ডান চোখে ব্লক, বাম চোখ অপারেশন করলেন চিকিৎসক

নিজস্ব প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল
| আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২১, ১৭:১৭ | প্রকাশিত : ০৮ এপ্রিল ২০২১, ১৭:০৮

ডান চোখের পরিবর্তে বাম চোখ অপারেশন করলেন চিকিৎসক। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর চক্ষু হাসপাতালে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে পরবর্তীতে বিনা পয়সায় ডান চোখের অপারেশন করা হয়েছে। তবে ভুল চিকিৎসার দায় এড়াতে চিকিৎসক বলছেন, পরীক্ষার প্রতিবেদন যে টেকনিশিয়ান দিয়েছেন তিনি ভুল করছেন। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি জানাজানি হলেও রহস্য উদঘাটনে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ভুক্তভোগীর অভিযোগে জানা যায়, গত মার্চ মাসে ভূঞাপুর চক্ষু হাসপাতালে ডাক্তার দেখান গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের হরিষা গ্রামের সুফিয়া বেগম(৬৫)। এ সময় পরীক্ষার মাধ্যমে তার ডান চোখে ব্লক ধরা পড়ে। এ কারণে চিকিৎসক তার চোখ অপারেশনের সিদ্ধান্ত দেন। নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী গত মঙ্গলবার (৬ মার্চ) তার অপারেশন হয়। তবে ডান চোখের পরিবর্তে রোগীর বাম চোখের অপারেশন করা হয়। ভুক্তভোগী রোগী আপত্তি জানালেও তার কথায় কান দেননি ডা. ফারুক হাসান।

রোগীসহ স্বজনরা ওই ভুল চিকিৎসার প্রতিবাদ করায় ওই চিকিৎসক বলেন, অপারেশনটি ভুল নয়, হাসপাতালের ল্যাব টেস্টের রিপোর্টে ভুলবশত বাম চোখে ব্লক দেখানো হয়েছে। এ কারণেই বাম চোখের অপারেশন করা হয়েছে। এতে রোগীর স্বজনরা উত্তেজিত হয় এবং ভুল চিকিৎসার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পরবর্তিতে ১৬ মার্চ বিনা পয়সায় ডানের চোখের অপারেশনটি করে দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

রোগী সুফিয়া বেগম বলেন, আমার ডান চোখে সমস্যা ছিল। কিন্তু ডাক্তার আমার বাম চোখের অপারেশন করেছেন।

রোগীর ছেলে জজ মিয়া বলেন, আমি আমার আম্মাকে নিয়ে গত ৬ মার্চ ভূঞাপুর চক্ষু হাসপাতালে যাই। ডাক্তার পরীক্ষা করে ডান চোখে ব্লক আছে ও অপারেশন করতে হবে বলে জানান। আম্মার অপারেশন করার অনুমতি দেই আমি।

তিনি বলেন, অপারেশন শেষে দেখি আমার আম্মার বাম চোখ অপারেশন করা হয়েছে। বিষয়টি ডাক্তারকে জানালে তিনি বলেন, পরীক্ষায় আপনার আম্মার বাম চোখে ব্লক দেখানো হয়েছে। এটি কেন হলো- এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি তিনি।

এর ১০ দিন পর আবার হাসপাতালে আম্মার চোখের সেলাই কাটতে যাই। ওইদিন ডাক্তার আবার আমার আম্মার ডান চোখের অপারেশন করতে হবে বলে জানান। এ সময় আমি আপনারা ভুল অপারেশন করেন বলে আপত্তি জানাই। এরপরও ডাক্তার বিনা পয়সায় আমার আম্মার ডান চোখের অপারেশনটি করে দেন, বলেন জজ মিয়া।

হাসপাতালের ল্যাব টেকনিশিয়ান সাদিয়া বলেন, টেস্ট রিপোর্টে ডান চোখেই ব্লক দেখানো হয়েছে। এরপরও ডাক্তার বাম চোখ অপারেশন করেছেন। এখন তার ভুল ধামাচাপা দিতে আমার ও রিপোর্টের উপর দোষ চাপাচ্ছেন।

অভিযুক্ত ডা. ফারুক হাসান বলেন, আমি রোগীর ডান চোখে ব্লক নির্ণয় করি এবং অপারেশনের জন্য বলি। তবে ল্যাব টেকনিশিয়ান ভুলবশত ডান চোখের পরিবর্তে বাম চোখে ব্লক দেখিয়ে রিপোর্ট করেন। এ কারণে ডান চোখের পরিবর্তে আমি বাম চোখের অপারেশনটি করে ফেলি। এরপরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি মীমাংসা করেছেন। পরবর্তীতে ১৬ মার্চ আমার তত্ত্বাবধানেই ওই রোগীর ডান চোখের অপারেশনটি বিনা পয়সায় করে দেয়া হয়েছে।

ভূঞাপুর চক্ষু হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ভুলবশত ডান চোখের পরিবর্তে বাম চোখ অপারেশন করা হয়েছিল। পরে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে রোগীর ডান চোখটির অপারেশন করে বিষয়টির মীমাংসা করা হয়েছে।

টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. শাহবুদ্দিন খান বলেন, অতিদ্রুতই জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ওই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

(ঢাকাটাইমস/৮এপ্রিল/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :