্ব আসনে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি একজন স্নেহদায়িনী গর্বিত মা। দেশরত্ন শেখ হাসিনার পুত্র বিশিষ্ট আইসিটি বিশেষজ্ঞ জাতিসংঘ কর্তৃক আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত সজীব ওয়াজেদ জয় ও কন্যা বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানী প্রতিবন্ধীদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার অভিপ্রায়ে নিয়োজিত ও আন্তর্জাতিকভাবে পুরস্কৃত সায়েমা ওয়াজেদ পুতুল।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে একাত্তরের পরাজিত শক্তির মদদে ঘাতকেরা নির্মমভাবে সপরিবারে হত্যা করে। এর দু’দিন আগে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা জার্মানিতে চলে যান। প্রবাসে অবস্থান করায় তারা প্রাণে বেঁচে যান। পৃথিবীর বাস্তবতা এতই নিষ্ঠুর এবং নির্মম যে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর যাদেরকে বঙ্গবন্ধু বিদেশে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন কোন কোন ব্যতিক্রমী মানুষ ছাড়া তাদের আর কেউ বঙ্গবন্ধু কন্যাদ্বয়কে আশ্রয় দিতে রাজি হয়নি। এর কিছুদিন পর পিতৃমাতৃ ও স্বজনহারা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সহযোগিতায় দিল্লীতে আসেন। বাংলাদেশে তখন চলছে বঙ্গবন্ধু খুনের মদদদাতা জিয়ার সামরিক শাসনের স্টিম রোলার। বারবার দেশে ফিরে আসার চেষ্টা করেও জেনারেল জিয়ার অব্যাহত বাধার কারণে দেশে আসতে পারেননি তিনি। কালের পরিক্রমায় ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগ সর্বসম্মতিক্রমে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করে। ১৯৮১ সালের ১৭মে জননেত্রী শেখ হাসিনা এক প্রতিকূল পরিবেশে ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ বাংলাদেশে ঢোকেন। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর বাংলার মানুষ নীরবে কেঁদেছিল। কিন্তু ১৯৮১ সালের ১৭মে প্রকৃতি কেঁদেছিল অঝর ধারায়। জননেত্রী শেখ হাসিনা সভানেত্রী হিসেবে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নিয়ে দল পুনর্গঠন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নিজেকে নিরলসভাবে নিয়োজিত করেন। দলের অভ্যন্তর থেকে তাকে পদে পদে বাধাগ্রস্ত করা হয়।

১৯৮১ সালের ৩১মে খুন হন খুনি জিয়া। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদ এক রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখল করে সামরিক শাসন জারি করেন। শুরু হয় সংগ্রামের নবতর অধ্যায়। শেখ হাসিনার উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের দলগুলোকে নিয়ে গঠিত হয় ১৫ দলীয় ঐক্যজোট। শিক্ষাঙ্গনে গঠিত হয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ। ক্ষমতা দখল করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বারবার গৃহবন্দী করেন এবং তাকে হত্যা করার নানারকম অপচেষ্টা করেন। আন্দোলনের চাপে ১৯৮৬ সালে জেনারেল এরশাদ সংসদ নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। সেই নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ৮দলীয় জোট সংখ্যাগরিষ্ট আসন লাভ করে। কিন্তু জেনারেল এরশাদ মিডিয়া ক্যুর মাধ্যমে ফলাফল পাল্টে দেয়।

১৯৮৮ সালে জেনারেল এরশাদ একদলীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার চেষ্টা করেন। তৎকালীন সময়ে ৮, ৭, ৫ দলীয় জোট যুগপতভাবে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন অব্যাহত রাখে। এই দীর্ঘ আন্দোলনে শহীদ হন জাফর, জয়নাল, মোজ্জাম্মেল কাঞ্চন, দীপালী সাহা, অ্যাডভোকেট ময়েজ উদ্দীন আহমেদ, শাজাহান সিরাজ, রাউফুন বসুনিয়া, নূর হোসেনসহ অসংখ্য নেতাকর্মী। পরিশেষে ১৯৯০ সালে গঠিত হয় সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য। রাজনৈতিক অঙ্গনে জননেত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে প্রণীত হয় তিন জোটের ঐতিহাসিক রূপরেখা। শহীদ ডাক্তার মিলনের রক্তদানের মধ্য দিয়ে প্রবাহীত আন্দোলন সফলতার মুখ দেখে।

১৯৯০ সালের ৪ ডিসেম্বর সামরিক জান্তা এরশাদ পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন। তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী গঠিত হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সুক্ষ্ম কারচুপির মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে স্বাধীনতা পরিপন্থী ভাবধারায় বিশ্বাসী শক্তি। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ়চিত্তে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার দীর্ঘ ২১বছর পর আওয়ামী লীগ পুনরায় সরকার গঠন করতে সমর্থ হয়। এ এক অভাবনীয় ও অকল্পনীয় দৃশ্যপট। জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুবিহীন বাংলাদেশে সরকার গঠন করে এর প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সময়কালে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। উদ্যোগ নেন জাতীয় জীবনে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সমস্যাগুলো দূর করতে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা পার্বত্য অঞ্চলের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে শেখ হাসিনার উদ্যোগে। ১৯৯৭ সালের ২ডিসেম্বর ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তি চুক্তি সাক্ষরিত হয়। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর সমঝোতার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টন চুক্তি সম্পাদন করেন। এই চুক্তি দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা একটি রাজনৈতিক ইস্যুর পরিসমাপ্তি ঘটায়। যেখানে হেনরি কিসিঞ্জার তাচ্ছিল্য করে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ হচ্ছে তলাবিহীন ঝুড়ি’। সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করে খাদ্যে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়।

ওই মেয়াদে তিনি সমাজ জীবনের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ ও দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার নানা উদ্যোগ নেন। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে প্রচলিত আইনে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু করেন এবং জজ আদালতে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের প্রাথমিক রায় সম্পন্ন হয়।

কিন্তু আন্তর্জাতিক চক্রান্তের কারণে ২০০১ সালের নির্বাচনে পুনরায় ক্ষমতাসীন হয় স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি। বাংলার মানুষের ভাগ্যে নেমে আসে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ।  সেই দুর্ভোগ এবং দুর্যোগের মধ্যেও জননেত্রী শেখ হাসিনা বিচলিত হননি। তার অদম্য সাহসে পরিচালিত আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হয় ‘ইয়েস উদ্দীন’ মার্কা ইয়াজউদ্দীন সরকার। আবারো ক্ষমতা দখল করে সামরিকবাহিনী সমর্থিত ফখরুদ্দীন মঈনুদ্দীন গংরা। জারি করে জরুরি অবস্থা। ২০০৭ সালের ৭ জুলাই জননেত্রী শেখ হাসিনাকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে ফখরুদ্দীন মঈনুদ্দীনের সরকার। জনতার দুর্বার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জননেত্রী ২০০৮ সালের ১১ জুন মুক্তি লাভ করেন।

জরুরি অবস্থার সরকার দেশে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আসনে জয়লাভ করে। বিজয়ী দলের সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে তিনি ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তার দল আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে ২৬০টি আসন লাভ করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ পদার্পন করে উন্নয়নের মহাসড়কে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় সর্বোচ্চ আদালতে গৃহীত হবার পর বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের একে একে ফাঁসিরকাষ্ঠে ঝুলিয়ে রায় কার্যকর করা হয়। এখানো যে কয়েকজন পলাতক অবস্থায় বিদেশে রয়েছে তাদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক-হানাদার বাহিনীর সহায়তাকারী যুদ্ধাপরাধী-মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয় ১৯৭৩ সালের প্রণীত ওয়ার ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে। ইতিমধ্যে শীর্ষ কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীদের রায় কার্যকরও হয়েছে। এক্ষেত্রে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থাপন করেছেন এক অনন্য নজির। আন্তর্জাতিক মোড়লদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় বাস্তবায়ন করে চলেছেন।

বর্তমান মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত আন্তরিক উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে, তথ্য প্রযুক্তিকে প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ১০ টাকায় একজন কৃষক ব্যাংক একাউন্ট খুলে সহজ শর্তে কৃষি ঋণ গ্রহণ করতে পারে, খাদ্যে এখন বাংলাদেশ উদ্বৃত্ত হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনমান উন্নয়নের নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবিন্ধীদের সমাজে বিশেষভাবে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ভাতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এককথায় সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য নিরাপদ সামাজিক বেষ্টনি তৈরি করা হয়েছে।

পরিবেশ উন্নয়নে নদী, বিল, হাওর রক্ষায় সরকার সর্বান্তকরণে সচেষ্ট। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দেশব্যাপী বনায়ন করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা সমুদ্রসীমা নির্ধারণে বাংলাদেশের বিজয়, সেটিতেও রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান।

যোগাযোগ ক্ষেত্রে সারাদেশের চিত্রই পাল্টে গেছে। সমস্ত মহাসড়কগুলোকে ফোর লেনে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। দেশি-বিদেশি চক্রান্ত মোকাবেলা করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মত বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে; যা কিনা পাল্টে দেবে দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে সারা দেশের যোগসূত্র। রাজধানীতে নতুন নুতন ফ্লাইওভার তৈরি করা হচ্ছে, মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। গড়ে তোলা হয়েছে হাতির ঝিলের মত দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা। ‘বঙ্গবন্ধু সেতু’ চালু করে অবহেলিত উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যেমন সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে, ঠিক তেমনি পদ্মা সেতু উদ্বোধন হলে পাল্টে যাবে দক্ষিণবঙ্গের চিত্র। এসব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অভাবনীয় সাফল্য।

প্রধানমন্ত্রীর কারণে নারীর ক্ষমতায়ন নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধী দলীয় নেত্রীসহ প্রশাসন, বিচার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, জাতীয় সংসদসহ সকল ক্ষেত্রে নারীদের বিশেষভাবে সম্মানীত করা হচ্ছে। আমাদের চিরায়ত সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানো হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিল্প সাহিত্যের প্রতি এতই আন্তরিক যে তাদের প্রত্যেককেই একান্ত নিজস্ব উদ্যোগে তিনি পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। এমন প্রধানমন্ত্রী কোথায় পাবেন যিনি কি না বিশিষ্ট রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার জন্মদিনে নিজেই ফোন করে শুভাশীষ জানিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লেখক ও সংস্কৃতি কর্মীদের দূরারোগ্য চিকিৎসার ব্যয়ভার তিনি একাই বহন করে চলেছেন। গণমাধ্যমের প্রসার ঘটানোর ক্ষেত্রে এক অসামান্য বিপ্লব সম্পাদিত হয়েছে।

উন্নয়নের এত সফলতার পরেও বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য জঙ্গি, সন্ত্রাসী হামলা করে দেশের মানুষের জীবনকে নিরাপত্তাহীন করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত ঘৃণীত সেই চক্রটি। জঙ্গি দমনে শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্স নীতি বিশ্বনেতৃবৃন্দের কাছে সমাদৃত হয়েছে।

একটি অনগ্রসরমান জাতিকে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা যুক্ত করেছেন উন্নয়নের মহাসোপানে। জাতি এখন স্বপ্ন দেখে একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভের। যা কেবলমাত্র শেখ হাসিনার মত বলিষ্ঠ, দৃঢ়চিত্ত, দূরদর্শী ও বিচক্ষণ নেতৃত্বের পক্ষেই সম্ভব।

বাংলাদেশের পক্ষে এই অসামান্য অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী এ পর্যন্ত ২১টি আন্তর্জাতিক পদক লাভ করেছেন। অতিসম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিয়ে লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ অবদানের জন্য ‘প্লানেট ফিফটি-ফিফটি চ্যাম্পিয়ন’ ও ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন।

জাতির পিতার নেতৃত্বে বাংলার সাড়ে ৭ কোটি মানুষ ছিনিয়ে এনেছিলো স্বাধীনতার লাল সূর্য। ঘাতকদের হাতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জনকসহ পরিবারের সকলকে হারিয়েছিলেন তিনি। এসব ব্যথা বেদনার তপ্ত দহন জ্বালা বুকে নিয়ে তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। কদিন আগে পার হয়ে যাওয়া মহান এই নেত্রীর ৭০তম জন্মদিনে আমাদের এই কামনা ‘শেখ হাসিনা আপনি শতায়ু হন’ ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত ও দু’লক্ষ মা-বোনের জীবনের সর্বস্ব ত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্নের স্বর্ণালী দুয়ারে পৌঁছে দেয়ার জন্য। আপনি আজ আর শুধু ষোল কোটি মানুষের নেত্রী নন, সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের আরাধ্য এক মহান নেত্রী।

শফী আহমেদ : কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মতামত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত