একুশের চেতনায় শুরু হলো বাঙালির ফেব্রুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৮
অ- অ+

বাঙালির আবেগ, আত্মত্যাগ ও ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি আজ থেকে শুরু হয়েছে। এই মাসটি বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। ফেব্রুয়ারির আগমনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভাষা আন্দোলনের রক্তমাখা স্মৃতি ও মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ইতিহাস।

বাঙালির কাছে ফেব্রুয়ারি শুধুই একটি মাস নয়—এটি প্রতিবাদ, আত্মত্যাগ ও ভাষাভিত্তিক জাতিসত্তা অর্জনের প্রতীক। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকার রাজপথে জীবন উৎসর্গ করেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিকসহ অসংখ্য তরুণ। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাঙালির জাতীয় জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয় মাতৃভাষার অধিকার।

১৯৫২ থেকে ২০২৬—দীর্ঘ ৭৪ বছরের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলনের এ আত্মত্যাগ গোটা বাঙালি জাতিকে করেছে গৌরবান্বিত। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের সীমানা পেরিয়ে বাংলা ভাষা আজ বিশ্বদরবারে স্বীকৃত।

ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সারাদেশে শুরু হয় বিভিন্ন কর্মসূচি। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার ও শফিউরসহ ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে মাসজুড়ে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ভাষা আন্দোলনের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নেয়।

তবে এবছর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজানসহ বিভিন্ন কারণে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকে শুরু হচ্ছে না অমর একুশে গ্রন্থমেলা।

ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায় ১৯৯৯ সালে। ওই বছর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেসকো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল ও মুসলিম লিগের সভাপতি মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক জনসভায় ঘোষণা দেন—‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু, অন্য কোনো ভাষা নয়।’

এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলেও একই ঘোষণা দিলে শিক্ষার্থীরা ‘না, না’ বলে প্রতিবাদ জানান। এ ঘটনায় জিন্নাহ অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। শিক্ষার্থীরা পরে একটি স্মারকলিপির মাধ্যমে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানান। এখান থেকেই রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলন আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

১৯৪৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেয় ১৯৫২ সালে। আন্দোলন দমাতে সরকার ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তবে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ওই আদেশ অমান্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

মিছিলটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছাকাছি পৌঁছালে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। এতে শহীদ হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিকসহ আরও অনেকে। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই বাঙালি জাতির জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয় মাতৃভাষার মর্যাদা।

(ঢাকাটাইমস/১ ফেব্রুয়ারি/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজার: প্রত্যাশা বনাম প্রাপ্তি
কসবা-আখাউড়াকে মাদকমুক্ত করার ঘোষণা কবীর আহমেদ ভূইয়ার
জিয়াউর রহমানকে স্মরণের সর্বোত্তম উপায় তাঁর আদর্শ অনুসরণ : ড. মঈন খান
আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলকে ফাইনাল দেখতে চান বাংলাদেশের ক্রীড়ামন্ত্রী
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা