চাঁদপুরের বাজারে কাঁচা মরিচের কেজি ৭০০, অপরিচিতদের কাছে মরিচ বেচেন না বিক্রেতারা

চাঁদপুর প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৩, ১২:৩৫ | প্রকাশিত : ০৩ জুলাই ২০২৩, ১০:৫০

চাঁদপুরের বাজারে কাঁচা মরিচের দাম এখন ৭০০ টাকা কেজি। তাও বিক্রি হচ্ছে গোপনে। প্রকাশ্যে কাঁচা মরিচ কিনতে চাইলে বিক্রেতার কাছে ক্রেতা অপরিচিত হলে মরিচ নেই বলে বিদায় করে দিতে দেখা যাচ্ছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিক্রেতার কাছে ক্রেতা পরিচিত হলে প্রশাসনের জরিমানা থেকে বাঁচতে বলা হয় কতটুকু লাগবে। ক্রেতার যতটুকু দরকার সে পরিমাণ কাঁচা মরিচ অন্যস্থান থেকে এনে দেওয়া হয়।

চাঁদপুর সদর, হাজিগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, কচুয়া, শাহরাস্তি, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ ও হাইমচর উপজেলার বিভিন্ন হাট ও বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করছে সবজি বিক্রেতারা।

যার ফলে এ জেলার নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষেরা তাদের নিত্যদিনের চাহিদা পূরণে কাঁচা মরিচ কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।

রবিবার জেলার বিভিন্ন হাট ও বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় কাঁচা মরিচের উৎপাদন কম ও এ বছর বৃষ্টির কারণে কাঁচা মরিচ পচে যাওয়ায় দাম অনেকগুণ বেড়েছে।

এদিকে ঈদকে সামনে রেখে হঠাৎ করে কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে গেছে। এ জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা দরে। জুনের মাঝামাঝি ছিল ১৬০ টাকা প্রতি কেজি। গত প্রায় ১ সপ্তাহ পূর্বে বাজারের আড়ৎগুলোতে পাইকারি ২০০ টাকা দরে ও খোলা বাজারে খুচরা ২২০ টাকা দরে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে। সেটা এখন লাফিয়ে লাফিয়ে ৯০০ টাকা পর্যন্ত হয়। কিন্তু ভারত থেকে আমদানির খবর শুনে রবিবার বিকাল থেকে দাম কমে প্রতি কেজি ৭০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

ঈদের ৩ দিন আগে যে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ৩৬০ টাকায়, সে মরিচ ঈদের আগের দিন বুধবার দিনভর প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ৮০০ টাকায়। সে কাঁচা মরিচই চাঁদরাতে বিক্রি শুরু করেছে ৯০০ টাকায়।

বর্তমানে চাঁদপুরের হাটবাজারে এখন কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭০০ টাকায়। শহরের প্রধান আড়ৎ ঐতিহ্যবাহী পালবাজার, পুরানবাজার, নতুন বাজার ও উপজেলার হাজিগঞ্জে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ গত বুধবার থেকে রবিবার পর্যন্ত পাইকারী বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮২০ টাকা টাকা দরে।

এদিকে কাঁচা মরিচের দাম অধিক বৃদ্ধি পাওয়ায় কোনো ক্রেতা এখন ১ কেজি বা ৫০০ গ্রাম আধাকেজি ক্রয় করার সাহস পাচ্ছে না। তাই ক্রেতারা এখন ১০০ গ্রাম ৯০ টাকা বা ৫০ গ্রাম কাঁচা মরিচ ৫০ টাকায় কিনছেন।

চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার মরিচ বিক্রেতা কবির হোসেন জানান, এ বছর বৃষ্টিতে মরিচ গাছের ফুল পড়ে যাওয়ার কারণেই কাঁচা মরিচের উৎপাদন কম হওয়ায় কৃষক তাদের খরচ মিটাতে আমাদের কাছে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে। মরিচের বাজার দর বেশি। একজন কৃষক পাঁচ কেজি কাঁচা মরিচ বাজারে এনে পাইকারদের কাছে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করে।

যার কারণে আড়ৎদার ব্যবসা করে বিক্রি করায় খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচ ৯০০ টাকা বিক্রি করতে বাধ্য হয়।

শহরের পালবাজারের ব্যবসায়ী মফিজ হোসেন ঢাকা টাইমসকে জানান, এখন মরিচের বাজারে দাম অনেক চড়া। আমরা পাইকারিতে ক্রয় করতে হয় প্রতি কেজি ৮০০ টাকা দরে। ঈদের ২দিন আগে ৩৬০ টাকায় কাঁচা মরিচ কিনায় ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। এখন দাম বেড়ে আড়তে ৮০০ থেকে ৮২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রি করতে হয় ৯০০ টাকায়। এত দামে বিক্রি করতে পুলিশ এসে জামেলা করবে। যার কারণে কাঁচা মরিচ বিক্রি বন্ধ রেখেছি।

শহরের এক গৃহবধূ শামছুন্নাহার ঢাকা টাইমসকে জানান, গত এক মাস আগে ৩ কেজি কাঁচা মরিচ চর এলাকা তারাবুনিয়ার এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৮০ টাকা কিনে বেলেন্ডার করে রেখেছি। সে কাঁচা মরিচ দিয়ে তরিতরকারি রান্না করছি। ঈদের ৫-৬দিন পূর্বে পালবাজারের আড়তে দেখলাম প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাই খুচরা বাজার থেকে আধা কেজি কাঁচা মরিচ ১১০ টাকায় কিনেছি। এখন মরিচের প্রয়োজনে মরিচ কিনতে এসে ঈদের আগের দিন কাঁচা মরিচ ৮০০টাকা বিক্রি হলেও এখন বিক্রি করছে ৯০০ টাকায়। এত দাম দিয়ে আমাদের মত মধ্যবিত্তরা মরিচ ক্রয় করা সম্ভব না।

সদর উপজেলার হরিনা কমলাপুরের কৃষক আব্দুল বারেক হাওলাদার ঢাকা টাইমসকে বলেন, কিছুদিন আগে রোদের কারণে মরিচের গাছ থেকে ফুল ঝরে পড়েছে। ফলে মরিচ এবার কম হওয়ায় দাম বেড়েছে। আমি আট কেজি কাঁচা মরিচ পালবাজারে আনার পর প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রয় করি।

আরও পড়ুন: সুগন্ধায় জাহাজ বিস্ফোরণে চাঁদপুরের মাসুদ নিখোঁজ

চাঁদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাফায়েত আহমেদ সিদ্দিককী ঢাকা টাইমসকে বলেন, এই মৌসুমে সব সময় মরিচের ঘাটতি বেশি থাকে। তবে এ বছর মরিচের দাম তূলনামূলক বেশি। কৃষক যেখানে কাঁচা মরিচের আবাদ করে সেখানে দাম কম। কিন্তু অন্যা জেলায় যখন সরবরাহ হয় আড়তদার থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে দাম বেড়ে যায়। বর্তমানে অতিরিক্ত যে মূল্যে এখন মরিচ বিক্রি হচ্ছে, সে দামের মধ্যে যদি কৃষক প্রতি কেজি ৪০০ টাকাও পেত, তাহলে তারা আগামীতে আরো বেশি আবাদ করার জন্য উৎসাহ পেত।

(ঢাকাটাইমস/৩জুলাই/এসএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশ এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :