কল্পনাতীত পেঁয়াজের দাম, কড়া সমালোচনা সংসদে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০৬ | প্রকাশিত : ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ২০:১৪
ফাইল ছবি

বাড়তে বাড়তে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে পেঁয়াজের দাম। ইতোমধ্যে প্রতি কেজির দাম ২০০ টাকা ছাড়িয়েছে। পেঁয়াজের এমন দাম কোনোদিন কল্পনা করেননি বলে সংসদকে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য তোফায়েল আহমেদ।

পেঁয়াজের এই অকল্পনীয় দাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারি দলের শীর্ষ নেতারা আজ সংসদে বাণিজ্য ও অর্থমন্ত্রীকে সতর্ক করেছেন। বলেছেন, পেঁয়াজের ঝাঁজ বেড়ে গেছে। জনগণের মধ্যে রিঅ্যাকশন হচ্ছে।

আজ বৃৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা মোহাম্মদ নাসিম ও  আ স ম ফিরোজ; বিরোধী দল জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু ও বিএনপির হারুন অর রশিদ।

তারা বাণিজ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি পেঁয়াজ আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। 

বাণিজ্য ও অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘এত সুদক্ষ একটি মন্ত্রিসভা, তার দুজন মন্ত্রী এখানে আছেন। তাদের অনুরোধ করতে চাই। পেঁয়াজের ঝাঁজ বেশি হয়ে গেছে। জনগণের মধ্যে একটা রিঅ্যাকশন হচ্ছে। আজকে পর্যন্ত যে খবর আছে, প্রায় ২০০ টাকা হয়ে গেছে পেঁয়াজের কেজি।’

‘আমরা এত জনপ্রিয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ করে যাচ্ছি। কী কারণে প্রতিদিন বেড়ে যাচ্ছে পেঁয়াজের দাম? বাণিজ্যমন্ত্রী যখন সংসদে বলেন ১০০ টাকার নিচে নামবে না, তখন তো ব্যবসায়ীরা সুযোগ পেয়ে যায়। বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করছেন বলেছেন। তারপরেও কেন দাম বাড়ছে?’

সতর্ক করে দিয়ে নাসিম বলেন, ‘এতে আমাদের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। মানুষের মধ্যে রিঅ্যাকশন খারাপ হবে।’

এরপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, কয়েক দিন আগে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল হলো, প্রাকৃতিক দুর্যোগ সেটির কারণে দাম একটু বেড়েছে। একটু না আজকে পত্রিকায় দেখলাম ২০০ টাকা কেজি। এটা আমরা কোনোদিন কল্পনা করি নাই। ভারতে পেঁয়াজের উৎপাদন হয় নাই বর্ষার কারণে। সাধারণত এগুলো আমরা আগেই মূল্যায়ন করি। আমাদের বাৎসরিক চাহিদা কত আমাদের আছে কত। আর যেটা ঘাটতি সেটা আগেই তুরস্ক, মিশরসহ মিয়ানমার থেকে আগেই আমদানি করার ব্যবস্থা করি। টিসিবি সে ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করে।’

অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে তোফায়েল বলেন, ‘যারা পেঁয়াজ আমদানি করেন, তাদের শুল্কমুক্ত সুবিধা দেন। অন্তত কিছুদিনের জন্য এটি করা হোক। ডিউটিটা শূন্য করে দেন। অর্থমন্ত্রী এ ধরনের একটি ঘোষণা দিলে পেঁয়াজের দামে প্রভাব পড়বে।’

বাজারে প্রচুর পেঁয়াজ রয়েছে বলে দাবি করে আ স ম ফিরোজ বলেন, ‘এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। প্রধানমন্ত্রী এর আগে অনুরোধ করেছিলেন পেঁয়াজ কম খেতে। সেটাতে মানুষ সাড়া দিয়েছেন। পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি সরকারের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। এজন্য দুর্নীতিবাজরা এটা করতে পারে। এটা মানা যায় না। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’ 

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নুও দাবি করেন বাজারে প্রচুর পেঁয়াজ রয়েছে। তিনি বলেণ, ‘তার পরেও দাম বাড়ছে। এর বিরুদ্ধে একটি অভিযান চালানো দরকার। তাহলে সমস্যাটা আর থাকবে না। সন্ত্রাসীরা ক্রসফায়ারে মারা যায়। যারা পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছে, তাদের একজন মারা যাক না।’

পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করে চুন্নু বলেন, ‘এটা দেখা দরকার। জরুরি ভিত্তিতে এর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’

বিএনপির হারুনুর রশীদ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন পেঁয়াজ নিয়ে রসিকতা সৃষ্টি হয়েছে। কাজেই পেঁয়াজের ব্যাপারে সরকারের তৎপর হওয়া উচিত।’

(ঢাকাটাইমস/১৪নভেম্বর/বিইউ/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :