চুপি চুপি চোখের পানি মোছার দিন শেষ, এবি পার্টির নারী সমাবেশে বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১৮:২২

‘আমরা সচেতন হবো। ঘুরে দাঁড়াবো। এখন থেকে নীরবে শুধু কষ্ট সহ্য করব না। সবাইকে সংগঠিত করে নারীদের মধ্যে একটা ঐক্য গড়ে তুলবো। এ ঐক্য অন্যায় জুলুম আর শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ঐক্য। এ ঐক্য চোর ডাকাতদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার ঐক্য। নারীদের চুপি চুপি চোখের পানি মোছার দিন শেষ। স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সংগ্রাম শুরু।’

এসব কথা বলেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) ওমেন্স উইং আয়োজিত প্রতিবাদী নারী সমাবেশে বক্তারা। শনিবার বিকালে রাজধানীর বিজয়নগরের দলীয় কার্যালয়ে লাগামহীনভাবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, রিজার্ভ সংকট, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও ব্যাংকিং খাতে লুটপাটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে এবি পার্টি ওমেন্স উইং।

ওমেন্স উইংয়ের সমন্বয়ক নাসরীন সুলতানা মিলির সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন এবি পার্টির সহকারী সদস্য সচিব শ্রমিক নেত্রী বেবী পাঠান। এ সময় এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুর রহমান কচি, সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মন্জু ও যুগ্ম সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জান ফুয়াদ সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, একটি দেশে যখন গণতন্ত্র থাকে না; তখন স্বৈর-ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়। অবাধ দুর্নীতি, সীমাহীন স্বেচ্ছাচারিতা ও অনাচারের যাঁতাকলে রাষ্ট্রযন্ত্র এবং এর প্রতিটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান যখন ভেঙে পড়ে, তখন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকই জুলুম ও বঞ্চনার শিকার হয়। তবে আর্থ-সামাজিক কারণে নারীরাই তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে; ফলতঃ সব মিলিয়ে পরিবারসহ সর্বত্র নারীর প্রতি সহিংসতা ও বিমাতাসুলভ আচরণ হয়ে পড়ে নিয়ন্ত্রণহীন।

তিনি বলেন, গত দুই দুইটা নির্বাচনে আমরা ভোট দিতে পারিনি। জনগণের নির্বাচিত কোন প্রতিনিধি সংসদে নাই। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া প্রথাগত নারী নয়, এরা পরিবারের উত্তরাধিকার সূত্রে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নেতা। তাই পুরুষতান্ত্রিক ধ্যান ধারনায় এরা রাষ্ট্র চালাচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির সহকারী সদস্য সচিব নাসরীন সুলতানা মিলি বলেন, আসুন আমরা ঘরে ঘরে গিয়ে মা-বোনদের সচেতন করে তুলি। যে নারী ঘর সামলায় সে দেশও সামলাতে পারে। যে নারী ভালোবাসা দিতে জানে সে লাঠি হাতে দূর্বৃত্তদের শায়েস্তাও করতে জানে। এই সরকারের প্রধান একজন নারী। কিন্তু তার মধ্যে কোন মাতৃত্বের মমতা নাই। তার প্রত্যেকটা কথা ও কাজ হিংসাত্মক। তিনি সত্য কথা বলতে জানেন না। তিনি বলেছিলেন ১০ টাকা দামে চাল খাওয়াবেন, ঘরে ঘরে চাকরী দিবেন। এখন চালের কেজি ৬০ টাকা। ঘরে ঘরে প্রতিদিন বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। জনগণ এত বিক্ষুব্ধ যে জনগণের মুখে এখন একটাই শ্লোগান- ছি ছি হাসিনা, লজ্জায় বাঁচিনা।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজকে আমাদের নারী সমাজকে কলংকিত করেছেন। আমি আমার নারী সংগঠকদেরকে বলবো আমরা এখন থেকে শুধু কষ্ট সহ্য করবোনা। চুপি চুপি চোখের পানি মুছবো না। আমরা সচেতন হবো। ঘুরে দাঁড়াবো। সবাইকে সংগঠিত করে নারীদের মধ্যে একটা ঐক্য গড়ে তুলবো। এ ঐক্য অন্যায় জুলুম আর শোষনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ঐক্য। এ ঐক্য চোর ডাকাতদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার ঐক্য।

প্রতিবাদি নারী সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন দলের নেত্রী রুনা হোসেন, সুলতানা রাজিয়া, ফেরদৌসী আক্তার অপি, আমেনা বেগম, জেসমিন আক্তার মুক্তা, আসমা আক্তার জ্যোতি, রাশিদা আক্তার মিতু, রাখি আক্তার, তানজিনা ইসলাম প্রমুখ। সমাবেশে সংহতি জানান এবি পার্টির কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম এফসিএ, যুব পার্টির আহ্বায়ক এবিএম খালিদ হাসান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আলতাফ হোসেইন, সহকারী সদস্য সচিব এম আমজাদ খান, শ্রমিক নেতা শাহ আব্দুর রহমান, যুবনেতা এম ইলিয়াছ আলী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার ফারুক, নারায়নগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক শাহজাহান বেপারী, কেন্দ্রীয় সহ প্রচার সম্পাদক মিনহাজুল আবেদীন শরিফ প্রমুখ।

(ঢাকাটাইমস/২৬নভেম্বর/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

রাজনীতি এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :