নির্বাচনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় আর্টিকেল নাইনটিনের ১৮ দফা নির্দেশনা

ঢাকা টাইমস ডেস্ক
  প্রকাশিত : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:৪০
অ- অ+

আর মাত্র চার দিন পর ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ। এদিন দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জুলাই সনদ গণভোট। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে সাংবাদিকেদের। নির্বাচন সামনে রেখে সাংবাদিক গণমাধ্যমের ওপর হুমকি, হামলা নির্যাতনের আশঙ্কা থেকে যায়।

এরই প্রেক্ষাপটে নির্বাচনকালীন সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল নাইনটিন (Article 19)।

বিভিন্ন অংশীজনের মতামত ও আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি এই নির্দেশিকায় আর্টিকেল নাইটিন জানায়, নির্বাচন সামনে রেখে সাংবাদিক গণমাধ্যমের ওপর হুমকি, হামলা নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে। অনেক সংবাদকর্মী শারীরিক হামলা, হয়রানি লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। বড় সংবাদমাধ্যমগুলোও সম্ভাব্য হামলা চাপের মুখে রয়েছে। ফলে ভোটের আগে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

উপরোক্ত প্রেক্ষাপটে, স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা, বিশেষ করে নির্বাচন সংক্রান্ত সংবাদ নিরপেক্ষভাবে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে ১৮টি নির্দেশনা তৈরি করেছে আর্টিকেল নাইনটিন, যা সংবাদমাধ্যম কর্তৃপক্ষ ও সাংবাদিকদের বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি।

নির্দেশনাগুলো নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো।

১. মিডিয়া হাউস এবং সাংবাদিকদের জানা দরকার যে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতিবাদ কভার করার সময় তাদের সুরক্ষা দেওয়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব।

২. সাংবাদিকদের কোথাও পাঠানোর আগে মিডিয়া হাউসকে অবশ্যই তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং ঝুঁকির সম্ভাবনার মূল্যায়ন করতে হবে। কোন প্রতিবেদক কোন জায়গায় যাবে এবং কে কোন বিষয়ে প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে ইত্যাদি বিষয়গুলো ঝুঁকি মূল্যায়নের আলোকে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সাংবাদিক এবং সম্পাদকীয় দলের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। সাংবাদিকদের হেলমেট, বুলেটপ্রুপ জ্যাকেটসহ যথাযথ নিরাপত্তা সরঞ্জাম দিতে হবে।

৩. নির্বাচন কভার করা সাংবাদিকদের অবশ্যই ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে। সমস্ত মিডিয়া হাউসকে তাদের হাউসের সাংবাদিকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে এবং যদি তা না করা সম্ভব হয় তবে অবশ্যই সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দেয় এমন সংস্থাগুলোর সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিতে হবে।

৪. ঝুঁকি, সম্ভাব্য বিক্ষোভকারীদের দ্বারা সহিংসতার সম্ভাবনা, পূর্বের আক্রমণাত্মক বিবৃতি, হুমকি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, এবং নিরাপত্তা রক্ষায় উপস্থিত পুলিশের সংখ্যা ইত্যাদি সম্পর্কে পূর্বজ্ঞান থাকতে হবে।

৫. হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত সাংবাদিকদের টিয়ার গ্যাস ব্যবহারের সম্ভাবনা আছে এমন এলাকা এড়িয়ে চলা উচিত। যেকোনো বিক্ষোভ কভার করার সময় কন্টাক্ট লেন্সের ব্যবহার পরিহার করা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, বায়ু চলাচলের সুযোগ কম এমন জায়গায় যদি প্রচুর পরিমাণে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করা হয়, তবে সেখানে গ্যাসের উচ্চ ঘনত্বের সম্ভাবনা রয়েছে যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

৬. নারী সাংবাদিক যদি গর্ভবতী হন তবে গর্ভাবস্থার পর্যায় অনুসারে শারীরিক মানসিক ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, দাঙ্গা হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে এমন বিক্ষোভ কভার করার জন্য গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে আছে এমন সাংবাদিককে পাঠানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

৭. দ্রুত চলাফেরা করা যায় এমন পোশাক এবং জুতা পরিধান করতে হবে। ঢিলেঢালা পোশাক, সহজেই ধরা যায় এবং যেকোনো দাহ্য পদার্থ (যেমন নাইলন) জাতীয় পোশাক, রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত রং বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত কোনো রংয়ের পোশাক পরিধান এড়িয়ে চলতে হবে।

৮. ভিড়ের মধ্যে কাজ করলে, একটি যথাযথ নিরাপত্তা কৌশল পরিকল্পনা করুন। ভিড়ের মাঝখানে যাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে এবং ভিড়ের বাইরে থেকে যথাসম্ভব কাজ করার চেষ্টা করতে হবে। একটি জরুরি এস্কেপ রুট ঠিক করে রাখা জরুরি, এবং একটি দলের সাথে কাজ করলে জরুরি মিটিং পয়েন্ট আগেই নির্ধারণ করে রাখতে হবে।

৯. সাংবাদিকদের নিজ চলাচল, অস্বাভাবিক নড়াচড়া এবং আশেপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে।

১০. ফটোসাংবাদিক এবং ক্যামেরাপার্সন সাধারণত বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি খেয়াল রাখার জন্য কাউকে রাখা উচিত। প্রতি কয়েক সেকেন্ডে তাদের ভিউফাইন্ডার দিয়ে চারপাশে নজর রাখা উচিত। শ্বাসরোধের ঝুঁকি এড়াতে গলায় ক্যামেরার স্ট্র্যাপ পরা যাবে না।

১১. সাংবাদিকের সাথে যদি কোনো বাহন থাকে তবে তা দ্রুত প্রস্থানের সুবিধাসহ দূরবর্তী এলাকায় পার্কিং করতে হবে।

১২. বিক্ষোভকারীরা এবং নিরাপত্তা বাহিনী যদি সাংবাদিকদের কোনে ডিভাইস বা ইকুইপমেন্ট দখল করতে চায় তবে কীভাবে তা রক্ষা করতে হবে তা সম্পর্কে ফিল্ডে যাওয়ার আগেই জেনে রাখতে হবে।

১৩. সাংবাদিকদের একসাথে কাজ করতে হবে, কাছাকাছি থাকতে হবে এবং নিজেদের মধ্যে ফোন বা অন্যান্য উপায়ে সর্বক্ষণ যোগাযোগ রাখতে হবে।

১৪. সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র সর্বদা সাথে দৃশ্যমান অবস্থায় রাখতে হবে। সাংবাদিক হিসেবে যাতে সহজেই শনাক্ত করা যায় এমন ভেস্ট পরিধান করতে হবে।

১৫. ব্যক্তিগত নথি, ঠিকানা বা ফোন নম্বর বুক, মূল্যবান জিনিস অধিক টাকা সাথে রাখা উচিত নয়।

১৬. অপরাধ অপরাধীদের ছবি প্রকাশ বা সম্প্রচারের সময় সব ধরনের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; যেমনভুক্তভোগীদের মুখ ঝাপসা করা এবং চলমান তদন্তকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে এমন সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ থেকে বিরত থাকা।

১৭. কোনো সাক্ষাৎকার নিতে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের কাছে সর্বদা প্রয়োজনীয় তথ্য থাকা প্রয়োজন। সাক্ষাৎকার প্রদানকারীর উদ্দেশ্য এবং যে বিষয়ের উপর সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে অথবা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে সে সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে রাখতে হবে। তথ্যের অভাব সর্বদা ম্যানিপুলেশনের ঝুঁকি বাড়ায়।

১৮. ডিভাইসে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড, এনক্রিপশন এবং ফায়ারওয়াল ব্যবহার করতে হবে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল নাইনটিন সবার জন্য মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং চিন্তার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাপী কাজ করে আসছে।

(ঢাকাটাইমস/৮ফেব্রুয়ারি/মোআ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
যুগপৎ আন্দোলনের শরিক নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময়
হজযাত্রীদের ব্যাকআপ আবাসন ১ শতাংশ বহাল রাখার অনুরোধ ধর্মমন্ত্রীর
ইউনিফর্ম পরে ভাইয়ের আ.লীগের মনোনয়নপত্র জমা: সেই অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসর
সেপ্টেম্বরের শুরুতেই থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চুক্তির সম্ভাবনা
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা