জনাব টি এস আইউব ভাইয়ের কাছে আমার প্রশ্ন

বাঘারপাড়ার একজন সিনিয়র নেতা হয়ে জনাব টি এস আইউব ভাই যশোর-৪ আসনের বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজীর মুখে ছাপ্পা দেয়া ছবি তার একপাশে আমার ছবি ও বাঘারপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল কবির বিশ্বাস অন্য পাশে এডভোকেট শিহাবের ছবি যুক্ত করে নিজের পেইড লোকজন দিয়ে ফেসবুকে উস্কানিমূলক পোস্ট দিচ্ছেন যা স্পষ্টত দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ ও ফৌজদারী অপরাধ। এমনকি তিনি নিজে কমেন্ট করে তার সন্ত্রাসীবাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিচ্ছেন। লোকমুখে শোনা যায় তিনি আমার উপর হামলা করা ও আমার গাড়ি ভাংচুর কারার জন্য মৌখিক নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন। এর আগেও তিনি এমন নির্দেশনা দিয়ে বাঘারপাড়ার প্রতিটি মোড়ে লোকজন সেট করে রেখেছিলেন। তিনি আমার পরিচিত একজনকে ফোনে বলেছিলেন সোহাগকে না মারলে আমার সমস্যা ওকে আমি শেষ করে দিতে চাই। তিনি বাঘারপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতির সন্তানকে ও যশোর জেলা ছাত্রদলের সহ সাধারণ সম্পাদক নাসিফ খান লিটনকে ঢাকার একটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যা মামলায় আসামির তালিকায় নাম ঢুকিয়ে দিয়েছেন। তিনি বাঘারপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল কবির বিশ্বাসকে মারার জন্য তার ছবি ঢাকায় একটি সন্ত্রাসীবাহিনীর কাছে সরবরাহ করে মারার কন্ট্রাক্ট দিয়েছিলেন। আমার উপর এত ক্ষিপ্ত হবার কারণ কি? কারণ একটি তিনি বাঘারপাড়া ও অভয়নগরে তথা যশোর-৪ উনি আনচ্যালেঞ্জড ছিলেন কিন্তু গত দেড় বছরে প্রায় সব চ্যালেঞ্জে হেরে গিয়েছেন। তিনি মনেপ্রানে বিশ্বাস করেন গত নির্বাচনে তিনি যে প্রার্থী হতে পারেননি সেটার জন্য মূলত আমি দায়ী। কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম এব্যাপারে আমার সাথে যোগাযোগ করেছে আমি তাদেরকে ইন্টারভিউ দিয়ে সবকিছু ক্লিয়ার করবো ইনশাআল্লাহ। তখন সবাই বুঝতে পারবেন কি কারণে তিনি নির্বাচন করতে পারেননি। এবং কেন তিনি ও তার স্ত্রী আগামী নির্বাচনও করতে পারবেননা সেটাও ক্লিয়ার হবে। গতবছর যুগান্তর সহ অনেক মিডিয়াতে তাকে ইংগিত করে বলেছিলাম যে কোন ঋন খেলাপি বা দুর্নীতির মামলা আছে এমন কেও দলের মনোনয়ন পাবেননা। কিন্তু প্রাথমিক মনোনয়নের আগে তিনি দলকে ভূল তথ্য দিয়ে মনোনয়ন বাগিয়েছিলেন। বড় ভাই এখন যা করছেন এটা করতে পারতেননা যদি মতিয়ার রহমান ফারাজী চাচা আমাদের পরামর্শ শুনতেন। আমাদের পরামর্শ ছিলো আইউব ভাইয়ের নিয়ন্ত্রণে বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপি সহ যে সকল কমিটি আছে তাদেরকে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে যদি দলের প্রার্থীর কথা না শুনে উনাদের বসের কথামতো চলে সেগুলোকে বিলুপ্ত করে নির্বাচনকালীন সমন্বয় কমিটি করে নির্বাচন করা। তিনি যদি এই পরামর্শ শুনতেন আজ নির্বাচনের ফলাফল ভিন্ন হতো। প্রার্থীতা বাতিল হবার পরেও উনি একদিকে আদালতে অহেতুক দৌড়াদৌড়ি করে নির্বাচনের বারোটা বাজিয়েছেন। অন্যদিকে ব্যাংকের ঋণের টাকা পরিশোধ করার কথা বলে
বাঘারপাড়া ও অভয়নগরের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে ও ভিন্ন দলের নেতা ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করছিলেন। কিন্তু ব্যাংকে কোন টাকা তিনি দেননি। ফলে উনার প্রার্থীতা ফিরে পাবার কোন সুযোগ ছিলোনা সবই ছিলো রাজনৈতিক চাল। মতিয়ার রহমান ফারাজী, আমি, এডভোকেট শিহাব ও ইকবাল কবির বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগের ফলে বাঘারপাড়া ও অভয়নগরের নেতৃবৃন্দের কমপক্ষে ৫ কোটি টাকা খোয়া যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে।
জনাব টি এস আইউব ভাইয়ের কাছে আমার প্রশ্ন:
১।আপনি যে ৩৬ লাখ ডলারের এলসি জালিয়াতি করে বিদেশে অর্থ পাচার করেছিলেন সেটা কি আমার পরামর্শে করেছিলেন?
২।আপনার নামে যে দুদকের মানি লন্ডারিংয়ের মামলা হলো তার বাদি কি আমি বা আমি কি মামলাটা দিয়েছি?
৩।আপনার নামে যে অর্থঋণ আদালতের মামলা হয়েছে সেটা কি আমি দিয়েছি?
৪।আপনার নাম যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণখেলাপীদের তালিকায় সেটা কি আমি দিয়েছি?
৫।আপনি যে অন্যের জমি নিজের দেখিয়ে জনতা ব্যাংক থেকে ঋন নিয়েছেন এবং তারা মামলা করেছে সেটা কি আমি করিয়েছি?
৬।এসকল অভিযোগ সহ নানা কারণে আপনার মনোনয়ন পরিবর্তন করে আমাকে বা অন্য কাওকে মনোনয়ন দেয়ার আবেদন করে দলের হাইকমান্ডের কাছে আমি কি কোন দরখাস্ত দিয়েছিলাম।
৭।আপনি প্রাথমিক মনোনয়ন পাবার পরে আপনার বিরুদ্ধে কি সোস্যাল মিডিয়া বা গণমাধ্যমে কোন মন্তব্য করেছিলাম?
হ্যা আপনি আমাকে না জানিয়ে এক মামলার কাগজ দিয়ে অন্য মামলায় একটা আদেশ নিয়েছিলেন যেটা ব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণখেলাপিদের তালিকা থেকে নিজের নাম বাদ দিয়েছিলেন। পরে ঢাকা ব্যাংক জানতে পেরে আপীল বিভাগে সেই আদেশের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ পায় ফলে আপনি ঋণখেলাপী থেকে যান। আমার কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন ফেসে যাবার পরে এবং সেটি ছিলো অনৈতিক সাহায্যের আবেদন যা আমার দ্বারা সম্ভব না।তারপরও আপনি যেন ভুল না বোঝেন সে জন্য আপনার মেসেজ আমি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পৌছে দিয়েছিলাম। এমনকি আপনাকেও নিয়ে গিয়েছিলাম সেখানে গিয়ে আমি যে পরামর্শ দিয়েছিলাম সেটাই পেয়েছিলেন যে ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করাই হচ্ছে একমাত্র উপায়।
দলের প্রার্থীকে নাকানিচুবানি দিয়ে যশোর-৪ আসনকে জামাতের হাতে তুলে দেবার মূল কারিগর কে সেটা বাঘারপাড়া অভয়নগর ও বসুন্দিয়ার সাধারণ মানুষ পর্যন্ত জানে।
দয়া করে হুমকি ধামকি দিবেননা মহান আল্লাহ ছাড়া কাওকে পরোয়া করিনা শেখ হাসিনার সন্ত্রাসীবাহিনীকে বহুবার প্রতিহত করেছি, শেখ হাসিনার পেটুয়া বাহিনীকে পরোয়া করিনাই।
সর্বশেষ যে আন্দোলনে শেখ হাসিনার পতন হয়েছে সেই আন্দোলনে আমি যখন আর্মি, পুলিশ, বিজিবির বুলেট উপেক্ষা রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছি তখন আপনি ব্যক্তিগত দুর্নীতির মামলায় স্ত্রী সহ কারাগারে ছিলেন এবং আমাদের মত রাজপথের কর্মিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে আদালতকে ভূল বুঝিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক নেতার পরিচয়ে জামিন পেয়েছেন।আর আজ সেই আমার বিরুদ্ধে কিনা আপনি সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিচ্ছেন নিজে সরাসরি ফেসবুক কমেন্টে হুমকি দিচ্ছেন।
আপনার এমন আচরণে সেই রূপনগর নাটকের বিখ্যাত ডাইলগটা মনে পড়ে গেল:
ছি ছি ছি তুমি এত খারাপ।(ঢাকাটাইমস/২৩ ফেব্রুয়ারি/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































