এমপি আজীমের বিরুদ্ধে ২১টি মামলা ছিল, অধিকাংশই বিএনপি আমলে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ২৩ মে ২০২৪, ০০:৪৬ | প্রকাশিত : ২৩ মে ২০২৪, ০০:০২

বিভিন্ন সময় ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের বিরুদ্ধে ২১টি মামলা হয়েছিল। অস্ত্র, বিস্ফোরক, মাদকদ্রব্য ও স্বর্ণ চোরাচালান, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি এবং চরমপন্থিদের আশ্রয় দেওয়ার মতো অভিযোগ ছিল এসব মামলায়। যার মধ্যে ১৪টি মামলায় তিনি আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন; আর বাকি মামলায় 'ডিসচার্জ' (অব্যাহতি) পান। ২০০১ সাল থেকে ২০০৭ সালের (বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে) মধ্যে আনারের বিরুদ্ধে এসব মামলা হয়েছিল। যা ঝিনাইদহের কোর্টচাঁদপুর, কালীগঞ্জ ও চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা থানায় হয়। যদিও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এলে তিনি সবগুলো মামলা থেকে নিজেকে মুক্ত করেন।

ফৌজদারী কার্যবিধির ২৬৫ গ, ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে ২৪১ ক ধারা অনুযায়ী মামলার নথি, দাখিলকৃত দলিলাদি এবং তৎ সম্পর্কে আসামি ও অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত যদি মনে করেন আসামীর বিরুদ্ধে মামলা চালাবার যথেষ্ট কারণ নাই। তাহলে আদালত আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতি বা 'ডিসচার্জ' দেন এবং তার কারণ লিপিবদ্ধ করে রাখেন। সেই অনুয়ায়ী আনার সাতটি মামলায় অব্যাহতি পেয়েছিলেন।

গত ১১মে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সরকার দলীয় এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার চিকিৎসার জন্য ভারত যান। হঠাৎ তার সঙ্গে ১৪ মে সবার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দেশটিতে তার দীর্ঘদিনের বন্ধু গোপাল বিশ্বাস উত্তর ২৪ পরগনা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এরইমধ্যে বুধবার খবর আসে

কলকাতার নিউটাউনের অভিজাত আবাসন সঞ্জীবা গার্ডেন থেকে তার শরীরের অংশ উদ্ধার হয়েছে। তবে তার মরদেহ উদ্ধার নিয়ে নানান বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কারণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধারণা করছে, তার মরদেহ খন্ড-বিখন্ড করে বিভিন্ন জায়গায় ফেলা হয়েছে। ওই ভবনে শুধু রক্তের দাগ ও আনারের কাপড় পাওয়া গেছে।

নিহতের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে বুধবার রাজধানীর শেরে-বাংলা নগর থানায় মামলা করেন আনারের ছোট মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। যেখানে অজ্ঞাত আসামিরা তার বাবাকে খুনের উদ্দেশ্য অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ আনা হয়। বর্তমানে মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ওয়ারী বিভাগের ডিসি আ. আহাদ।

একইদিন দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, 'আনারকে হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; যাদের সবাই বাংলাদেশি। তাকে হত্যার রহস্য উদঘাটনে দুইদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।'

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সীমান্ত দিয়ে পাশ্ববর্তী দেশে স্বর্ণচোরাচালান, হুন্ডিসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন আনার। তারই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সময় একাধিক থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। সর্বশেষ তার বিরুদ্ধে ২১টি মামলার তথ্য পাওয়া যায়। যা বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে তার নামে হয়েছিলো। একসময় আনারের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি ছিল। তাছাড়া কুষ্টিয়া অঞ্চলের চরমপন্থি নেতা মুকুলের সঙ্গেও তার ব্যাপক ঘনিষ্ঠতা ছিল। আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০০৬ সালে ইন্টারপোলের তালিকায় আনারের নাম ওঠে। ২০০৯ সালে ইন্টারপোলের ওয়ান্টেড তালিকা থেকে নাম প্রত্যাহার হওয়ার পর এলাকায় ফিরে আগের মতোই কর্মকাণ্ড শুরু করেন তিনি।

জানা গেছে, আনারের পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের মধুগঞ্জ বাজার এলাকায়। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টানা তিনবার আওয়ামী লীগ থেকে তিনি এমপি নির্বাচিত হন। বিএনপির আমলে যৌথ বাহিনীর অভিযানের সময় তিনি পাশ্ববর্তী দেশে পলাতক ছিলেন। ইন্টারপোলের নোটিশ জারির সময় একবার তাকে পুলিশ আটক করলেও তার সমর্থকরা পুলিশের কাছ থেকে তাকে ছিনিয়ে নেয়। একসময় বিএনপির অনুসারী হিসেবে পরিচিত থাকলেও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে তিনি দল পরিবর্তন করেন (আ.লীগে যোগদেন)। ২০০৭ সালে ১৩ কেজি স্বর্ণ ধরে তৎকালীন বিডিআর। এই ঘটনায় স্বর্ণ ধরিয়ে দেবার সন্দেহে সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। সেই ঘটনায় চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা থানায় মামলা হয়। সেই মামলায় আসামি ছিলেন আনার। পুলিশ তার বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদনও দেয়। তবে ২০১২ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় তিনি মামলা থেকে অব্যাহতি পান। এছাড়া বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আনার নিজের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো থেকে নিজেকে মুক্ত করেন।

(ঢাকাটাইমস/২২মে/এসএস/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

অপরাধ ও দুর্নীতি এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :