গাইবান্ধায় বাঁধ ভেঙে শহরে ঢুকছে পানি

জাভেদ হোসেন, গাইবান্ধা
 | প্রকাশিত : ১৭ জুলাই ২০১৯, ২০:৩৮

উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে গাইবান্ধার সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গাইবান্ধার বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি হয়েছে। সরকারি হিসাবে পাঁচ উপজেলায় পানিবন্দি অবস্থায় আছেন প্রায় সারে তিন লাখ মানুষ।

তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা আরও বেশি।

জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যার পানিতে অন্তত ৩০ হাজার কাঁচা বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩০০ খামার, পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। নষ্ট হয়েছে বীজতলা, সবজিসহ প্রায় চার হাজার জমির বিভিন্ন ফসল। অন্তত ২০ কিলোমিটার কাঁচা-পাকা রাস্তাসহ সাতটি ব্রিজ-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরই মধ্যে খোলা হয়েছে ১২৫টি আশ্রয়কেন্দ্র। মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ও উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। তবে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

বুধবার সকাল থেকে বন্যার পানি তীব্র গতিতে ঢুকতে শুরু করে গাইবান্ধা শহরে। দুপুরে ১টার মধ্যে পানিতে থৈথৈ করছে শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়ি, অলিগলি ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে মুন্সিপাড়া, কুটিপাড়া, পুলবন্দি, বানিয়ারজান, নতুন বাজার, পুরাতন বাজার, মমিনপাড়া, ডেভিট কোম্পানি পাড়া, ব্রিজ রোড ও কালিবাড়িসহ বিভিন্ন পাড়ামহল্লার অন্তত ৪০ হাজার মানুষ।

গাইবান্ধা-বাদিয়াখালী সড়কের উপর দিয়েও তীব্র স্রোতে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে সড়কের উপর দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলাচল করছে বিভিন্ন যানবাহনসহ সাধারণ মানুষ। এছাড়া গাইবান্ধা-বাদিয়াখালি সড়কের পোড়াগ্রাম সাধুর আশ্রম এলাকায় দুপুর ১২টার দিকে ৫০ ফুট পাকা সড়ক ভেঙে গেছে। ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নসহ পানি ঢুকে কয়েকটি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। প্রবল স্রোতে ব্রীজ রোডের একটি কালভার্ট ডেবে যাওয়ায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গাইবান্ধা থেকে সুন্দরগঞ্জে যাওয়া একমাত্র এই সড়কটি দিয়ে হালকা ও ভারি সকল ধরনের যানবাহন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ফলে সুন্দরগঞ্জ থানার সাথে জেলা শহরের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

গাইবান্ধা পৌর মেয়র শাহ মো. জাহাঙ্গীর কবীর মিলন বলেন, ‘বাঁধ ভেঙে গত তিন দিনে পৌর এলাকার কয়েকটি ওয়ার্ডে পানি ঢুকে পড়ে। সকাল থেকে শহরের চারপাশে থাকা পানি পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশ করে। এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সড়ক পানিতে ডুবে যায়।’

বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু জায়গা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নেয়া লোকজন বলছেন, ‘গত সাতদিন ধরে গবাদি পশু, হাঁস-মুরগির সঙ্গে একই জায়গায় দিন কাটাচ্ছে তারা। কিন্তু সেখানে রান্নাবান্না করা এবং পায়খানা-প্রস্রাব করার তেমন ব্যবস্থা নেই।

আশ্রিত লোকদের অভিযোগ, দুর্গত এলাকার মানুষের মাঝে সরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত থাকলেও তা একেবারেই অপ্রতুল। ঘরের খাবার শেষ হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন তারা।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে ত্রাণ তৎপরতা রয়েছে তা পর্যাপ্ত নয় বলে দাবি করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জের বেলকা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিলুল্লা ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন বলেন, ‘ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ চরাঞ্চলে বসবাস করেন। বন্যার পানিতে দুই ইউনিয়নের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ গত সাত দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কিন্তু এ পর্যন্ত তাদের দুই ইউনিয়নের চার শতাধিক মানুষ সহায়তা হিসেবে চাল ও শুকনা খাবার এবং নগদ টাকা পেয়েছেন। পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা চেয়ে আবেদন করা হলেও এখন তা পাওয়া যায়নি। প্রতিদিনই বানভাসী লোকজন ত্রাণের আশায় তাদের কাছে ভিড় করছেন।’

এ বিষয়ে গাইবান্ধা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও ত্রাণ ও দুর্যোগ অধিদপ্তরের গাইবান্ধার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাহিদুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার পর্যন্ত দুর্গত এলাকার মানুষের মাঝে ৪০০ মেট্রিক টন চাল, চার হাজার শুকনা খাবার প্যাকেট ও নগদ সাড়ে ৬ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।’

ত্রাণের অপ্রতুলতার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত আছে। নতুন করে আরও বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। তবে লোকবল ও স্বেচ্ছাসেবীর অভাবে দুর্গত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।’

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৬টা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি বিপৎসীমার কিছুটা নিচে নেমেছে। এছাড়া তিস্তা নদীর পানি গত দুই দিন ধরে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে করতোয়া নদীর পানি যে কোনও সময় বিপৎসীমা অতিক্রম করবে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে বালুবোঝাই জিও ব্যাগ ফেলার কাজ করছে। শহর রক্ষা বাঁধসহ ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/১৭জুলাই/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :