বিচারপতির কাছে বিনীত আবেদন

মাননীয় প্রধান
বিচারপতি,
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।
বিষয়ঃ গত ২৩.৪.২০২০ তারিখ স্বল্প পরিসরে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, মহানগর দায়রা জজ, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জরুরি জামিন শুনানি প্রসঙ্গে।
জনাব,
সবিনয় বিনীত নিবেদন এই যে আমরা বাংলাদেশে বসবাসকারী বার কাউন্সিলে প্র্যাকটিসরত আইনজীবীবৃন্দ, আমি সুপ্রিম কোর্টে কাজ করি।
গত ২৩ শে এপ্রিল মাননীয় রেজিষ্ট্রার জেনারেল স্বাক্ষরিত এক আদেশে উপরে উল্লেখিত আদালত সমূহ দুদিন মামলা পরিচালনার নিমিত্তে স্বল্প পরিসরে আদালত সমূহ খুলে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন। আপনি দেশের আইনাঙ্গনের অভিভাবক, আইনজীবীদের অভিভাবক, আমাদের একজন প্রিয় ব্যক্তিত্ব।
গত ৮ তারিখ থেকে সারা বাংলাদেশ এক ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখোমুখি। সারাদেশ জরুরি অবস্থায়, আমরা ঘরে আছি, আমার বাসা বাসাবোতে আমি লক ডাউনে। অনেক এলাকা লকডাউনে, ঘর থেকে বের হওয়া, হাটাঁ কিংবা গাড়ি করে আসাও অসম্ভব।
গাড়ি বের হলে জরিমানা হচ্ছে, সরাসরি বেতের বাড়িও খেতে হচ্ছে, এ বয়সে যা সম্ভব নয়। আপনি দেশের কল্যাণে ,আইনজীবীদের কল্যাণে হয়তো বা এ সিদ্বান্ত গ্রহণ করেছেন। এ সিদ্বান্ত যে হিতে বিপরীত, আত্মহত্যার সামিল সিদ্বান্ত আত্মঘাতী,আইনজীবী,মক্কেল,বিচারক,সরকারী কর্মচারীদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়ারই সামিল।
হয়তো বলবেন মাস্ক,পিপিই,হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করবেন,এসবও আজ নকলের ভরপুর। মারা যাচ্ছে ডাক্তার,মারা যাচ্ছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন,মারা যাচ্ছে সাধারন মানুষ তবে কি আমরা মৃত্যুর সারিতে আইনজীবী,বিচারক,আইনের সাথে সম্পর্কীতদের সংযোজন করতে যাচ্ছি?
শুনেছি ১৪ জন বিশিষ্ট আইনজীবীর দরখাস্ত,এবং ঢাকা বার এসোসিয়েশনের একজন এবং প্রথম আলোর সংবাদ আপনাকে এ সিদ্বান্ত গ্রহণ করাতে অনুরোধ ও উদ্বুদ্ধ করেছে।
আজ হাজারো আইনজীবী মিলে আপনাকে অনুরোধ করছি গুটি কয়েক সুযোগ সন্ধানী আইনজীবীর জন্য পুরো আইনজীবী সমাজ কে মৃত্যুর মুখে ঢেলে দিবেন না। আমরা আইনজীবী রা অর্থকষ্টে আছি,তবুও চাই না এ আত্মঘাতী সিদ্বান্ত, চাই না অস্বাভাবিক মৃত্যু। এ মৃত্যুর প্রতিষেধক আজও আবিস্কার হয়নি। প্রতিদিন বাংলাদেশ এবং সারা বিশ্বে বাড়ছে মৃত্যু ও লাশের মিছিল। আমরা মৃত্যু মিছিলের একজন সহযাত্রী হতে চাই না।
খবর শোনার সাথে সাথে আমার মক্কেলগণ ফোন করছেন ওনার মামলা জমা দিতে হবে। কোনটি গুরুত্বপূর্ণ, কোনটা গুরুত্বহীন বুঝার ক্ষমতা তার নেই,সে যে নিতান্তই একজন সাধারন মানুষ। তার মামলাই তার কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। বার এসোসিয়েশন যেখানে টয়লেট পরিস্কার রাখতে পারেনা,বার বিল্ডিং অপরিচ্ছন্ন রাখে সেখানে কিভাবে সমস্ত সুপ্রিম কোর্ট ভবন পরিস্কার রাখবে?
আমরা স্বাভাবিক মৃত্যু চাই,স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই,জানি মরতে হবে সঠিক গোসল,জানাজা,ও দাফন চাই।আপনি আমাদের তা থেকে বঞ্চিত করবেন না।আইনের স্বার্থে, মানবিকতার স্বার্থে, ষাট হাজার আইনজীবীর স্বার্থে আপনি ২৩.৪.২০২০ তারিখের আদেশ তুলে নিবেন বলেই আইনজীবী সমাজ তথা বাংলাদেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা শীল মানুষ বিশ্বাস করে।
এতগুলো জীবনের দায়ভার কেন আপনাকে বহন করতে হবে? বেঁচে থাকলে সব হবে,টাকা হবে,ব্যবসা হবে,আপনার সুনাম হবে আপনি যে আমাদের বট বৃক্ষ যার ছায়াতলে সবাই।
ভালো থাকুন,সুস্থ থাকুন,আপনিও নিরাপদ থাকুন। অতএব প্রার্থনা ন্যায়বিচারের স্বার্থে,আইনজীবীদের কল্যাণে, হাজারো আইনজীবীদের প্রার্থনা আপনি মঞ্জুর করবেন।
লেখক: সিনিয়র আইনজীবী
ঢাকাটাইমস/২৫এপ্রিল/এসকেএস
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































