দাশেরকান্দি চালু হলে দূষণ কমে আসবে: তাজুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৫:০৬

দাশেরকান্দি পয়োবর্জ্য পরিশোধন প্রকল্প চালু হলে নদী ও পরিবেশের দূষণ কমে আসবে বলে মনে করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম। এই প্রকল্প শেষ হওয়ার পর পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আরও চারটি পয়োবর্জ্য পরিশোধন প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে বলেও মন্ত্রী জানান।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর আফতাবনগরে নির্মাণাধীন দাশেরকান্দি সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট পরিদর্শন করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘এটা আমাদের সুপারভিশন প্রকল্প। এটা চালু হলে সব সুয়ারেজ এখানে এনে পুড়িয়ে ফেলা হবে। সেই লক্ষ্যে নেটওয়ার্ক পাইপ লাইন স্থাপনের কাজও শিগগিরই শুরু হবে। এটা চালু হলে নদী ও পরিবেশ দূষণ কমে আসবে।’

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সঠিক উপায়ে সুয়ারেজ ব্যবস্থাপনা না করলে ভবিষ্যতে ঢাকা শহর পরিবেশ ও নদীদূষণে অযোগ্য হয়ে যাবে। এজন্য আমরা দাশেরকান্দি ছাড়া পাগলা, মিরপুর, উত্তরা ও রায়ের বাজারে ট্রিটমেন্ট প্লান্ট করার পরিকল্পনা নিয়েছি। এ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে পর্যায়ক্রমে বাকিগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।’

বায়ুদূষণ রোধে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ঢাকার যে বায়ুদূষণ, সরকার দায়িত্ব এড়াতে পারবে না। সেটি মোকাবেলায় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এখন ঢাকা ওয়াসা ৯০ শতাংশ মানুষকে সুপেয় পানি দিচ্ছে। হাইকোর্টের একটি আদেশে ৩৬টি এলাকার পানি পরীক্ষার মাধ্যমে ২৬টি এলাকাতেই সুপেয় পানি পাওয়া গেছে।

ঢাকাকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে ‘মহাপরিকল্পনা’ নেয়া হয়েছে বলেও জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। বলেন, কীভাবে ঢাকা শহরকে দৃষ্টিনন্দন করা যায়, আমরা তার মহাপরিকল্পনা নিয়েছি। এই অপরিকল্পিত শহরকে দূষণমুক্ত করা কঠিন কাজ। তারপরও মহাপরিকল্পনা তৈরি করে সমন্বয় করে উন্নয়ন কাজ করা হবে। তাহলে খোঁড়াখুঁড়ির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবে জনগণ। বায়ুদূষণ কমে আসবে। 

ঢাকার পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাকে একই পাইপলাইনে নিয়ে আসতে চীন সরকারের সহযোগিতায় ঢাকা ওয়াসা এই প্রকল্পের কাজ করছে। ৩ হাজার ৩৭৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। ২৪ হেক্টর জমির ওপর বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পয়োবর্জ্য পরিশোধনের মাধ্যমে ৫০ লাখ নগরবাসীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

এরপর ঢাকা ওয়াসার সোয়ারেজ মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ঢাকার পাগলা, দাশেরকান্দি, রায়েরবাজার, উত্তরা ও মিরপুর এলাকায় মোট পাঁচটি পয়োশোধনাগার নির্মাণের ব্যবস্থা রয়েছে। সেই অনুযায়ী দাশেরকান্দি পয়োশোধনাগার প্রকল্পের নির্মাণ কাজ চলছে। এর মাধ্যমে গুলশান, বনানী, বারিধারা ডিওএইচএস, বসুন্ধরা, বাড্ডা, ভাটারা, বনশ্রী, কুড়িল, সংসদ ভবন এলাকা, শুক্রাবাদ, ফার্মগেট, তেজগাঁও, আফতাবনগর, নিকেতন, সাঁতারকুল, হাতিরঝিল ও আশপাশের এলাকার সৃষ্ট পয়োবর্জ্য পরিশোধন করে বালু নদীতে নিষ্কাশিত হওয়ার মাধ্যেমে পানি ও পরিবেশ দূষণ রোধ করা সম্ভব হবে।

ঢাকাটাইমস/১১ডিসেম্বর/কারই/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :