ইসরায়েলি হামলায় নয় ফিলিস্তিনি নিহত, নিরাপত্তা সহযোগিতা স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১৩:৪৮ | প্রকাশিত : ২৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১০:৩৭

অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শহরে ভয়াবহ অভিযান চালিরেয়ছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। অভিযানে অন্তত নয়জন ফিলিস্তিনি নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, এটা বছরের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক হামলা। এ ঘটনার পর তেল আবিবের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বশাসন কর্তৃপক্ষ।

মৃতদের মধ্যে জেনিনের ফ্ল্যাশপয়েন্ট শহরে ৬১ বছর বয়সী একজন মহিলার কথা জানা গেছে। খবর বিবিসির।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, তাদের সৈন্যরা ‘বড় হামলার’ পরিকল্পনাকারী ইসলামিক জিহাদ ‘সন্ত্রাসী অপারেটিভস’ কে গ্রেপ্তার করতে গিয়েছিল।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্সি ইসরায়েলকে গণহত্যার জন্য অভিযুক্ত করেছেন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদাইনা বলেছেন, আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে ইরাইলের অব্যাহত আগ্রাসন এবং স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো নস্যাৎ করে দেয়ার পর আমরা মনে করি দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা আর বিদ্যমান নেই।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জেরুজালেমের নিকটবর্তী আল-রাম শহরে ইসরায়েলি সৈন্যদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় একজন ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করা হয়, কারণ ওই শহরের বাসিন্দারা জেনিন অভিযানের প্রতিবাদ করেছিলেন।

ইসরায়েলে ‘দুটি রকেট ছোড়ার’ পর তারা গাজায় ফিলিস্তিনি সংগ্রামীদের (মিলিট্যান্ট) ওপর রাতভর বিমান হামলা চালিয়েছে। গাজার কোনো গোষ্ঠী রকেটের দায় স্বীকার করেনি। উভয়ই রকেটই ইসরায়েলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা আটকানো হয়েছিল।

গাজায় বোমা হামলার মাত্রা এখনও স্পষ্ট নয়, যদিও বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, উভয় পক্ষে কোনো আহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার সকালে তিন ঘণ্টা ধরে ফিলিস্তিনি ‘সংগ্রামী’ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে প্রচণ্ড যুদ্ধ চলার কারণে জনাকীর্ণ জেনিন শরণার্থী শিবির জুড়ে ভারী বন্দুকযুদ্ধ এবং বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিহতদের মধ্যে মাগদা ওবায়েদ (৬১), সায়েব ইজরিকি (২৪) এবং ইজিদিন সালাহাত (২৬) নামে তিনজনকে শনাক্ত করেছে। বিশ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর।

ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) বলছে, তাদের সৈন্যরা জেনিনে প্রবেশ করেছে একটি ইসলামিক জিহাদ ‘সন্ত্রাসী স্কোয়াড’কে গ্রেপ্তার করতে, যারা ‘ইসরায়েলি বেসামরিক এবং সৈন্যদের ওপর একাধিক বড় হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে ব্যাপকভাবে জড়িত’ বলে অভিযোগ রয়েছে।

আইডিএফ বলছে, বাহিনী একটি বিল্ডিংকে ঘিরে রাখে এবং তিনজন সশস্ত্র সন্দেহভাজন গুলি চালানোর পরে নিষ্ক্রীয় হয়েছে এবং চতুর্থ সন্দেহভাজন আত্মসমর্পণ করেছে। আইডিএফ দাবি করছে, তাদের সৈন্যদের ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীরা গুলি করেছে এবং তারা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে পাল্টা গুলি করে।

ইসলামিক জিহাদ এবং হামাস বলেছে যে তাদের যোদ্ধারা সেনাদের লক্ষ্যবস্তুতে গুলি ও ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস দিয়ে হামলা চালিয়েছে।

আইডিএফ বলেছে, বাড়িটিকে ইসলামিক জিহাদ সেল একটি আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছে। যেখানে ভেতরের আসবাবপত্রে আগুন লেগেছে এবং এখনও ধোঁয়া উঠছে।

নিচতলায় বাইরের দেয়ালগুলি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। একটি বাথরুমের কল এবং সিঙ্ক উন্মুক্ত রাখা ছিল। উপরের তলায় বুলেটের ছিদ্র ছিল, সিঁড়িতে রক্তের জমে ছিল।

পাশের বাড়ির আয়েশা আবু আল-নাজ (৭৩) বিবিসিকে বলেছেন, অভিযানের সময় তার বাড়ি কেঁপে ওঠে এবং তিনি ও তার পরিবার জীবন নিয়ে ভয় পেয়েছিলেন।

‘আমরা ভয় পেয়েছিলাম। আমি সেনাবাহিনীকে দেখেছি এবং তারপর আমি জানালা খুলতে বা দেখতে পারিনি। এটি একটি ভীতিকর পরিস্থিতি ছিল,’ তিনি বলেন।

‘আমাদের বিল্ডিংয়ের পাশে কিছু তরুণ ফিলিস্তিনি ছিল যারা তখন এসে এটিকে ঘিরে ফেলে। তারা তাদের লক্ষ্য করে গুলি করে। এবং তারপরে সেখানে অনেক লোক নিহত হয়।’ যোগ করেন আয়েশা আবু আল-নাজ।

মাগদা ওবায়েদের মেয়ে বলেছেন যে তার মা-ও টার্গেট করা বাড়ির কাছেই থাকতেন এবং কী ঘটছে তা দেখার জন্য তিনি জানালা দিয়ে উঁকি দেওয়ার সময় তার ঘাড়ে গুলি করা হয়েছিল।

এদিকে শহীদ ফিলিস্তিনিদের দাফন অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন। ফিলিস্তিনিদের লাশ কাঁধে করে জেনিন শহরের সরকারি হাসপাতালের সামনে যান। তার আগে তারা জেনিন শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া লোকজন ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে মিছিল করেন এবং ইসরাইলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়ে নানা স্লোগান দেন।

ইসরায়েলি গণহত্যা বন্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

গতকালের হামলার পর মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, জেনিন শরণার্থী শিবিরে দখলদার সেনারা যে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে তা ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং এটি গণহত্যা।

(ঢাকাটাইমস/২৭জানুয়ারি/এফএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ

সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার শর্তে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে চায় মিয়ানমারের জান্তা সরকার

ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শপথ নিলেন পাকিস্তানের পাঞ্জাব বিধানসভার নবনির্বাচিত এমপিরা

গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৪০ ফিলিস্তিনি নিহত, প্রাণহানি ছাড়াল সাড়ে ২৯ হাজার  

রাশিয়ার ৫০ নাগরিক-প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা

জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ চাইবে ফিলিস্তিন

ইউক্রেনের জন্য সামনে কি অপেক্ষা করছে? 

বিশ্বের জনপ্রিয় রাষ্ট্রনেতা মোদি, বাইডেন-ট্রুডো কত নম্বরে? 

নাভালনির স্ত্রী-কন্যার সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বাইডেন

স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া অগ্নিকাণ্ডে ৪ জন নিহত

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :