ভূমি খারিজে ‘প্রতারণায়’ ভৈরবের সাবেক এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মামলা

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:০১

আদালতের মামলার রায় জাল করে প্রতারণার মাধ্যমে বাড়ির ভূমি খারিজ করে নেয়ার অভিযোগে ভৈরবের সাবেক এসিল্যান্ড আনিছুজ্জামানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আদালতের আদেশে শনিবার রাতে মামলাটি করা হয়।

মামলার বাদী হাফছা সুলতানা। তার স্বামীর নাম তোফাজ্জল হোসেন এবং বাড়ি শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকায়।

এই মামলায় আরও যাদের আসামি করা হয়, তারা হলেন- বাদল মিয়া ওরফে বেদন, আরিফুল ইসলাম, জামাল মিয়া, সুফিয়া বেগম, নূর আলম, রাজু আহমেদ, আপন মিয়া, মোহাম্মদ আলী ও ফাহিম। মামলার সাত নম্বর আসামি আরিফুল ইসলাম ও ১০ নম্বর আসামি ভৈরব উপজেলার সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিছুজ্জামান।

হাফছা সুলতানার ভোগদখলীয় বৈধ সম্পত্তির ১৫ শতাংশ ভূমি নয় আসামি মিলে কিশোরগঞ্জ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল আদালতের এক ভূয়া ও মিথ্যা রায় দেখিয়ে বাদীকে নোটিস না দিয়ে খারিজ করে ফেলে। তারা মিথ্যাভাবে মামলার নাম্বার দেখায় ৯৯১৩/১৪। ভৈরব ভূমি অফিসের সাবেক এসিল্যান্ড আনিছুজ্জামান আদালতের জাল রায়ের কপি দেখে বিবাদীদের ১৫ শতাংশ ভূমি তাদের নামে খারিজ করে দেন। বিবাদীরা ভূমি খারিজ করে বাদী হাফছা সুলতানার ভূমি বিক্রির উদ্যোগ নিলে তিনি ঘটনাটি জানতে পারেন। পরে বাদী কিশোরগঞ্জ ল্যান্ড সার্ভে আদালতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ৯৯১৩/১৪ নাম্বারের কোনো মামলাই হয়নি এবং ভৈরব ভূমি অফিসে দাখিল করা রায়ের কাগজ ভুয়া।

তারপর বাদী ভৈরব ভূমি অফিসে এক আবেদনে খারিজটি বাতিল করতে একটি মিসকেস করেন। তবে সাবেক এসিল্যান্ড বাদীর আবেদন পাওয়ার পরও খারিজটি বাতিল করেননি বলে তার অভিযোগ।

মামলার বাদী হাফছা সুলতানা বলেন, আমাদের মালিকানার দখলীয় বাড়ির ভূমিটি আসামিরা এসিল্যান্ডের সঙ্গে যোগসাজস করে জাল রায় দেখিয়ে খারিজ করে। খারিজের পর আমার বাড়িতে তারা জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করতে চেয়েছিল। পরে আদালতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, প্রতারণার মাধ্যমে তারা জাল রায় দিয়ে এই কাজ করেছেন। এ কারণে আমি আদালতে প্রতারণার অভিযোগে মামলা করেছি।

ভৈরব ভূমি অফিসের সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিছুজ্জামান বলেন, আদালতের রায়টি জাল কিনা সেটাতো আমি জানতাম না। জেলা প্রশাসক অফিসের নির্দেশ পেয়ে আমি খারিজটি করেছি। পরে ঘটনাটি জানার পর আমার অন্যত্র বদলি হয়ে যায়। এ কারণে খারিজটি আমি বাতিল করতে পারিনি।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন জানান, আদালতে আদেশে থানায় অভিযোগটি এজাহার হিসেবে শনিবার রাতে রেকর্ড করেছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

(ঢাকাটাইমস/২৩ফেব্রুয়ারি/কেএম/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :