অপহরণকাণ্ডে রহিমা-মরিয়মদের শাস্তি ও গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দাবি

খুলনা ব্যুরো, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২১:২২

খুলনার বহুল আলোচিত রহিমা বেগমের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে প্রতিপক্ষকে মামলায় জড়ানোর পরিকল্পিত ছক আখ্যা দিয়ে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। একই সঙ্গে এই ঘটনায় যারা মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে কারাগারে আছেন তাদের মুক্তি চেয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার দুপুর বেলা সাড়ে ১২টায় খুলনা যশোর মহাসড়কের ফুলবাড়ীগেট বাসস্ট্যান্ড চত্বরে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে কথিত এই নিখোঁজের ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী রহিমার মেয়ে মরিয়ম মান্নান, আদুরী আক্তার ও মিরাজ হোসেন সাদীসহ ষড়যন্ত্রকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলেন বক্তারা।

মো. আলামিন হাওলাদারের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কেসিসি ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. সাইফূল ইসলাম, ফুলবাড়ী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম, খানাবাড়ী যুব সংঘ ক্লাবের সভাপতি আবু হেনা বাবলু, সাধারণ সম্পাদক তৈয়বুর রহমান লিটন, মহানগর বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিজান, এনামুল হাসান ডায়মন্ড, ইউপি সদস্য মো. মামুন শেখ, সাবেক ইউপি সদস্য সরদার শহিদুল ইসলাম, সাবেক ইউপি সদস্য মোল্যা সোহরাব হোসেন, বিল্লাল হোসেন, আটককৃত মহিউদ্দিনের কন্যা মালিহা মহিউদ্দিন মাহি, হেলাল শরীফের কন্যা অন্তরা ফাহমিদা, পলাশের স্ত্রী মরিয়ম হাসান মৌ, মরিয়ম মান্নানের সৎ ভাই মিজানুর রহমান ও হুমাউন কবির, আমজিয়ার রহমান, সেকেন্দার মন্ডল, মশিউর রহমান, মেজবাউল হক মেজবা, সোহান, রাজু সরদার, মেহেদী হাসান, সোহেলসহ মহেশ্বরপাশা খানাবাড়ী এলাকার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। মানববন্ধনে পরিকল্পনাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আটককৃতদের দ্রুতমুক্তির দাবি সংবলিত ব্যানার, প্লাকাট ও ফেস্টুন নিয়ে এলাকার সকল দলমত, নারী-পুরুষ, শিশু কিশোর আবালবৃদ্ধ, সামাজিক, রাজনৈতিক, সুশিল সমাজ, বৈশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রহিমা বেগম নিখোঁজের ঘটনা তার মেয়ে মরিয়ম মান্নানসহ পরিবারের সদস্যরা কিভাবে পরিকল্পনা করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে তা ইতোমধ্যে দেশের মিডিয়াগুলোর মাধ্যমে দেশবাসী ও বিশ্ববাসী দেখেছে। রহিমা বেগমের মেয়ে মরিয়ম মান্নানসহ স্বজনরা পরিকল্পিত ঘটনা সৃষ্টি করে আইন শৃংখলা বাহিনীর ওপর এর দায় চাপিয়ে হুংকার দিয়েছে। আইনশৃংখলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থাকে মরিয়ম মান্নানরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে ফায়দা লুটতে চেয়েছিল।

বক্তারা বলেন, নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে তারা দেশের এবং আইনশৃংখলা বাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। যে মুহূর্তে মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে গুম অপহরণ নিয়ে বিশ্ব মোড়লরা দেশের আইন শৃংখলাবাহিনীর দিকে আঙুল তুলেছে ঠিক সেই মুহূর্তে এ ধরনের একটি ঘটনার সৃষ্টি করে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে।

আটককৃতদের পরিবারের স্বজনরা বলেন, ১৭ কোটি মানুষের আবেগ নিয়ে যারা খেলা করেছে তাদের বিচার না হলে এমন অনেক ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

কথিত অপহরণ মামলায় একমাস যাবত কারাগারের থাকা নির্দোষ মহিউদ্দিন, গোলাম কিবরিয়া, জুলেয়, পলাশ ও হেলাল শরীফের দ্রুত মুক্তির দাবি জানান বক্তারা

চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে আটককৃতদের মুক্তি না দিলে একই দাবিতে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসুচি পালনের ঘোষণা দেন তারা।

উল্লেখ্য, মহেশ্বরপাশা খানাবাড়ী গ্রাম থেকে গত ২৭ আগস্ট রাতে রহিমা বেগম নিখোঁজ হলে তার মেয়ে আদুরী আক্তার বাদী হয়ে ২৮ আগস্ট দৌলতপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি অপহরণ মামলা করে।

ইতোমধ্যে রহিমা বেগমকে আইনশৃংখলা বাহিনী গত ২৪ সেপ্টেম্বর জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে ঘটনার রহস্য প্রায় উন্মোচন করেছে। কিন্তু জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে ওই মামলায় প্রতিবেশী হেলাল শরীফকে গত ৩০ আগস্ট, প্রতিবেশী কুয়েটের সহকারী প্রকৌশলী ইঞ্জি, মো. গোলাম কিবরিয়া. ব্যবাসায় মহিউদ্দিন, ব্যাবসায়ী জুয়েল ও সরকারি চাকুরীজীবি রফিকুল ইসলাম পলাশকে পুলিশ ডেকে নিয়ে গত ৪ সেপ্টেম্বর এবং সর্বশেষ নিখোঁজ রহিমা বেগমের স্বামী বিল্লাল হাওলাদার ওরফে বেল্লাল ঘটককে ১২ সেপ্টেম্বর দৌলতপুর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত রহিমা বেগমের স্বামীসহ মোট ৬ জন এখন পর্যন্ত কারাগারে রয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/২৯সেপ্টেম্বর/এআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :