ঈদযাত্রায় সড়কে প্রাণহানি ৩২০, গাড়ি ডাম্পিং ৫১টি, জরিমানা প্রায় ৪২ লাখ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৪, ১৭:৪৯ | প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০২৪, ১৭:২০

ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সড়কে অনিয়ম রোধ ও শৃঙ্খলা রক্ষায় একযোগে কাজ করেছে হাইওয়ে পুলিশসহ প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থা। ব্যস্ততম ও আনন্দযাত্রায় বেশ কয়েকটি বড় দুর্ঘটনাসহ সারাদেশে অনেক দুর্ঘটনায় ৩ শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। অনিয়মের অভিযোগে বিভিন্ন যানবাহন চালকদের মামলা দেওয়া হয়েছে ২ হাজারেরও বেশি।

রবিবার ঈদযাত্রার সফলতা-ব্যর্থতা ও সড়কের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ ব্রিফিং করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার।

এসময় তিনি বলেন, ‘বিআরটিএর বিভিন্ন কার্যক্রমে এবার যানজটমুক্ত ঈদযাত্রা উপহার দেওয়া সম্ভব হলেও দুটি বড় সড়ক দুর্ঘটনা এ সফলতাকে কিছুটা ম্লান করেছে।’

সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান জানান, এবারের ঈদ যাত্রাকে কেন্দ্র করে গত ১ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত ৬৪ জেলার বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে নানা অপরাধে মোট ২ হাজার ১১৩টি মামলায় ৪১ লাখ ৬৫ হাজার ৯শ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একইসঙ্গে ৫১টি গাড়ি ডাম্পিং স্টেশনে পাঠানো হয়েছে।

দুপুরে রাজধানীর বনানী বিআরটিএ ভবনে ‘ঈদ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ের সড়ক দুর্ঘটনা, বিআরটিএর গৃহীত ব্যবস্থা ও সড়কের সার্বিক নিরাপত্তা’ সংক্রান্ত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব জানান।

নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, ‘পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরের দিন থেকে ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ, সড়ক-মহাসড়কে ওভার স্প্রিড নিয়ন্ত্রণ, নসিমন, করিমন, থ্রি-হুইলার, ইজিবাইক চলাচল বন্ধে দেশের ৬৪ জেলায় প্রতিদিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

বিআরটিএ চেয়ারম্যান আরও জানান, হাইওয়ে পুলিশ কর্তৃক একই সময়ে সারাদেশে ওভারস্পিড, ঝুঁকিপূর্ণ নিষিদ্ধ যান ও আনফিট গাড়িসহ অন্যান্য বিষয়ে মোট ৮ হাজার ৫৯২ প্রসিকিউশন দায়ের করা হয়েছে।

নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, গত ৪ এপ্রিল হতে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত ১৭ দিনে বিআরটিএর রিপোর্ট অনুযায়ী ২৮৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২০ জন নিহত ও ৪৬২ জন আহত হয়েছেন। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ১৯ জন নিহত ও প্রায় ২৭ জন আহত হয়।

গত বছর ২০২৩ সালের ঈদুল ফিতরকালীন অর্থাৎ ১৫ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত ১৫ দিনে মোট ২৫৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৩৯ জন নিহত ও ৫১০ জন আহত হয়েছিলেন। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত ও ৩৪ জন আহত হন।

পর্যালোচনার তথ্য জানিয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবারে ঈদুল ফিতরে গড় দুর্ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়নি, তবে গড় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৩ জন বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবারে নিহতের গড় সংখ্যা প্রায় ১৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।’

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঈদ পূর্ববর্তী অর্থাৎ ৪ এপ্রিল হতে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ৭ দিনে সারাদেশে ১১৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২৭ জন নিহত ও ২০৬ জন আহত হয় অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৭টি দুর্ঘটনায় প্রায় ১৮ জন নিহত ও প্রায় ২৯ জন আহত হন। ঈদ পরবর্তী অর্থাৎ ১২ এপ্রিল হতে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত ৯ দিনে সারাদেশে ১৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬৬ জন নিহত ও ২৩৩ জন আহত হয় অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৭টি দুর্ঘটনায় প্রায় ১৮ জন নিহত ও প্রায় ২৬ জন আহত হন।

ঈদকালীন অর্থাৎ ৪ এপ্রিল হতে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ২৫৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৯৫ জন নিহত ও ৪০৫ জন আহত হয়েছেন।

তবে শনিবার যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, চলতি বছর ঈদযাত্রায় (৪-১৮ এপ্রিল) ৩৯৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০৭ জন নিহত হয়েছেন। আর আহত হয়েছেন এক হাজার ৩৯৮ জন।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির এই পরিসংখ্যান সম্পর্কে বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদেরকে পরিসংখ্যানগত কোনো গরমিল প্রসঙ্গে অবহিত না করে ৪ থেকে ১৮ এপ্রিল অর্থাৎ ১৫ দিনের সড়ক দুর্ঘটনার যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে তাতে নিহতের সংখ্যা বিআরটিএর তথ্য থেকে শতাধিক বেশি যা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য না।’

পর্যালোচনায় দেখা যায়, সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৪০৯টি মোটরযানের মধ্যে মোটরকার/জিপ ১৮টি (৪.৪০%), বাস/মিনিবাস ৭৭টি (১৮.৮৩%), ট্রাক/কাভার্ডভ্যান ৫৩টি (১২.৯৬%), পিকআপ ১৯টি (৪.৬৫%), মাইক্রোবাস ১১টি (২.৬৯%), মোটরসাইকেল ১১৭টি (২৮.৬১%), ভ্যান ০৮টি (১.৯৬%), ট্রাক্টর ০৬টি (১.৪৭%), ইজিবাইক ১৬টি (৩.৯১%), ব্যাটারিচালিত রিকশা ১৬টি (৩.৯১%), অটোরিকশা ২৯টি (৭.০৯%) ও অন্যান্য যান ৩৯টি (৯.৫৪%)।

মোট নিহত ২৯৫ জনের মধ্যে মোটরকার/জিপ দুর্ঘটনায় ৮ জন (২.৭১%), বাস/মিনিবাস দুর্ঘটনায় ২৪ জন (৮.১৪%), ট্রাক/কাভার্ডভ্যান দুর্ঘটনায় ৪৪ জন (১৪.৯২%), পিকআপ দুর্ঘটনায় ২৩ জন (৭.৮০%), মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় ০৮ জন (২.৭১%), মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১১৫ জন (৩৮.৯৮%), ভ্যান দুর্ঘটনায় ০৫ জন (১.৬৯%), ইজিবাইক দুর্ঘটনায় ০৯ জন (৩.০৫%), ব্যাটারিচালিত রিকশা দুর্ঘটনায় ০৮ জন (২.৭১%), অটোরিকশা দুর্ঘটনায় ১৯ জন (৬.৪৪%) ও অন্যান্য যান দুর্ঘটনায় ৩২জন (১০.৮৫%)।

(ঢাকাটাইমস/২১এপ্রিল/এমআই/এসআইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :