গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যে আবারও ইসরায়েলের হামলা, নিহত ২৮ ফিলিস্তিনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২০ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:০১
অ- অ+

গাজা উপত্যকায় যুক্তরাষ্ট্র–মধ্যস্থ যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা অবস্থায় নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলায় কমপক্ষে ২৮ ফিলিস্তিনি নিহত এবং অন্তত ৭৭ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই হামলাকে চলমান যুদ্ধবিরতির সবচেয়ে বড় লঙ্ঘনগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসি, গাজা সিটির শুজায়েয়া জংশন ও জেইতুন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী বিমান হামলা চালায়। এসব স্থানে সেই সময় বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষের উপস্থিতি ছিল।

গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেইতুন এলাকার একটি ভবনে নিহতদের মধ্যে একটি সম্পূর্ণ পরিবার—পিতা, মাতা ও তাদের তিন সন্তান—অন্তর্ভুক্ত। প্রতিবেদক হানি মাহমুদ বলেন, “যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও গাজায় প্রতিদিনই মৃত্যু ও আতঙ্ক থামছে না।”

অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা “হামাসের লক্ষ্যবস্তুতে” হামলা চালিয়েছে। তাদের বক্তব্য, খান ইউনিস এলাকায় ইসরায়েলি সৈন্যদের ওপর গুলি চালানো হয়েছিল, যার জবাবে এই অভিযান পরিচালিত হয়। সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, “ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি দূর করতে সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।”

তবে হামাস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংগঠনটির দাবি, ইসরায়েল “নিজেদের অপরাধকে ন্যায্যতা দিতে তুচ্ছ অজুহাত তুলে ধরছে।” হামাস আরও বলেছে, সাম্প্রতিক হামলা যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর “গণহত্যা পুনরায় শুরু করার বিপজ্জনক উদ্দেশ্য” প্রমাণ করে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে আল জাজিরার আরেক প্রতিবেদক নুর ওদেহ বলেন, ইসরায়েল নিজেকে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে “বিচারক, জুরি ও জল্লাদ”—তিন ভূমিকাতেই প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার মতে, ইসরায়েল ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে হামাস যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করেছে কি না, এবং সে যুক্তিতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

এমন সময় হামলা চালানো হলো যখন লেবানন সীমান্তেও উত্তেজনা তীব্র হচ্ছে। এর আগের দিন দক্ষিণ লেবাননের একটি ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক ডজনের বেশি মানুষ নিহত হয়।

এই পরিস্থিতি তৈরি হলো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনা সমর্থন করে প্রস্তাব পাস করার পরপরই। প্রস্তাবে গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন এবং অঞ্চলটি পরিচালনায় একটি “শান্তির বোর্ড” প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলছে, হামাসের গাজার নিয়ন্ত্রণ ত্যাগ করা উচিত।

তবে হামাসসহ গাজার অন্যান্য ফিলিস্তিনি সংগঠন এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে। মানবাধিকার সংস্থা আল-হক সতর্ক করে বলেছে, এই প্রস্তাব ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।

(ঢাকাটাইমস/২০ নভেম্বর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
‘আর্থিক সংকটে চিকিৎসা হতো না’, সেনাবাহিনীর কল্যাণে দৃষ্টি ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত উপকারভোগীরা
নকল খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও অবৈধ তামার তার কারখানায় অভিযান, ৩ জনকে জরিমানা
সরকারি বাঙলা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রথম মিলনমেলা ১০ জুলাই
সচিবালয়ের পর এবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে চুরি, সিসিটিভিতে দেখা গেল সন্দেহভাজন ব্যক্তি
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা