দৌলতদিয়ায় ঘরমুখো মানুষের ঢল

রাজবাড়ী প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
  প্রকাশিত : ২৩ মে ২০২০, ১৬:৩০
অ- অ+

অতিরিক্ত ভাড়া ও করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি ফিরছে হাজার হাজার মানুষ। এ সময় সামাজিক দূরত্ব মানতে দেখা যায়নি যাত্রীদের। শনিবার সকাল ১০টার দিকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ঘরমুখো হাজারো যাত্রীর উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রী ও ব্যক্তিগত যানবাহনের চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে ঢাকাগামী যানবাহন ও যাত্রীর চাপ না থাকায় দৌলতদিয়া ঘাট থেকে পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে খালি ফেরিগুলো ছেড়ে যাচ্ছে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ থাকলেও ফেরিযোগে নদী পাড়ি দিচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। গণপরিবহন বন্ধ থাকার কারণে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে এসে বিপাকে পড়ছেন যাত্রীরা। কেউ হেঁটে আবার কেউ ছোট যানবাহনে করে নিজ গন্তব্যে ছুটছেন। রাজধানী ঢাকা থেকে সড়ক পথে শিমুলিয়া ফেরিঘাটে এসে ফেরিতে পদ্মা নদী পার হয়ে কাঁঠালবাড়ী আসছেন যাত্রীরা। ঈদকে সামনে রেখে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা থেকে ফিরতে শুরু করেছেন শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ির দিকে ছুটছে মানুষ। শনিবার সকাল থেকেই দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ রুট দিয়ে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে হাজার হাজার মানুষ।

ঘাট সূত্রে জানা গেছে, সড়কে গণপরিবহন না থাকায় ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভেঙে ভেঙে পাটুরিয়াতে এসে গাদাগাদি করে ফেরিতে পদ্মা নদী পার হয়ে দৌলতদিয়াতে আসছেন যাত্রীরা। কিন্তু দৌলতদিয়া প্রান্তের সড়কেও গণপরিবহন না থাকায় ঘাটে নেমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঘরমুখো যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পোহাতে হচ্ছে। এসব যাত্রীরা কয়েকগুণ বাড়তি ভাড়া দিয়ে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যান, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে গন্তব্য যাচ্ছেন।

ঘাটে যানবাহন না থাকায় দুর্ভোগে পরা ঘরমুখো যাত্রীরা জানান, সড়কে গণপরিবহন না থাকায় অনেক কষ্টে বাড়তি টাকা খরচ করে ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভেঙে ভেঙে পাটুরিয়াতে এসে গাদাগাদি করে ফেরি পার হয়ে দৌলতদিয়াতে এসেছেন। কিন্ত এখানেও যাত্রী পরিবহনের গাড়ি নেই। সরকার আসার অনুমতি দিলো, কিন্তু গণপরিবহন চালু করলো না। ফেরিতে যে গাদাগাদি করে যাত্রীরা পার হচ্ছে বাসে কিন্তু অতটা গাদাগাদি হয় না। সীমিত আকারে হলেও গণপরিবহন চালুর অনুরোধ জানান তারা।

ঘরমুখো যাত্রীরা জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ রুটে ফেরি চলাচলে বাধা না থাকায় তারা নদী পার হয়ে আসতে পারছেন। কিন্তু সড়কে গণপরিবহন না থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া অনেক অতিরিক্ত ভাড়া লাগছে। তবে তারা করোনাভাইরাসের ঝুঁকির মধ্যেও বাড়িতে আসতে পারছেন এবং সবার সঙ্গে ঈদ করতে পারবেন বলে অনেক খুশি।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ রুটে বর্তমান নয়টি ছোটবড় ফেরি চলাচল করছে। এতে পণ্যবাহী ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, অ্যাম্বুলেন্স, মোটরসাইকেলসহ হাজার হাজার যাত্রী পারাপার হচ্ছে। তিনি জানান, লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা ফেরিতে পারাপার হচ্ছেন।

গত ১৮ মে যাত্রীদের চাপ সামলাতে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে শুক্রবার রাত থেকে ফেরি চলাচল শুরু হয়। ফেরি চালু হতেই হাজার হাজার যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার শুরু হয়। তবে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া উভয় ঘাটেই সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘরমুখো যাত্রী ও যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ থাকায় শনিবার দুপুরে ঢল নামে যাত্রীদের।

(ঢাকাটাইমস/২৩মে/কেএম)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
চীনের জুতার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৮
এমপি হিসেবে শপথ নিলেন বিএনপির সারোয়ার আলমগীর
জিম্বাবুয়ের কাছে ১৩ রানে হার, সিরিজে সমতায় বাংলাদেশ
নিম্নমানের শিশুখাদ্য ও কসমেটিক বিক্রি, বসুন্ধরা শপিংমলে ২ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা