হাতিয়ায় পানিবন্দি ১৫ গ্রামের মানুষ

নোয়াখালী প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৫ জুলাই ২০২০, ২২:৫০

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলায় হাতিয়া মেঘনা নদীর কোল ঘেষা চর ঈশ্বর, সুখ চর, নলচিরা ও নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নে ভাঙ্গা বেড়ি বাঁধ দিয়ে হঠাৎ জোয়ারের পানি প্রবেশ করে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে করে ১৫ গ্রামের ১০ হাজার লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিবন্দি লোকজন মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

জানা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও পূর্নিমার জোয়ারের টানে জেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মেঘনা নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। গত শুক্রবার থেকে জেলার চর ঈশ্বর, নিঝুমদ্বীপ, সুখ চর ও নলচিরা ইউনিয়নে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ (বেড়ি বাঁধ) এর ভাঙা অংশ দিয়ে প্রবল জোয়ারের স্রোতের মাধ্যমে পানি প্রবেশ করতে থাকে। এতে করে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ১০ হাজার মানুষ।

হাতিয়া উপজেলার সুখচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন জানান, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উঁচু হয়ে আসা জোয়ারের পানি গত শুক্রবার রাত থেকে তার ইউনিয়নে প্রবেশ করতে থাকে। পানিতে মাকসুদিয়া গ্রাম, আব্দুল গফুর গ্রাম, মৌলুভীর গ্রাম, চান্দালি গ্রাম, মুলদি গ্রাম, কাদির সরদারের গ্রাম ও কাহারপাড়া গ্রামে বন্যা দেখা দেয়।

তিনি আরও বলেন, তার ইউনিয়নের ভাঙ্গা বেড়ি বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এতে করে ওই সকল গ্রামের লোকজন গত ৪ দিন যাবত বন্যার পানিতে বন্দি হয়ে মানবতর জীবনযাপন করছেন।

চেয়ারম্যান বলেন, তার ইউনিয়নে গত মাসে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে আধা কিলো মিটার বেড়ি বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে করে ভাঙা বেড়ি বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করেছে। ফলে পানিতে ফসল ও খামারে মাছ ভেসে গেছে।

উপজেলার চর ঈশ্বর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাশেদ উদ্দিন জানান, গত চার দিন যাবত তার ইউনিয়নে বেড়ি বাঁধবিহীন এলাকা দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে ১,২,৩ ও ৪ নং ওয়ার্ডে পানি প্রবেশ করে। এতে করে ইউনিয়নের তালুকদার গ্রাম, ফরাজিগ্রাম, বাদশা মিয়া হাজি গ্রাম, পন্ডিত গ্রাম, জেলে কলনি পাড়া, মৌলভী গ্রাম ও পঞ্চায়েত গ্রামে বন্যা দেখা দেয়। বন্যার পানিতে ১ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

চেয়ারম্যান বলেন, গত কয়েক বছর আগে প্রবল জোয়ারের স্রোতে ও ঘূর্ণিঝড়ে তার ইউনিয়নে সাড়ে ৩ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধ ভেঙে যায়। ভাঙা বেড়ি বাঁধ পুনঃনির্মাণ না করায় খুব সহজেই জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ে। এতে করে ফসল ও খামারের মাছ ভেসে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয় হয়।

নলচিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বাবলু জানান, তার ইউনিয়নে ১ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধ দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা রয়েছে। বেড়ি বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে বাড়ি ঘর ফসলের মাঠ ও মৎস খামার প্লাবিত হচ্ছে।

নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাছির উদ্দিন বলেন, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পূর্নিমার প্রভাবে মেঘনা নদীতে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে হাতিয়া উপজেলার ৩-৪টি ইউনিয়নের লোকজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আগামী ২-৩ দিন পানি আরও বাড়ার আশংকা রয়েছে। বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন হাতিয়ার মেঘনা নদীর পানি বেড়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মেঘনার পানি বৃদ্ধির ফলে প্রতিদিনই হাতিয়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলসহ বাড়ি ঘর ও ফসলের মাঠ প্লাবিত হচ্ছে। এতে করে বসতঘর ফসল ও মৎস খামারের ক্ষতি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, হাতিয়া উপজেলার সুখচর ইউনিয়নে দেড় কিলোমিটার এবং নল চিরা ও চর ঈশ্বর ইউনিয়নে ৬ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধ নেই। এগুলো মেরামতের জন্য গত অর্থবছরে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে চিঠি লেখা হয়েছে। কিন্তু বরাদ্দ না থাকায় এ ভাঙা বাঁধগুলো মেরামত করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, হাতিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেড়ি বাঁধ নির্মাণ, নদী তীরবর্তী এলাকা ভাঙন রোধে ২ হাজার ১৩২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। ওই প্রকল্প পাস হলেই কাজ শুরু হবে।

(ঢাকাটাইমস/৫জুলাই/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :