‘ছোট্ট একটা কাজে হাজারো ইচ্ছেপূরণ করতে পারবে তুমিও’, ইতিবাচকতা ছড়িয়ে দিতে রবির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

দেশের অন্যতম মোবাইল ফোন অপারেটর রবি তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ‘ছোট্ট একটা কাজে হাজারো ইচ্ছেপূরণ করতে পারবে তুমিও’ শীর্ষক ক্যাম্পেইনের আওতায় ইতিবাচকতা ছড়িয়ে দিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। ক্যাম্পেইনের মূল ভাবনা ছিল, সঠিক সময়ে করা ছোট্ট একটি কাজও হাজারো মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। রবি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে।
এই পবিত্র রমজান মাসে রবি নিয়েছিল একটি ছোট্ট উদ্যোগ। আর সেই ছোট্ট উদ্যোগই প্রমাণ করল, একটুখানি যত্নই পারে হাজারো মানুষের ইচ্ছা পূরণ করতে। বাংলাদেশে রমজান মাস এলে প্রতিদিনের ছন্দটা বদলে যায়। ভোর হয় আরও আগে, সন্ধ্যা নামে একটু ধীরে আর মানুষ হয়ে ওঠে আশপাশের মানুষের প্রতি আরও সচেতন। এই মাস মনে করিয়ে দেয় নিজের বাইরেও একটা পৃথিবী আছে, যেখানে অন্যদের কথা ভাবার সময় এসেছে।
আর একই সঙ্গে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পক্ষ থেকে দেখা যায় রমজানের দর্শনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নির্মিত হৃদয়ছোঁয়া সব বিজ্ঞাপন। তবে এবার রমজানের শুরুতেই রবি নিয়ে আসে একটা ভিন্ন ভাবনা—ছোট্ট একটা কাজে হাজারো ইচ্ছেপূরণ। প্রচলিত বিজ্ঞাপনের বদলে রবি সময় আর শ্রমটুকু ঢেলে দেয় সত্যিকারের কিছু কাজে, যা চারপাশের মানুষ আর সমাজে জন্য বয়ে আনতে পারে ইতিবাচকতা।
ধারণাটা ছিল সহজ, সঠিক সময়ে করা একটা ছোট কাজই পারে কারও জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে। আর এসব ছোট ছোট উদ্যোগ অনুপ্রাণিত করতে পারে আরও ছোট ছোট উদ্যোগকে, যা সামষ্টিকভাবে রাখতে পারে বিরাট অবদান। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে এই ছোট ছোট কাজগুলো বাস্তবে রূপ দিয়েছে রবি।
ঢাকা ও চট্টগ্রামে ইফতারের ঠিক আগমুহূর্তে যানজটে আটকে পড়া পথচারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল খেজুর ও পানি। সারা দিন রোজা রেখে দীর্ঘ কর্মব্যস্ত দিনের পর যাঁরা বাসায় ফেরার পথে ছিলেন, এই ছোট্ট উপহারটুকুই তাঁদের জন্য বয়ে আনে বিরাট স্বস্তি।
ভালো কাজের হোটেল—যাঁরা সমাজের অসহায় মানুষের জন্য ভালো কাজের বিনিময়ে খাদ্যের ব্যবস্থা করে থাকেন, তাঁদের এই উদ্যোগের পাশেও দাঁড়ায় রবি। ভালো কাজের হোটেল–এর উদ্যোগকে আরও বড় করে তুলতে রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিকসহ সমাজের দরিদ্র শ্রেণির মানুষের জন্য ইফতার আয়োজনে রবি তাঁদের সহযোগী হয়।
পাশাপাশি ঢাকায় বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা যেসব শিশু বেশির ভাগ সময় হাসপাতালেই কাটায়, তাদের জন্য রবি তৈরি করে একটি ‘প্লে জোন’। শিশুদের হাসি আর আনন্দে বদলে যায় হাসপাতালের পরিবেশ।
অন্যদিকে চাঁদপুরে একটি এতিমখানায় পরিবারহীন শিশুদের হাতে রবি তুলে দেয় ঈদের নতুন পোশাক আর উপহার। যাঁদের উদ্যাপন করার মতো পরিবার নেই, তাঁদের জন্য এই সামান্য আয়োজনই ঈদের উপলক্ষকে করে অনেক আনন্দের।
সিলেটের মুরাইছড়া চা–বাগানে স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক সাগর তির্কীর পরিচালিত একটি ছোট্ট স্কুলে রবি পাঠিয়েছে বই, স্কুলব্যাগ, খেলার সরঞ্জাম একটি স্মার্ট টিভি আর ইন্টারনেট সংযোগ। প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া স্কুলটিকে একাই বাঁচিয়ে তোলেন সাগর তির্কী। তার ‘হার না মানা’ সংগ্রামের সঙ্গে দাঁড়িয়ে রবি এই স্কুলের শিশুদের জন্য দিয়েছে স্বপ্ন দেখার নতুন সাহস।
উদ্যোগগুলোর লক্ষ্য ছিল পরিবর্তন, গতানুগতিক দৃষ্টি আকর্ষণ নয়। প্রতিটি কাজই হয়তো ছোট ছিল। কিন্তু একসঙ্গে এই কাজগুলো পৌঁছে গিয়েছিল সেসব মানুষদের কাছে, যাঁদের সত্যিই এই সাহায্যটুকু দরকার ছিল। ছোট ছোট এই কাজগুলো আরও হাজারটা ছোট ছোট কাজকে অনুপ্রাণিতও করেছে। এটাই ছিল ‘ছোট্ট একটা কাজে হাজারো ইচ্ছা পূরণ’-এর মূল চেতনা।
(ঢাকাটাইমস/১৮ মার্চ/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































