এমপি পাপুলের বিষয়ে এখনও কিছুই জানায়নি কুয়েত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৭ জুলাই ২০২০, ১৫:৫৮
ফাইল ছবি

মানবপাচার ও অর্থপাচারের অভিযোগে কুয়েতে আটক বাংলাদেশের সাংসদ শহিদ ইসলাম পাপুলকে প্রেপ্তারের পর একমাস অতিবাহিত হলেও এখনও কুয়েত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে কোনো তথ্য দেয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।

মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শোনার পরপরই আমাদের রাষ্ট্রদূতকে বলেছি, আপনি এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য নিয়ে আসেন। সরকারের ভার্সনটা নিয়ে আসেন। কী কারণে উনাকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা কোনো চার্জও করে নাই। সে সরকার আমাদের কিছু জানায়নি। না জানানোর ফলে আমরা ঢাকায় কুয়েতি অ্যাম্বাসেডরকে অ্যাপ্রোচ করলাম যে, আপনি তথ্যগুলো দেন।’

ঢাকায় কুয়েতের রাষ্ট্রদূতের কাছে তথ্য চাওয়ার পর সপ্তাহখানেক হলেও এই দূত এখনও কোনো তথ্য জানায়নি বলেন জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সাংসদ পাপুল আটকের পর এখনও কুয়েত সরকারের কাছ থেকে তথ্য না আসার জন্য কারণ ব্যাখা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, ওখানে লকডাউন এবং অফিস-আদালত মোটামুটি বন্ধ। অফিসে লোক পাওয়া যায় না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।’

সাংসদ পাপুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মানবপাচার ও অর্থপাচার বন্ধ করতে কত চেষ্টা চালাচ্ছি। এ সময় একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে কুয়েতে অভিযোগ এসেছে। বিষয়টা অত্যন্ত দুঃখজনক। কুয়েত সরকার যদি আমাদের এ সাংসদের বিষয়ে জানায় তবে আমরা আমাদের দেশে নিয়ম অনুয়ায়ী ব্যবস্থা নেব। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব ব্যাপারে অর্থাৎ মানবপাচার ও অর্থপাচারের বিষয়ে জিরো টলারেন্সে নীতি মেনে চলেন। সে যে দলেরই হোক না কেন, নিজের দলের হলেও তাকে শাস্তি পেতে হবে।’

পাপুলের কুয়েতে অবস্থানের বিষয়ে বলতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এ সাংসদ কোনো সরকারি পাসপোর্ট নিয়ে সে দেশে যাননি। তিনি কুয়েতে ২৯ বছর ধরে ব্যবসা করেন। ওখানকার কোম্পানির সিইও এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। সে দেশের নাগরিকত্ব পাওয়া বাংলাদেশের এ সাংসদকে তারা সে দেশের একজন ব্যবসায়ী হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে।’

সাংসদ পাপুলের সঙ্গে কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এসএম আবুল কালামের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রদূত এসএম আবুল কালামের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।

রাষ্ট্রদূত প্রসঙ্গে মোমেন বলেন, ‘আগে অভিযোগগুলো দেখা যাক, অভিযোগগুলো দেখলে পরে কিছুটা যদি বুঝা যায়, কিছুটা সত্যতা আছে, তাহলে নিশ্চয়ই তদন্ত হবে। তাছাড়া তার নিয়োগের চুক্তির মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে। এ মাসেই তার মেয়াদ শেষে তিনি চলে আসবেন।’

নতুন রাষ্ট্রদূত কে হবেন সেটাও চূড়ান্ত করা হয়ে গেছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

অর্থ ও মানবপাচার, ভিসা বাণিজ্য ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে বর্তমানে কুয়েতের কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে সাংসদ পাপুল। গত ২৪ জুন বাংলাদেশি এই সাংসদকে কুয়েতের অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশে ২১ দিনের জন্য জেলে পাঠানো হয়। টানা ১৭ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর পাপুলকে জেলে পাঠানো হয়।

সাংসদ পাপুলকে গত ৬ জুন কুয়েতে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। কুয়েতের দুই সরকারি কর্মকর্তা ও এক স্থানীয়কে ভিসা বাণিজ্যের জন্য বিপুল পরিমাণ ঘুষ দেওয়ার বিষয়টি পাপুল জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। ৫০ লাখ কুয়েতি দিনারসহ (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩৭ কোটি ৮৮ লাখ ৮৩ টাকা) পাপুলের পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের নির্দেশ দিয়েছে কুয়েতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সাধারণ শ্রমিক হিসাবে কুয়েত গিয়ে বিশাল সাম্রাজ্য গড়া পাপুল ২০১৮ সালে লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পাপুলের মালিকানাধীন মারাফি কুয়েতিয়া গ্রুপে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি কাজ করেন বলে কুয়েতে বাংলাদেশ কমিউনিটির ধারণা।

কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, সেবা খাত, নিরাপত্তা, নির্মাণ, আবাসন, পরিবহন, তেল শোধন প্রভৃতি খাতে কার্যক্রম রয়েছে মারাফি কুয়েতিয়া গ্রুপের। কুয়েতের বাইরে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে ব্যবসায় রয়েছে তাদের।

পাপুলের বিরুদ্ধে ওঠা মানবপাচারের অভিযোগ তদন্ত হওয়ার বিষয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সে সময় কুয়েত সিআইডির বরাত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে মানবপাচার নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে কুয়েতি পত্রিকা আল কাবাস ও আরব টাইমস।

(ঢাকাটাইমস/০৭জুলাই/এনআই/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :