নতুন রাজনীতিকদের নিয়ে হতাশা প্রকাশ পুলিশ কর্মকর্তার

পলিটিক্সে Neophyte লোকেরা সর্বোচ্চ জায়গায় গেলে পরিবর্তন এর পরিবর্তে স্টান্টবাজি বেশি করে। একজন এমপি যখন কোন সভায় থানার অমুক দারোগা এবং অমুক এএসআই এর নাম উল্লেখ করে দুর্নীতির কথিত অভিযোগ তুলে যখন ব্যক্তি চরিত্রহরণ করেন তখন বুঝতে হবে এমপি সাহেব দুর্নীতির বড় চিত্রটাই দেখেনি। কোন দালিলিক সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়া শুধুমাত্র জনশ্রুতি নিয়ে কারো পেশাগত জীবনের আত্মসম্মানে আঘাত করা খুবই নিচু মন-মানসিকতার প্রকাশ। একজন এমপি সাহেব হিউম্যান রাইটস, পাবলিক পলিসি, রুল অফ ল ইত্যাদি জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা বৃহত্তর সমস্যাগুলো চিহ্নিত করবেন। পার্লামেন্টের তার প্রজ্ঞা দিয়ে এই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বক্তব্য দিবেন এটাই জাতি আশা করে। স্ট্রাকচারাল রিফর্ম করা যায় এটা এটা নিয়ে আলোচনা করবেন। সরকারের নীতির পক্ষে-বিপক্ষে জনস্বার্থে সমালোচনা করবেন। বিভিন্ন জনসভায় এবং আলোচনা সভায় তার প্রজ্ঞা দিয়ে জনমত সৃষ্টি করবেন। কিন্তু বাস্তবে এগুলো কিছুই দেখা যাচ্ছে না।
জুলাই বিপ্লবের অনেক তরুণ রাজনীতিতে এসেছে। অনেক নতুন রাজনীতিক দল আবির্ভূত হয়েছে। হাতেগোনা দুই একজন ছাড়া সবগুলাই দুর্নীতি এবং স্বজনপ্রীতিতে জড়িয়ে গেছে। এসব নতুন রাজনীতিক দল জেলা উপজেলা পর্যায়ে নিজেদের কর্মীদের দালালি, বাটপারি এবং দুর্নীতির কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনা। সাবেক ছাত্র উপদেষ্টারা হঠাৎ করে তাদের ট্যাক্স ফাইলে কোটি টাকা সম্পদ বিবরণ দেখায় তখন বুঝতে হবে দলীয় রাজনীতির গুণগত কোন পরিবর্তন হয়নি। যেখানে নিজেরাই দলের দুর্নীতিবাজ নেতাদেরকে কন্ট্রোল করতে পারেনা এবং দল থেকে বহিষ্কার করতে পারে না সেখানে অমুক কনস্টেবল অমুক এএসআই এবং অমুক সাব-ইন্সপেক্টর এর ব্যক্তি চরিত্রহরণ করা অমূলক। নিজের দলের লোকদেরকে সিরাতুল মুস্তাকিম এর মত সোজা করতে পারেনা বড় বড় লেকচার দেয়।
একজন সরকারি কর্মচারী সপ্তাহে কয় ঘণ্টা কাজ করতে পারে? নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টার বাহিরে অতিরিক্ত কাজ করলে তিনি যথাযথ আর্থিক সুবিধা প্রাপ্ত হচ্ছেন এই প্রশ্নের উত্তর কি কখনো নিয়েছেন? সেই কর্মচারী সাপ্তাহিক ছুটি ভোগ করেছেন কিনা সেই প্রশ্নের উত্তর কি তিনি নিয়েছেন কিনা? প্রত্যহিক ৮ ঘণ্টার পরিবর্তে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত যারা সরকারি অফিসের সময় ব্যয় করেন তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক আছে কিনা এই প্রশ্ন তিনি কি করেছেন? বর্তমান বাজার এবং ইনফ্লেশন সিনারিওতে ওই কর্মচারী সত্যিকার অর্থেই ভালো আছেন কিনা এই প্রশ্ন তিনি কি করেছেন? মহামান্য মহোদয়ের কাছে এইসব কিছুর কোন মূল্য নাই। মিটিংয়ে একটু স্টানবাজি করলে পাবলিকের তালি পাওয়া যাবে এবং ভোট পাওয়া যাবে এটাই তো এদের পলিটিকাল এমবিশন। সস্তা বিনোদন আর স্টান্ডবাজি দিয়ে এমপি হওয়া যায়। স্টান্টবাজি দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না।
লেখক: বিসিএস (পুলিশ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































