সান্তাহার ট্রেন দুর্ঘটনায় তদন্ত কমিটি, দায়িত্বে অবহেলায় সহকারী স্টেশন মাস্টার বরখাস্ত

বগুড়ার সান্তাহারে চালকের সিগন্যাল অমান্য করার জেরে ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে সান্তাহার স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে আজ বুধবার দুপুরে সান্তাহার জংশন স্টেশনের অদূরে বাগবাড়ী এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ট্রেনের ছাদে ও ভেতরে থাকা অন্তত শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর থেকে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেলযোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেসটি দুপুর ২টার দিকে সান্তাহার স্টেশনের নিকটবর্তী বাগবাড়ী দক্ষিণ পাড়া এলাকায় পৌঁছালে এই বিপত্তি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ওই স্থানে রেললাইনে সংস্কার কাজ চলছিল এবং নিয়ম অনুযায়ী লাল পতাকা ও সিগন্যাল দেওয়া ছিল। কিন্তু ট্রেনের চালক সব ধরনের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে দ্রুতগতিতে সংস্কারাধীন লাইনের ওপর ট্রেনটি তুলে দিলে পাওয়ার কারসহ ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় আদমদীঘি ও নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নওগাঁ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মহসিন জানান, হাসপাতালে আসা ৫০ জনেরও বেশি রোগীর মধ্যে অন্তত ২০ জনের অবস্থা গুরুতর; যাদের হাত-পা ভেঙে যাওয়া বা মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
সান্তাহার জংশন স্টেশনের ওয়েম্যান সোহেল অভিযোগ করে বলেন, লাইনে লাল ব্যানার ও সিগন্যাল থাকা সত্ত্বেও চালক তা মানেননি। এমনকি আমাদের হাতের ইশারাও তোয়াক্কা করা হয়নি।
সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। বর্তমানে লাইন সচল করার প্রক্রিয়া চলছে। তবে দুর্ঘটনাকবলিত বগিগুলো উদ্ধার করতে আরও সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































