হত্যার পর লাশে আগুন: গ্রেপ্তার চারজনের রিমান্ড আবেদন

লালমনিরহাট প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
  প্রকাশিত : ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮:৪১
অ- অ+
হত্যার পর শহিদুন্নবী জুয়েলের লাশে আগুন দেয়া হয়। ইনসেটে জুয়েল

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে মো. শহিদুন্নবী জুয়েলকে হত্যার পর লাশ পোড়ানোর ঘটনায় করা তিন মামলায় আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শনিবার বিকালে জেলা আমলি আদালত-৩ এর বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ফেরদৌসী বেগমের আদালতে তাদের সোপর্দ করে গ্রেপ্তারদের তিন দিন করে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালত রবিবার শুনানির দিন ধার্য করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন- বুড়িমারী লাইনেরপাড় গ্রামের জুয়েল রানার ছেলে বিপ্লব হোসেন লিমন, বানার উদ্দিনের ছেলে আতিয়ার রহমান পাইয়া, বুড়িমারী ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামের জুয়েল হোসেনের ছেলে মোতাহার হোসেন ও সহিদার রহমানের ছেলে আমির হোসেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক মাহমুদুন্নবী বলেন, শহিদুন্নবী জুয়েল হত্যায় করা হত্যা, পুলিশের ওপর হামলা ও বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবনে হামলার মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে শুক্রবার রাতে ওই চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে ইউনিয়ন পরিষদ ভাঙচুরের ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রত্যেকের তিন দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়। রবিবার আদালত শুনানির দিন ধার্য করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জুয়েল হত্যার ঘটনায় করা তিন মামলায় পুলিশ ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে হত্যা মামলায় ১৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। যার মধ্যে মূলহোতা বুড়িমারী ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি আবুল হোসেন ওরফে হোসেন ডেকোরেটর এবং মসজিদের খাদেম জোবেদ আলীসহ ৬ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

কোরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে গত ২৯ অক্টোবর পাটগ্রামের বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে মো. শহিদুন্নবী জুয়েলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের ওপর নিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

বর্বরোচিত ওই হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এ ঘটনায় তিনটি মামলায় এজাহারনামীয় ১১৪ আসামি এবং অজ্ঞাত শত শত আসামির মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪৪ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকিদের ধরতে পুলিশের অভিযান এখনো অব্যাহত আছে।

ঢাকাটাইমস/৫ডিসেম্বর/এমআর

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

মন্তব্য করুন

শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
পূবাইলে ট্রেনের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু
ট্রাম্প নিজে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করতে চান
সাবেক প্রশাসকের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন, ব্যাখ্যা দিল ডিএনসিসি
পদত্যাগ করলেন গভর্নরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহ
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা