প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ

মার্কিন কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেবেন মুলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০১৯, ১২:১৭

গত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের বিষয়ে ওঠা অভিযোগ ২২ মাস ধরে তদন্ত করেছেন মার্কিন বিচারবিভাগের সবাকে কৌঁসুলি রবার্ট এস মুলার। দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এই অভিযোগ থেকে ক্লিনচিট দিয়েছেন। তবে এ নিয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। গত মাসে মার্কিন বিচার বিভাগের বিশেষ কৌঁসুলি পদ থেকে অব্যহতি নেওয়ার আগেও তিনি বলেন, ‘আমার রিপোর্টই আমার সাক্ষ্য। আলাদা করে কংগ্রেসের মুখোমুখি হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই’। কিন্তু এবার কংগ্রেসের আইনি সমনে সাক্ষ্য দিতে ‘রাজি’ হয়েছেন মুলার।

এই খবর সামনে আসতেই এর বিরোধীতা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এক টুইটবার্তায় এটিকে তিনি ‘প্রেসিডেন্শিয়াল হ্যারাসমেন্ট’ বলে উল্লেখ করেছেন।

১৭ জুলাই হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের বিচারবিভাগীয় এবং গোয়েন্দা কমিটির সামনে মুলার কী বলেন, সেদিকে নজর রাখবেন ট্রাম্পও। কারণ পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বাকি আর বছরখানেক।

যৌথ বিবৃতি দিয়ে হাউসের ওই দুই প্যানেলের প্রধান বলেন, ‘আমাদের ভোটে রাশিয়া কীভাবে হস্তক্ষেপ করেছিল, কারা তাতে জড়িত ছিল, কীভাবে তদন্ত হল— আমেরিকার মানুষ তা সরাসরি মুলারের থেকে শুনতে চান এবং তাঁদের সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়াটা মুলারের নাগরিক কর্তব্য।’

১৭ জুলাই সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে প্রশ্নোত্তর পর্ব। এবং তা ‘লাইভ’ দেখানো হওয়ার কথা রয়েছে।

৫০০টি সাক্ষাৎকার, একই সংখ্যক তল্লাশি পরোয়ানা এবং প্রায় আড়াই হাজার লিখিত এবং মৌখিক সাক্ষ্য নিয়ে গত মার্চে প্রায় সাড়ে চারশো পাতার তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করেছিল মুলারের টিম। রিপোর্টের দু’টো অংশ— রাশিয়ার হস্তক্ষেপ এবং তদন্তে বাধা। কিন্তু এর সবটা নয়, প্রথমে চার পাতা এবং পরে আরও খানিকটা বেশি অথচ সম্পাদিত একটি সংস্করণ নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার।

তিনি বলেছিলেন, ‘বিশেষ কৌঁসুলির রিপোর্ট থেকে এটা স্পষ্ট যে, ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে নাক গলিয়েছিল রাশিয়া। কিন্তু ট্রাম্পও যে এতে জড়িত ছিলেন, তা এই রিপোর্ট থেকে নিশ্চিত ভাবে বলা যাচ্ছে না।’ তবে কংগ্রেস চাইলে তদন্ত করতে পারে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

তখন থেকেই ডেমোক্র্যাটরা দাবি করতে থাকেন, মুলার নিজে এসে সাক্ষ্য দিন কংগ্রেসে। সেসময় রাজি হননি মুলার। মের শেষে মার্কিন বিচার বিভাগে ইস্তফা ঘোষণা করতে এসে আট মিনিটের সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় তিনি শুধু বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট অপরাধী কি না, সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি। তাছাড়া পদে থাকাকালীন কোনো প্রেসিডেন্টকে কেন্দ্রীয় অপরাধমূলক আইনে অভিযুক্ত করা যায় না, এটা অসাংবিধানিক।’

এবার কী হবে? ১৭ জুলাই সাক্ষ্যগ্রহণ নিয়ে হাউসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি আশাবাদী হলেও, মুলার শেষমেশ আসবেন কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকে। তাদের মতে, নিয়মের মারপ্যাঁচে মুলারকে আটকে দেওয়ার একটা চেষ্টা হতে পারে।

ঢাকা টাইমস/২৭জুন/একে

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :