কানাডায় বসন্তের অপেক্ষা

কানাডা প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৮:৪৪ | প্রকাশিত : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৮:৪০

কানাডা মানেই যেন বরফ আর বরফ, শীত আর শীত। তবে শুনলে অবাক হবেন যে এই অতি শীত প্রধান দেশটিতেও চার চারটি ঋতু বিরাজমান।  গ্রীষ্ম, শরৎ, শীত ও বসন্ত।

জুন, জুলাই আর আগস্ট এই তিন মাস এখানে গ্রীষ্মকাল। তখন গাছে গাছে থাকে সবুজ পাতা, হালকা বাতাস, অতুলনীয় সুন্দর সময়। তেমন গরম পড়ে না। দিন অনেক বড় থাকে। সূর্যাস্ত হয় রাত নয়টার দিকে। মানুষজন বাসার সামনে ‘বারবিকিউ’ পার্টির আয়োজন করে থাকে। অনেকেই চলে যায় সমুদ্রসৈকতে৷ সারা দিন রোদ্রস্নান করেন। সুন্দরীরা স্বল্প পোশাকে ঘোরাফেরা করে। কানাডার মানুষের কাছে এই সময়টা হলো সুদিন। তারা যেন ভুলেই যায় আবার কখনো তুষারে আবৃত হতে পারে তাদের প্রিয় কানাডা। স্কুল-কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা আয়োজন করে নানা ধরনের গানবাজনা আর খাবারের পার্টির।

সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর এই তিন মাস হলো কানাডার শরৎকাল। কানাডাজুড়ে দেখা যায় বিভিন্ন জাতের ম্যাপেলগাছ। এই সময়ে ম্যাপেলগাছের পাতাগুলো বিভিন্ন রং ধারণ করে। লাল-হলুদ-গোলাপি যেন কোনো এক শিল্পীর বিভিন্ন রঙে আঁকানো বর্ণিল পতাকা। আকাশে ওড়ে সাদা মেঘের ভেলা, সেই সঙ্গে দেখা যায় বিভিন্ন পাখি। গাঙচিলের কিচিরমিচিরে মন দুলতে থাকে। প্রকৃতির এক চমৎকার পরিবর্তন হয় শরৎকালে। হালকা হালকা শীত চলে আসে। মানুষজন শুরু করে দেয় শীতের কেনাকাটা।

ডিসেম্বর, জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারি এই তিন মাস হলো কানাডার শীতকাল। পুরো শীতকালেই কানাডাজুড়ে হয় প্রচণ্ড তুষারপাত। এ সময় তাপমাত্রা থাকে খুবই কম। কোনো কোনো প্রদেশে চলে যায় হিমাঙ্কের ২০ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড নিচে। মাঝেমধ্যেই হয় তুষার ঝড়। অনেক সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায় তুষার ঝড়ের কারণে। মানুষজন প্রকৃতির কাছে হয়ে পড়ে বড় অসহায়। যদিও কানাডা অনেক উন্নত দেশ, তারপরও নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়। তুষার ঝড়ে ভেঙে পড়ে বড় বড় গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি আর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে অনেক এলাকা। শীতকালে রাস্তাঘাট থেকে তুষার সরানোর জন্য নামানো হয় স্নো-ট্রাক। হাইওয়েগুলো পিচ্ছিল থাকার কারণে গাড়ির গতিসীমা কমানো হলেও ঘটে নানা দুর্ঘটনা। প্রচণ্ড শীতেও দেখা যায় ছোট ছোট ছেলেমেয়ে তুষার নিয়ে খেলছে। তারপরও মানুষজন খুব কমই বাইরে থাকে। কানাডাতে রয়েছে বড় বড় শপিং মল। শীতের সময়টাতে মানুষজন কেনাকাটা আর আনন্দের জন্য শপিং মলই বেশি পছন্দ করে।

শীতের শেষে আসে বসন্তকাল। মার্চ, এপ্রিল আর মে মাস হলো কানাডার বসন্তকাল। গাছে গাছে শুধু ফুল আর ফুল। নানান জাতের গাছ রয়েছে, যেগুলোতে কোনো পাতাই থাকে না, থাকে বিভিন্ন রঙের ফুল। যেন এক সাজানো বাসরসজ্জা। মানুষজন বাড়ির আঙিনায় নানা জাতের ফুলের গাছ লাগিয়ে থাকে। তখনো কিন্তু বেশ শীত পড়ে। সবাই গ্রীষ্মকালের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। শুরু হয়ে যায় গ্রীষ্মকালের পোশাকের কেনাকাটা। ফুলগুলো যেন তাড়াতাড়ি ঝরে যায় কানাডিয়ানদের গ্রীষ্মের আনন্দ দেওয়ার জন্য। এক সময় সুন্দরী মেয়েদের পোশাকই বলে দেয়, আবার চলে এসেছে কানাডার সুদিন, মানে গ্রীষ্মকাল।

এখন ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি। তীব্র শীত। গতকাল সকালে টরন্টোর তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল মাইনাস ২০তে। বৃহস্পতিবার রাতে কানাডার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৩৫। চলতি বছর এটাই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস মতে, ফেব্রুয়ারির বাদ বাকি দিনগুলোতে ‍খুব বেশি শীত পড়ার সম্ভাবনা নেই। চলতি মাসের শেষ দিক থেকেই বসন্তের আগমনী বার্তা আসতে শুরু করবে।

(ঢাকাটাইমস/১৫ফেব্রুয়ারি/ডিএইচ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

প্রবাসের খবর বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :