বোয়ালমারীতে ঋণগ্রস্ত স্বর্ণ ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে চলন্ত ট্রেনের সামনে দাঁড়িয়ে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী আত্মহত্যা করেছেন। মৃত স্ত্রী ও সন্তানের ছবি বুকে নিয়ে আত্মাহুতি দেন ঋণগ্রস্ত এই ব্যবসায়ী।
রোববার (৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত নয়টার দিকে উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের সাতৈর রেল কর্মচারী কোয়ার্টার সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আত্মহত্যাকারী বিকাশ চন্দ্র কর্মকার (৪৭) উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের কামারহাটি বড়নগর গ্রামের মৃত নিতাই চন্দ্র কর্মকারের ছেলে। তিনি সাতৈর বাজারে জুয়েলারি ব্যবসা করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে আটটার দিকে তাকে একটি ব্যাগ ঘাড়ে করে সাতৈর রেলস্টেশনের আশপাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা গোপালগঞ্জের গোবরাগামী টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস সাতৈর রেলস্টেশন অতিক্রম করার সময় ট্রেনটি কাছাকাছি হলে তিনি দৌড়ে গিয়ে ট্রেনের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন। এ সময় চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় তিনি ২০-৩০ ফুট দূরে রেললাইনের ওপর ছিটকে পড়েন ও ট্রেনের চাকায় কাটা পড়েন।
সাতৈর রেলওয়ের ওয়েম্যান মো. রাসেল বলেন, ‘বিকাশ চন্দ্র কর্মকার আমার সামনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। ট্রেন আসার শব্দ পেয়ে আমি রেললাইন ছেড়ে সরে আসি। হঠাৎ বিকাশ কর্মকার রেললাইনে দুহাত তুলে দাঁড়িয়ে পড়েন।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে বিকাশ কর্মকারের স্ত্রী লক্ষ্মী রানী কর্মকার মারা যান। তারপর থেকে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং ব্যবসায় ঋণগ্রস্ত হয়ে এলাকা ছেড়ে নিরুদ্দিষ্ট ছিলেন। ঘটনার ১ দিন আগে তিনি বাড়ি এলে পাওনাদারদের চাপের মুখে পড়েন।’
আলী আকবর আকাশ নামে এক যুবক বলেন, ‘আমরা প্লাটফর্মে বসে মোবাইলে গেম খেলছিলাম। বিকাশ কর্মকার আমাদের পাশ দিয়ে হেঁটে যান এবং ট্রেন আসতে দেখে রেললাইনের মাঝে দাঁড়িয়ে পড়েন। আমরা চিৎকার করলেও তিনি কর্ণপাত করেননি। মুহূর্তের মধ্যে তাকে ধাক্কা দেয় ট্রেনটি। এতে তার মাথাসহ শরীর থেঁতলে গেছে। চেনার কোনো উপায় ছিল না। তার পকেট থেকে ভোটার আইডি কার্ড ও তার মৃত স্ত্রী ও ছেলের ছবি পেয়ে তাকে শনাক্ত করা গেছে।’
বিকাশ কর্মকারের ছোট ভাই বলেন, ‘প্রায় ৫ বছর আগে দাদা বৌদির মৃত্যুর পর ঋণগ্রস্ত হয়ে ব্যবসা ছেড়ে নিরুদ্দিষ্ট হন। শুনেছি ঢাকায় চাকরি করতেন। তবে আমাদের সাথে যোগাযোগ ছিল না। এক সপ্তাহ আগে বোনের বাড়িতে আসেন পৈতৃক জমি বিক্রির উদ্দেশ্যে। পরে বাড়িতে এলে দেনাদাররা তাকে চাপ সৃষ্টি করেন বলে শুনেছি। এসব কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।’
স্থানীয় নাছিম ফকির জানান, বিকাশ কর্মকারের পকেট থেকে তার ভোটার আইডি কার্ড ও তার মৃত স্ত্রী ও ছেলের ছবি উদ্ধার করা হয়।
সাতৈর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাফিউল আলম মিন্টু বলেন, ‘ বিকাশ কর্মকার সাতৈর বাজারের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। শুনেছি মানসিক হতাশা ও ঋণের বোঝা বইতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন তিনি। আমরা এমন মৃত্যু প্রত্যাশিত করি না।’
বোয়ালমারী থানার পুলিশের উপপরিদর্শক শফিউল আলম বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছি। রাজবাড়ি রেলওয়ে পুলিশ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।’
(ঢাকাটাইমস/৬এপ্রিল/মোআ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































