দেশে
অকটেন-পেট্রোলের মজুত ফুরাচ্ছে, আর কত দিন চলবে?

আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অকটেন ও পেট্রোলের মজুত দ্রুত কমে আসায় নতুন করে সংকটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কমে যাওয়া এবং বাজারে কারসাজির অভিযোগ সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে মোট জ্বালানি তেলের মজুত সক্ষমতা প্রায় ৪৫ দিনের হলেও বাস্তবে বিভিন্ন জ্বালানির মজুত দ্রুত কমে আসছে। বিশেষ করে অকটেনের মজুত নেমে এসেছে প্রায় ৯ হাজার ৮০০ টনে, যা বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী মাত্র ৮ দিন চলবে। একইভাবে পেট্রোলের মজুত রয়েছে প্রায় ১৬ হাজার টন, যা দিয়ে ১১ দিনের বেশি চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়।
চলতি মার্চ মাসে অকটেন ও পেট্রোলের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অথচ সরবরাহ সেই হারে বাড়েনি। ফলে দেশের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ সংকট দেখা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
বাংলাদেশ বছরে গড়ে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করে। এর একটি অংশ অপরিশোধিত তেল হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে এবং বাকিটা পরিশোধিত তেল হিসেবে ভারত ও চীন থেকে আমদানি করা হয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এই সরবরাহ ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কারণ, ভারত ও চীনের অনেক রিফাইনারি তুলনামূলক কম দামে ইরান থেকে তেল সংগ্রহ করে থাকে। সেখানে সরবরাহ ব্যাহত হলে বাংলাদেশের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
পেট্রোল ও অকটেনের একটি বড় অংশ দেশে উৎপাদিত হলেও এর প্রধান উৎস কনডেনসেট। এটি প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনের সময় উপজাত হিসেবে পাওয়া যায়। কিন্তু গত এক বছরে দেশে গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় কনডেনসেট উৎপাদনও কমেছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাস উৎপাদন প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে গেছে। ফলে কনডেনসেট উৎপাদন কমে যাওয়ায় পেট্রোল ও অকটেনের উৎপাদনেও প্রভাব পড়েছে।
এদিকে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগও উঠেছে। পেট্রোল পাম্প মালিকদের দাবি, ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পাচ্ছেন না তারা। তাদের অভিযোগ, জ্বালানির সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির আশায় কিছু বেসরকারি পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাজারে কঠোর নজরদারি জরুরি। কেউ মজুতদারি বা কারসাজি করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বিপিসির কর্মকর্তারা বলছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা চলছে। তবে সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেশি তেল না কিনতে অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
এদিকে পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম অভিযোগ করেছেন, ডিপো থেকে পাম্পগুলো চাহিদামতো জ্বালানি পাচ্ছে না, ফলে বাজারে সংকট তীব্র হচ্ছে। তার দাবি, পেট্রোল ও অকটেন যেহেতু দেশেই উৎপাদিত তাই স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এমন ঘাটতির কোনো কারণ নেই।
সাজ্জাদুল করিম বলেন, সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নিতে কিছু বেসরকারি কনডেনসেট রিফাইনারি ইউনিট সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেইনও। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত মুনাফার আশায় কোনো কোনো পক্ষ মজুতদারিতে জড়াতে পারে, যা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এ পরিস্থিতিতে বাজারে কঠোর নজরদারি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































